নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

jullanto-bridgeআজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বে ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য নিরাপদ ও মনোরম পর্যটন স্পট গড়ে তোলা ও সচেতনতার জন্য এ দিবস পালন করা হয়। রাঙামাটিতে এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গত বছর দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি আবাসিক হোটেলের আয়োজনে পক্ষ কালব্যাপী পর্যটক মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবছর তেমন কোনো আয়োজন চোখে পড়ছেনা।

বাংলাদেশের যে কয়টি শহরকে পর্যটন নগরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে রাঙামাটিও পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু, এখানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে পর্যটন উপযোগী অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। এরমধ্যে পর্যটন কমপে-ক্সের একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ছাড়া রয়েছে সুবলং ঝরণা আর বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে কয়েকটি পাহাড়ি দ্বীপে কিছু পর্যটক বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে যোগাযোগ অবকাঠামো সমস্যার কারণে এগুলো এখনো পর্যন্ত সাধারণ ভ্রমণকারীদের মধ্যে তেমনভাবে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারেনি।

তবে আশার কথা গত মাসে পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটনকে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে হস্তান্তর করেছে। জেলা পরিষদে হস্তান্তর হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা একে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত এই অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে পরিকল্পিত পর্যটন স্পট গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এলাকার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জেলা পরিষদও নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে পর্যটনের উন্নয়নে। তবে তার জন্য জেলা পরিষদের কর্তাব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান ও আগ্রহ থাকা জরুরি বলে মনে করেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন কমপে¬ক্সের সূত্রানুযায়ী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি রাঙামাটির অমিত পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তিন তারা মানের হোটেল। রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপে¬ক্সের মনোরম পরিবেশে হ্রদের সৌন্দর্য, সবুজের সমারোহ আর অনাবিল মুক্ত বাতাসের নিশ্চয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে এ হোটেল নির্মাণের জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ হোটেল ভবন নির্মানের কাজ প্রায় শেষ। সূত্র আরো জানায়, হোটেলটিতে আন্তর্জাতিকমানের আবাসিক সুবিধা ছাড়াও, বলরুম, বার ও তথ্যপ্রয্ুিক্ত সুবিধা আছে। হিসাবমতে বছরে প্রায় ৪-৫ লক্ষ পর্যটক রাঙামাটি আসে। সুযোগ সুবিধা বাড়লে এবং পর্যটন স্পট গড়ে উঠলে রাঙামাটিতে প্রতিবছর পর্যটক আগমনের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বর্তমানে পর্যটন হলিডে কমপে¬ক্সে যেসব সুবিধা রয়েছে সেগুলো হলো এসি, ননএসি মিলিয়ে ৩৫ কক্ষের লেকভিউ পর্যটন মোটেল, ৫০ আসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেঁস্তোরা, নৌবিহারের জন্য স্পিড বোট ও ইঞ্জিন বোট, ড্রিংকস কর্ণার, কার পার্কিংসহ পিকনিক স্পট ও ঝুলন্ত ব্রিজ। তার সাথে বাড়তি যোগ হয়েছে তিন তারা মানের হোটেল।

‘পাহাড়, ঝর্ণা আর হ্রদের সমন্বয়ে শোভিত নয়নাভিরাম রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের নানামুখী বিকাশের মাধ্যমে এ এলাকার অর্থনীতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব’ অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অভিজ্ঞজনদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য ও পরামর্শ বার বার উচ্চারিত হলেও এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ একেবারেই নগণ্য।

কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ শান্ত জলরাশির তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড়ে বুনোফুলের ব্যঞ্জনা, বন্যপ্রাণীর ছোটাছুটি, ঝর্ণার কলকল ধ্বনি আর দূষণমূক্ত নির্মল বাতাসের এমন সমন্বিত সমাহার বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই আছে। সে কারণেই জীবনের অবিরাম ছুটে চলা নগর সভ্যতায় বসবাস করা মানুষগুলো অবসর পেলেই রাঙামাটিতে ছুটে আসে; একটু স্বস্তি আর শান্তির খোঁজে।

দেশীয় পর্যটকের সাথে এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু বিদেশীদের অবসর কাটানো এবং রাতযাপনের উপযোগী আন্তর্জাতিক মানের কোনো হোটেল এখানে গড়ে না ওঠায় তারা বাধ্য হয়েই ভ্রমন সংক্ষিপ্ত করে অতৃপ্ত মন নিয়ে ফিরে যান। এ ছাড়া ‘নভেম্বর থেকে মার্চ’ সময়ে ভরা পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছরই রাঙামাটিতে আসা পর্যটকেরা রাতযাপনে আবাসন সঙ্কট বা হোটেল সঙ্কটে পড়েন।

কিন্তু পর্যটন উপযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি না হওয়ায় এখনো পর্যটন নগরী হিসেবে এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করতে পারেনি। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা পাহাড়ি এলাকায় গাড়ি চলাচল অভ্যস্ত চালক না আনায়, অনেক সময় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। পাহাড়ি রাস্তাগুলোর দুইপাশে যথেষ্ট পরিমাণ প্রতিরোধক না থাকায় এ দুর্ঘটনা হার বেশি। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কসহ অন্যান্য সড়কগুলো এখনও পর্যটন উপযোগী করে তোলা হয়নি।

রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল রাঙামাটিকে দেশের পর্যটনের একটি অপার সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এ এলাকার পর্যটনের উন্নয়নে পর্যটন কর্পোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। জেলার পর্যটনের উন্নয়নে জেলাপ্রশাসন শুধুমাত্র পর্যটন সংশ্লি¬ষ্ট নিরাপত্তা বা যোগাযোগ বিষয়টি দেখে থাকে।’

তবে পর্যটন মোটেলটি শহরের এক প্রান্তে হওয়ায় এখানে যানবাহন সুবিধা নিশ্চিত করাসহ কটেজ সুবিধা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগেও কাপ্তাই হ্রদের দ্বীপগুলো ও হ্রদতীরবর্তী পাহাড় এবং চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়কের পার্শ¦বর্তী পাহাড়গুলোতে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা দরকার বলে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা প্রতিবছর সুপারিশ করে থাকেন। এতে যেমন এ এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি বিশাল দ্বার উন্মোচিত হবে তেমনি এ পর্যটন শহরের সুনামও বৃদ্ধি পাবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply