বৃষ্টিবন্দী পাহাড়িয়া শহর বান্দরবান

bonna-01টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যায় প্রায় দু’সহস্রাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। জেলার চার উপজেলায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বরদুয়ারা’সহ কয়েকটি স্থানে প্রধান সড়ক ৪.৫ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়দিনের মত বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় বান্দরবানের রুমা, থানছি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায়ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুকিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত চারদিন ধরে (গত সোমবার থেকে) বান্দরবানে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বরদুয়ারা, কলঘর এলাকা’সহ কয়েকটি স্থানে সড়কের ওপরে ৪.৫ ফুট পানির জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সড়কের দু’পাড়ে আটকা পড়েছে অসংখ্য যানবাহন। বাড়তি ভাড়া দিয়ে সড়কে পানির ওপর দিয়ে নৌকা এবং ভ্যান গাড়ীতে করে যাত্রী পারাপার করছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। তলিয়ে যাওয়া সড়কে স্থানীয়দের জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।bonna-02

স্থানীয় বাসিন্দার সৈয়দ হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি এবং মৎস্য খামার ডুবে গেছে। একারণে সড়কের ওপরে জাল দিয়ে মাছ শিকারে বেড়িয়েছি। আমার মত আরো ২০/২৫ জন লোক জাল মেরে মাছ ধরছে। এদিকে টানা বর্ষণে বান্দরবানের আর্মীপাড়া, ওয়াবদাব্রীজ, শেরেবাংলা নগর, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর’সহ আশপাশের এলাকা এবং লামা উপজেলার স্টেশনপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, টিএন্ডটিপাড়া, মারমাপাড়া, মধুঝিড়ি, আলীকদম উপজেলার পানবাজারপাড়া, ছাগলখাইয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি, আষাঢ়তলী, লেম্বুছড়ি এলাকায় প্রায় দু’সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অঞ্চলে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্লাবিত এলাকার মানুষরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রুমা, থানছি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় লামা, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অপরদিকে অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী দুটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ৭/৮টি ঘরবাড়ি পানির ¯্রােতে ভেঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী নি¤œআয়ের খেটে খাওয়া লোকেরা নিরাপদ স্থানে সরে গেছে।
স্থানীয় অধিবাসী আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ সীপন জানালেন, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছি। দুপুরে জেলা শহরের বন্যায় প্লাবিত এলাকা এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শণ করেছে জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী’সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকতারা।bonna-03

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া লোকজনদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইফতার সরবরাহ করা হবে। ঝুকিপূর্ন স্থানগুলো থেকে লোকজনদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক এই কর্তা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply