নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » বিপন্ন পাহাড়ের পর্যটন শিল্প

বিপন্ন পাহাড়ের পর্যটন শিল্প

58টানা হরতাল আর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে। যেসব হোটেল মোটেলে রুম পেতে হন্য হয়ে ঘুরতে হতো,বারবার অনুরোধ করেও সিট ম্যানেজ করা দুরূপ ছিলো,সেইসব হোটেল মোটেল সব খালি পড়ে আছে। পর্যটকের অভাবে খাঁ খাঁ করছে পুরো পর্যটন শহর রাঙামাটি। কোথাও দেখা মেলেনা কোন পর্যটকের।

কেনো এই দৈন্যদশা? এমন প্রশ্নের জবাবে হোটেল মালিক,হ্রদের বোট চালক কিংবা বেসরকারি রিসোর্ট বা পর্যটন মোটেল সবার একই উত্তর-‘ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা’।

রাঙামাটির সবচে পুরনো অভিজাত হোটেল সুফিয়া। এর মালিক শফিকুল ইসলাম মুন্না নিজেও বিরক্ত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায়। তিনি বলেন,টানা হরতাল আর রাজনৈতিক সংঘাতে হোটেলের তো বেহাল অবস্থাই.তারউপর এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাতেই পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আর স্থিতিশীলতা ছাড়া পর্যটন শিল্পের এই সংকট কাটবে বলে মনে করেন না তিনিও।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আখলাকুর রহমান জানালেন,ভাই পর্যটনের যে দৈন্যদশা তা সবাইকে কষ্ট দিবে। দেশের পর্যটনখাত সখন সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে বিকাশের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সেইসময় টানা হরতাল অবরোধ বা রাজনৈতিক সংঘাতে এই শিল্পকে সংকটে ফেলে দেবে। তিনি জানালেন,হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তাদের বেশিরভাগই রুমই খালি পড়ে আছে আর যারা আগাম বুকিং দিয়েছিলেন তারাও তা বাতিল করছেন।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গতকয়েকদিনে কোন টুরিস্ট বোটের দেখা মিলেনি বললেই চলে। গত দশবছর ধরে হ্রদের বুকে টুরিস্ট বোট চালানো মাসুদ বললেন,আমাদের কথা কেউ জানতেও চায়না,শুনতেও আসেনা। টুরিস্ট আসার উপর নির্ভর করে আমাদের সংসার ও জীবিকা। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক সমস্যার কারণে টুরিষ্ট কম হয়,কিন্তু এইবারের মতো এতোবেশি কম কোন সময়ই হয়নি।

শহরে এই বছরই যাত্রা শুরু করা অভিজাত হোটেল নিডস হিল ভিউ এর ম্যানেজার মোঃ শাহ আলম জানালেন,হোটেলে বোর্ডার নেই বললেই চলে। তিনি নেপালের মতো বাংলাদেশেও পর্যটন খাতকে হরতাল বা রাজনৈতিক কর্মসূচীর বাইরে রাখার অনুরোধ করে রাজনীতিবিদদের কাছে।

রাঙামাটির বিখ্যাত সুবলং ঝর্ণার ইজারাদার জয় চাকমা জানালেন,বছরের এই সময় এমনিতেই ঝরনায় পানি থাকেনা,তাই পর্যটকরাও কম আসে। তবুও কম হলেও যা আসতো হরতাল অবরোধের কারণে এবার একেবারেই শূণ্য। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ।

শহরের টেক্সটাইল মার্কেটের বিক্রয়কর্মী ঐশি চাকমা জানালেন,বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। মালিক আমাদের বেতন দিতেই হিমশিম খায়। তাই বিক্রয় কর্মীদের ছুটি দিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে মালিক।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদুড়ের অভয়ারণ্য: বান্দরবান জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গণ

বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণের সেগুন গাছটি যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বহু বছরের পুরানো …

Leave a Reply