নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান ঊষাতনের

শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তির আলোচন সভায়

বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান ঊষাতনের

ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহৎ স্বার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘আমাদের মাঝে বিভেদ নয়, ঐক্যের প্রযোজন। বিভেদ ভুলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজ বান্দরবানের আলীকদম, লামা, নাইক্ষংছড়িসহ অন্যান্য উপজেলায় ৫ শতাধিক পাহাড়ি পরিবার মিয়ানমারে দেশান্তরিত হয়েছে। আমরা সবসময়ই এসব কথা বলে আসছি, কিন্তু আমাদের কথা কে শুনে?’

রোববার দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাঙামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। রোববার সকাল ১০টায় রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির হল রুমে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জেএসএস নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন এমন মন্তব্য করে ঊষাতন বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজি করে আপনারা তাদের ধরুন। তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনার অধিকার আপনাদের আছে। কিন্তু ছলনা করে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না পাহাড়ের মানুষকে আপনারা কী মনে করেন।

চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে, তারা জুম্মদের কীভাবে দেখছেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কীভাবে দেখছেন। দেশের মানুষ ১ শতাংশ জুম্মদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জুম্মরা বেশি কিছু চায় না, তারা প্রাণভরে বাঁচতে চায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চুক্তি বাস্তবায়নে সদিচ্ছা আছে; কিন্তু প্রতিনিয়ত উনার কান ভারী করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পাহাড়িরা অল্পতেই তুষ্ট, কিন্তু এই অল্পতে তুষ্ট মানুষদের সরকার কেন তুষ্ট করতে পারছেন না? তাই বলছি, সময় থাকতে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসুন।’

স্থানীয় আওয়ামীলীগকে ইঙ্গিত করে জেএসএসের এই নেতা বলেন, ‘চুক্তির কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটা বিষয় নয়। আমরা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই। চুক্তির ২১ বছর পরও মৌলিক ধারাগুলো এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। যে ধারাগুলো বাস্তবায়ন করলে সরকারি দলের সুবিধা হয়, সে ধারাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।’

উষাতন বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান-এমপি হয়েও ঢাল নাই, তলোয়ার নাই, নিধিরাম সর্দার হয়েছি। জুম্মদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। পাহাড়ের মানুষ কী চায়, তারা নির্বিঘেœ-নিরাপদে জীবনযাপন করতে চায়। কিন্তু আজ পাহাড়িরা ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাচ্ছে। জুম্মদেরও তো বাঁচার অধিকার আছে। এটা কার লজ্জা, আমরা বুঝতেছি না। আপনারা পাহাড়ের পরিস্থিতি অনুকূল করেন। আমরা স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের এভাবে না রেখে বলেন, যেদিকে দু’চোখ যায় আমরা সেদিকে চলে যাবো।’

এতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নতুন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

সভায় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্যাঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা, সাংস্কৃতিক কর্মী শিশির চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি জুয়েল চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি রিনা চাকমা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র মাধ্যমে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ …

Leave a Reply