নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » বেদনার নাম তালছড়ি পাহাড় !

বেদনার নাম তালছড়ি পাহাড় !

dighinala(khagrachari)-pictখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রতিবছর বন্যা সৃষ্টির একমাত্র কারণ তালছড়ি পাহাড়। তালছড়ির পাহাড়টি মাইনী নদীর পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে প্রতিবছর অকাল বন্যা সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী এবং কয়েক শত চাষি। ছোট মেরুং বাজার থেকে নদী পথে চার কিলোমিটার দূরে এই তালছড়ি পাহাড়টির অবস্থান। বিগত সরকারের আমলে একবার তালছড়ি পাহাড়টি কেটে মাইনী নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে আর সম্ভব হয়নি।

গত বছরও অকাল বন্যার কারণে মেরুং এলাকার ৮টি কৃষি ব্লকে ধানের ক্ষতি হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। সরেজমিন তালছড়ি পাহাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,তালছড়ি পাহাড়টি নদীর পানি প্রবাহের গতি পথকে আঁকা বাঁকা করে ইংরেজি বর্ণ এস এর মতো করে রেখেছে। ভারত থেকে মাইনী নদী দিয়ে নেমে আসা উজানের পানি প্রথমে পাহাড়টিতে ধাক্কা খায় এবং পানির গতিপথ পরিবর্তন করে। পাহাড়টির কারণে নদীর সামনের অংশ দেখা যায় না। পাহাড়টিতে ধাক্কা খাওয়ার কারণে পানির গতিপথ পরিবর্তনে দেরি হয়, ফলে উজানের অংশে পানি জমে বন্যার সৃষ্টি হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চাষাবাদের জন্য মেরুং এলাকাটি বিখ্যাত। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ২২টি কৃষি ব্লকের মধ্যে ৮টি কৃষি ব্লক মেরুং ইউনিয়নে। গত বছর অকাল বন্যায় মেরুং ইউনিয়নের ৮টি কৃষি ব্লকে ১ হাজার ৫৯৭ জন কৃষকের ৪শ ৩৪ হেক্টের জমির ধান সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হয়েছে। সবজি নষ্ট হয়েছে ৬০ হেক্টর জমির আর ফলের জমির নষ্ট হয়েছে ২৫ হেক্টর জমির। তাঁর মধ্যে রেংক্যার্যা কৃষি ব্লকের ১৩০ জন কৃষকের ৩১ হেক্টর,হাজাছাড়া কৃষি ব্লকের ৩৩৪ জন কৃষকের ১২০ হেক্টর,গুলছড়ি কৃষি ব্লকের ১২২ জন কৃষকের ৪২ হেক্টর,ছোট মেরুং কৃষি ব্লকের ৩৮৫ জন কৃষকের ৯৫ হেক্টর,বড় মেরুং কৃষি ব্লকের ৪০৯ জন কৃষকের ৯০ হেক্টর,বেতছড়ি কৃষি ব্লকের ১৫১ জন কৃষকের ৪০ হেক্টর,রশিক নগর কৃষি ব্লকের ৮৩ জন কৃষকের ১৪ হেক্টর ও লম্বাছড়া কৃষি ব্লকের ১০ জন কৃষকের ২ হেক্টর জমির আমন ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা।

মেরুং এলাকার শান্তিময় চাকমা,তাজুল ইসলাম,মো.শাহজাহান,জ্ঞান চাকমাসহ চাষী ও ব্যবসায়ীরা জানান,আমাদের দুঃখ তালছড়ি পাহাড়। এ পাহাড়টির কারণে প্রতিবছর আমাদের সম্পদহানী হয়। আমরা অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছি। পাহাড়টি যদি পানির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতো তাহলে আমাদের আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতো হতনা।

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বলেন,প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই সবাই আতঙ্কে থাকি এই বুঝি বাড়িঘর,ফসলী জমি ডুবে গেলো। বন্যার হওয়ার প্রধানতম কারণ তালছড়ি পাহাড়। এ পাহাড়টি পানি না আটকালে আমাদের এখানে বন্যা হতো না।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন,তালছড়ি পাহাড়ের পানি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির স্থান দেখিয়ে বলেন,বৃষ্টির পর উজানের পানি নামলে তালছড়ি এলাকা দিয়ে নৌচলাচল করতে পারে না। বিপদজ্জনক আকার ধারণ করে। পাহাড়টিতে পানি এসে ধাক্কা খাওয়ার পর বিকট শব্দ হয়। গত সরকারের আমলে পাহাড়টি কেটে পানি গতিপথ পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পাহাড়টি পর্যন্ত সড়কও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় আর পানির গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তালছড়ি পাহাড়ের কারণে প্রতিবছরই কয়েকশ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়,মেরুং বাজার প্রতিবছর পানিতে তলিয়ে যায়,ব্যবসায়িরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাহাড়টি কেটে পানির গতিপথ পরিবর্তন করতে পারলে দীঘিনালায় আর বন্যা সৃষ্টি হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন,আমি সরেজমিনে তালছড়ি পাহাড়টি দেখেছি। পাহাড়টি কেটে পানির গতিপথ পরিবর্তন করলে পানি চলাচলে আর প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। তবে এ কাজটি করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি আলোচনা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply