নীড় পাতা » ব্রেকিং » বুধবার কেপিএম-এ সিবিএ নির্বাচন,চলছে শেষ মুহুর্তের সমীকরণ

বুধবার কেপিএম-এ সিবিএ নির্বাচন,চলছে শেষ মুহুর্তের সমীকরণ

KPMকাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাস্থ এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিলসের (কেপিএম) সিবিএ নির্বাচন  বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ঝাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণায় মিল ও আশপাশের এলাকা মুখরিত হলেও এবারের নির্বাচনের পরিবেশ পুরোটাই ব্যতিক্রম। নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে সেজন্য প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এবারের নির্বাচনে কোনো শ্রমিক সংগঠন মিছিল, মিটিং- সমাবেশ ও শোডাউন করতে পারছে না। এমনকি এক সংগঠন আরেক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে উসকানিমূলক বা আক্রমণাত্মক কোনো মন্তব্যও করতে পারবে না বলে প্রশাসন থেকে এই সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে মাইক বাজিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না। রাত ১১টার পর মিল এলাকার রাস্তায় অপ্রয়োজনে কাউকে চলাফেরা করতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন, মিল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই থানার ওসিকে সভাপতি এবং কেপিএমের নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছ। এই কমিটি নির্বাচন সংক্রান্ত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক যাবতীয় বিষয় দেখভাল করছেন। সূত্র আরো জানায়, এবারের কেপিএম সিবিএ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১৫৫ জন। মিলের তিনটি শ্রমিক সংগঠন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। কেপিএম ওয়ার্কাস ইউনিয়ন (পাল্লা), কেপিএম এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (হাতুড়ি) এবং কেপিএম শ্রমিক কর্মচারি পরিষদ (চাকা) নির্বাচনে জিততে মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। কেপিএমের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোন শ্রমিক সংগঠন মিছিল মিটিং, সমাবেশ, শোডাউন করতে পারছেন না।এমনকি কেউ বুকে ধারণ করার জন্য ব্যাজ পর্যন্তও ব্যবহার করতে পারছেন না।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাইফউদ্দীন আহমেদ জানান, কেপিএম শুধু কাপ্তাই বা রাঙ্গামাটির সম্পদ নয়। এই কারখানা দেশ ও জাতির অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনভাবে কারখানার কোন ক্ষতি হোক এটা প্রশাসন কোনভাবেই মেনে নেবে না। তাই সুষ্টুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাপ্তাই থানার ওসি হারুনুর রশীদ বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত কেপিএম এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মিল এলাকায় কোন বহিরাগত যাতে অযথা ঘোরাফেরা করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোন শ্রমিক সংগঠন আচরণবিধি লংঘন করেছে বলে জানা যায়নি। প্রকাশ্যে বড় ধরনের প্রচার- প্রচারণা চালাতে না পারলেও অনেকটা নীরবে ব্যক্তিগতভাবে ভোটার পর্যায়ে দিন-রাত প্রচারনা চালাচ্ছেন শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। নির্বাচিত হলে কে কিভাবে কারখানার উন্নতি করবেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখবেন এসব বিষয় সবার কাছে তুলে ধরছেন নেতারা।
কেপিএমের শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, তিনটি শ্রমিক সংগঠন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। কোনো সংগঠন সর্বোচ্চ ৬০০ ভোট পেলেই বিজয়ী হবে। আর ৬০০ ভোটারের মন জয় করার জন্য ডিজিটাল যুগে মিছিল মিটিং, শোডাউন করার প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে এবং লিফলেট প্রচার করে সবার সাথে যোগাযোগ করা যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply