নীড় পাতা » ব্রেকিং » বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে

JSSপার্বত্য শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহযোগি তিন সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি ।

মঙ্গলবার সকালে জনসংহতি সমিতির জেলা কার্যালয়ে থেকে ৩ সংগঠনের সমন্বয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বনরূপা ঘুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অনিল মারমার সভাপতিত্বে সমাবেশে জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সম্পাদক সজীব চাকমা, ষ্টাফ সদস্য উদয়ন ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সভাপতি জড়িতা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারন সম্পাদক জুয়েল চাকমা, হিল উইমেন ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমাসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয় তাহলে সরকারকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

পার্বত্য চুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম করার আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনা করার কথা থাকলেও আলোচনা না করে যদি মেডিকেল কলেজ , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পর্যটনের নামে পাহাড়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় তাহলে হরতাল অবরোধের মত কঠিন কর্মসুচী দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অচল করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন সমাবেশে বক্তব্য রাখা পাহাড়ী নেতারা।

তারা আরো বলেন, জনমতের বিপরীতে গত ১০ জানুয়ারী ২০১৫ রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে রাঙামাটিতে মারাত্মক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জনমতকে উপেক্ষা করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় জোর করে কথিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হলে তার ফল কখনোই শুভ হবে না বলে নেতৃবৃন্দ জানান। এমনতর অবস্থায় সরকার যদি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন,  পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে পেশীশক্তির জোরে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে এবং তার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলে তিনি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ অচিরেই স্থগিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য উদয়ন ত্রিপুরা বলেন,পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জোরালো আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি কলেজের উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে। হামলা-মামলা করে জুম্ম জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না, বরং আরো জোরদার হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।IMG_0503

প্রসঙ্গত, গত শিক্ষা বর্ষ থেকেই রাঙামাটিতে চালু হয়েছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ,যেখানে দুইটি ব্যাচ ইতোমধ্যেই ভর্তি হয় ক্লাশ করছে। অন্যদিকে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ব্যাচ ভর্তি হয়ে ক্লাশ শুরুর প্রতীক্ষায় আছে,এই নভেম্বরেই তাদের ক্লাশ শুরুর কথা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রমের বিরোধীতা করে আসছে। তাদের দাবি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানদুটির সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এই দাবিতে নানান কর্মসূচী পালন করে আসছে তারা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মা-বাবাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খাগড়াছড়িতে পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় বাবা-মাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু …

Leave a Reply

%d bloggers like this: