নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বৃহস্পতিবার সাংবাদিক শৈলেন দে’র শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক শৈলেন দে’র শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান

Soilen-daaaaবৃহস্পতিবার সাংবাদিক শৈলেন দে’র শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। দেবাশীষ নগরের নিজ বাড়িতে তাঁর পরিবার আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গত ৯ এপ্রিল তিনি পরলোকগমন করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক শৈলেন দের দেবাশীষ নগরের নিজ বাড়িতে সকাল দশটায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর একমাত্র পুত্র সৌরভ দে তাঁর ক্রিয়ানুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন। এরপর অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল আকস্মিকভাবে পরলোকগমন করেন রাঙামাটির প্রতিভাবান সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কবি শৈলেন দে। প্রতিভাবান এই নির্লোভী সাংবাদিক আজীবন সাংবাদিকতা করে গেলেও বৈষয়িক স্বার্থ চিন্তায় তিনি ছিলেন একেবারেই উদাসীন। মানুষ মানবতা এবং পাহাড়ে সামাজিক অবস্থার ওপর কাজ করাই তার একমাত্র নেশা এবং পেশা ছিল। তিনি মানব সৃষ্টির ইতিহাস, উপমহাদেশে সভ্যতার বিকাশ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক বিকাশ-ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে তিনি প্রচুর গবেষণা করেন। হেঁটে বেড়িয়েছেন পাহাড়ের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। গবেষণার বিষয়ে তাঁর একাধিক পান্ডুলিপি ছাপার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি পাহাড়ের ১১টি জাতিসত্তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর গবেষণা করে ১১টি পৃথক বইয়ের একটি সেট প্রকাশ করেন। পাহাড়ের বেসরকারি সংস্থা কপোসেবা সংঘের উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বের হওয়া এই প্রকাশনাটি পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির জন্য একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটি জেলার আলোচিত শহীদ মনোরঞ্জন দে এর জ্যেষ্ঠপুত্র শৈলেন দে ৮০র দশকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পেশাগত জীবনে তিনি যেমন ছিলেন আন্তরিক ও দক্ষ, তেমনি পেশার উন্নয়ন এবং নীতির প্রয়োগে তিনি ছিলেন একজন অটল ও দৃঢ়চেতা সাংবাদিক। তিনি দৈনিক আজাদী ও ভোরের কাগজের রাঙামাটি প্রতিনিধি হিসেবে র্দীঘসময় কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া দৈনিক গিরিদর্পণ, সাপ্তাহিক বনভূমি এবং দৈনিক রাঙামাটিতে তিনি তার পেশাগত জীবনের অধিকাংশ সময় বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সর্বশেষ দৈনিক রাঙামাটির বার্তা সম্পাদক পদে ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি পাহাড়ের বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় গবেষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পাহাড়ে বহ সাংবাদিকের গুরু শৈলেন দে, সমাজ দর্শন এবং সাংবাদিকতা বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও পড়াশুনা করতেন। মুক্তিযুদ্ধে অকালে বাবাকে হারানো শৈলেন দে পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অল্প বয়সেই সংসারের ঘানি ঘাড়ে তুলে নিতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সে সুযোগ না হলেও তিনি নিজ প্রচেষ্টায় সাহিত্য, সাংবাদিক, সমাজ, দর্শন এবং ধর্ম বিষয়ে কল্পনাতীত বুৎপত্তি অর্জন করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়লেন অমর-পূর্ণিমা

আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সির পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল …

Leave a Reply