নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে একদিন

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে একদিন

DSC00014

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ এর সমাধীস্থল রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট এলাকায়। কাছে থেকেও যেন দেখা হয়নি পবিত্র স্থানটি।
সমাধীস্থল থেকে ঘুরে এসে দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক দুলাল হোসেন জানান, বীর শ্রেষ্ঠ’র সমাধীস্থল প্রতেকের-ই ঘুরে আসা প্রয়োজন; বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের। তাতে করে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জানা এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ দেশের জন্য হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে এই পাহাড়ের মাঝে শহীদ হয়েছেন তা জেনে বীর শ্রেষ্ঠ’র সমাধীতে সম্মান জানানো।
চারপাশে কাপ্তাই লেকের পানি আর মাঝখানে ছোট্ট দীপের মতো একটি ঊঁচু টিলায় মনোমুগ্ধকর স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ এর কবর। দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৭ বীর শেষ্ঠ’র মধ্যে একজন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। এ বীরশ্রেষ্ঠ’র সমাধীস্থল রয়েছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট চিংড়ি খালের মধ্যবর্তীস্থানে। চারিদিকে কাপ্তাই লেকের পানি আর মধ্যে একটি উচু ঢিবির মধ্যে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের কবর।
১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টর একটি অংশ,তৎকালীন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস্(ইপিআর)র কিছু সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও তৎকালীন মহালছড়ি থানার বুড়িঘাট চিংড়ি খাল এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল হানাদার বাহিনী ২য় কমান্ডো ব্যাটালিয়নের এক কোম্পানী সেনিক ছয়টি তিন ইঞ্চি মর্টার ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ তিনটি লঞ্চ ও দুইটি স্পীডবোট বোঝাই করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আকস্মিক আক্রমন শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। হানাদার বাহিনীর প্রবল আক্রমনের মূখে মুন্সী আব্দুর রউফ মেশিন গান নিয়ে শত্র“দের সাথে লড়ে অন্য সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যেতে সাহায্য করেন। যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর দুইটি লঞ্চ ও একটি স্পীড বোট পানিতে ডুবে যায় এবং দুই প¬াটুন সৈন্য মারা যায়। অন্যান্য সৈন্যরা দ্রুত পেছনে সরে গিয়ে একটি লঞ্চ ও একটি স্পূড বোট নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। কিন্তু হঠাৎ হানাদার বাহিনী ছোড়া একটি মর্টারের গোলা মুন্সী আব্দুর রউফের ওপর আঘাত করে এবং তিনি শহীদ হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘবছর এই বীরশ্রেষ্ঠ’র সমাধীস্থল চি‎িহ্নত করা না গেলেও ১৯৯৬ সালের ২৫ এপ্রিল মুন্সী আব্দুর রউফের সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বীরশ্রেষ্ঠ’র সমাধীস্থল চি‎িহ্নত করা সম্ভব হয়। সেখানে ২০০৬ সালের ২৫ মার্চ রাইফেলের ভাস্কর্য সম্বলিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ে জুমের সাথে বাড়ছে পান চাষ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এবার অনেক জুমচাষি জুম চাষের পাশাপাশি করেছেন পান চাষ। পাহাড়ে পান চাষ করে …

Leave a Reply