বীর বাহাদুরের পায়ে ছাত্রলীগ নেতারা !

sadek-(3)গত ৬ জুন বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলাকারি ছাত্রলীগ নেতারা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও  কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুরের পায়ে ধরে বসে আছেন, এমন একটি ছবি শেয়ার করেছেন বীর বাহাদুরের এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরী। ২৮ জুন নিজের ফেসবুকে তিনি ছবিটি  শেয়ার করেন।

এরপর পরই আরেকটি স্ট্যাটাসে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক কাজী মুজিবকে ছাত্রলীগের জেলা সম্মেলনে ‘হামলাকারীদের জাতির পিতা মুজিব সাহেব’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের সহকারি একান্ত সচিব সাদেক হোসেন চৌধুরী। দৃশ্যত গত ৬ জুন বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলাকারিদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই সাধারন সম্পাদককে ‘ব্যঙ্গ’  করলেন দলটির জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সাদেক।

২৮ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘বান্দরবানে ‪#‎ছয়_ছয়_পনেরোতে‬ ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলাকাীদের জাতির পিতা কাজী মুজিব সাহেব বলেছিলেন, তাদের মামলা প্রত্যাহার (হামলাকারীদের) করা না হলে বান্দরবান অচল করে দিবেন? কোথায় গেল সে হুমকি? নাকি একটু অভ্যাসবশত: গলাবাজি করে দেখালেন????’sadek-(2)

গত ৬ জুন বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের একাংশ,যারা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী মুজিবের সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত। ওই ঘটনার পর হামলাকারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে এর প্রতিবাদে কাজী মুজিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের কাউকে গ্রেফতার করা হলে বান্দরবান অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ সম্পাদক। এরপর তার বাসায়ও অভিযান চালায় পুলিশ এবং তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনস্থলে হামলার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয় দলটির হাইকমান্ডও। কাজী মুজিব জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছাড়াও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যও।

২৮ জুন,একই দিন আরেকটি স্ট্যাটাসে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারি একান্ত সচিব সাদেক হোসেন চৌধুরী হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর পায়ে ধরে বসে আছেন এমন আরেকটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটিতে দেখা যায়,সোফায় বসে থাকা বীর বাহাদুরের পায়ে ধরে বসে আছেন কয়েকজন ছাত্রলীগনেতা। আর শেয়ার করা স্ট্যাটাসটিতে বলা হয়, ‘কিছু কিছু ভুল আছে যা না বললেও মাফ করা যায়, মন থেকে মুছে ফেলা যায়, আর কিছু ভুল মাফ করা যায় না, আমার পিছেঁ লাথি মেরে আমার গায়েঁ ময়লা দিয়ে এটা কোন ধরনের মাফ চাওয়া, এমন একদিন আসবে যেদিন বাসায় এসে ইট পাক্কেল মারবে বলবে আমি ডাব গাছে মারলাম আপনার বাসায় পড়লো আমায় মাফ করুন, বেয়াদব কে বেয়াদবের শাস্তি না দিলে সে বেয়াদবি করবে’|

ছবিটির নীচে বান্দরবান আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নানান মন্তব্যও করেছেন।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী মুজিব এর নেতৃত্বে একটি অংশ বীর বাহাদুর বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ বাহাদুর পন্থী নেতাকর্মীদের। এই অংশটি ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে’ পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও অভিযোগ এদের। বান্দরবানে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে ২৭ জুন আরেকটি স্ট্যাটাসে সাদেক লিখেন, ‘ভাইরাসমুক্ত বান্দরবান আওয়ামীলীগ চাই;কুত্তা মুক্ত ঘেউ ঘেউ বিহীন,বান্দরবান আওয়ামীলীগ চাই;সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক,আমিত্ব মুক্ত, তেলের ড্রাম মুক্ত
বান্দরবান আওয়ামীলীগ চাই। খাজা গরীবে নেওয়াজ, মিরর অব বান্দরবান, ফেমাস হিরো মার্কা তৈলাক্ত বাঁশ আর নয়,বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে সম্প্রীতির বান্দরবানে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। শুধু লাইক-কমেন্ট-পিরীতির কাক্যালাপ চাইনা;এগিয়ে চলার বিশুদ্ধ সাহস চাই। #‎জয়বাংলা_জয়বঙ্গবন্ধু‬।’sadek-(1)

বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের বিরোধ রাজপথ থেকে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে আসায় এবং এনিয়ে গরম গরম স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্ট হওয়ায়,শেষাবধি কোথাকার পানি কোথায় গড়ায় তাই এখন দেখার বিষয় !

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply