নীড় পাতা » ব্রেকিং » বিদায়ী বছরে গণশুনানিতে উপকারভোগী ৪৬৮ জন

বিদায়ী বছরে গণশুনানিতে উপকারভোগী ৪৬৮ জন

ফাইল ছবি

রাঙামাটিতে বিগত এক বছরে গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদকে নিজের অপারগতা ও দুঃখের কথা শুনিয়ে উপকারভোগী হয়েছেন জেলার ৪৬৮জন সাধারণ মানুষ। গত বছরে অনুষ্ঠিত ৪৯টি গণশুনানির মধ্যে শুধু শিক্ষা খাতে সহযোগীতা নিয়েছেন ১৩৫জন শিক্ষার্থী।

রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রচলিত হয়ে আসছে গণশুনানি। প্রতি সপ্তাহের বুধবার সকাল ১১টা মানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণশুনানির সময়। সপ্তাহের যে কোনো সময় বা বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে যে কেউ তাঁর সমস্যার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুকূলে সাহায্যের লিখিত আবেদন করতে পারবেন। আর ১১টায় বসে সেসব সমস্যার কথা ভুক্তভোগির মুখে শুনে সমাধানের চেষ্টাই গণশুনানি। জেলা প্রশাসক তার পাশের চেয়ারে আবেদনকারী ভুক্তভোগিকে বসিয়ে সমস্যার কথা শুনে তাঁর সমাধানের চেষ্টা করেন। এই বছরে সর্বমোট ৪৯টি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গণশুনানিতে এমন অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন ভর্তির টাকা নেই, সত্যতা যাচাই করে তাদের দেয়া হলো ভর্তির টাকা। আবার অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারলেও বই কেনার মতো অর্থ নেই তাদের। তাকে কিনে দেয়া হল নতুন বইয়ের সেট। তেমনি ভাবে জেলা প্রশাসককে নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে গত এক বছরে বিভিন্ন সহযোগীতা নিয়েছেন পাহাড়ের প্রায় ১৩৫জন শিক্ষার্থী।

শুধু শিক্ষার্থী নয় যেসব লোক চিকিৎসা করতে পারছেন না অর্থের অভাবে, গণশুনানিতে আবেদন করে তাঁরা পেয়েছেন চিকিৎসা করার অর্থ। আবার ডাক্তার দেখা পারলেও যাদের ওষুধ কেনার পয়সা নেই তারাও আবেদন করে পেয়েছেন শরীর সুস্থ রাখার ওষুধ। এমনিভাবে গণশুণানিতে আবেদন করে চিকিৎসা খাতে সহযোগীতা নিয়েছেন প্রায় ১৮০জন সাধারণ মানুষ। এছাড়াও সামাজিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অপারগতা বা সমস্যার কথা জেলা প্রশাসককে জানিয়ে গণশুনানিতে সহযোগীতা নিয়েছেন পার্বত্য জেলাটির আরও অন্তত ১৫৩জন ভুক্তভোগি মানুষ। গণশুনানিকে জেলা প্রশাসনের ভালো উদ্যোগ বলে সেটির মাধ্যমে সহযোগিতা যেন অব্যাহত থাকে তেমটায় চাই জেলার সুশীল সমাজ।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা প্রতিবুধবার গণশুনানি করে থাকি। এতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক জন্য আসে তাদের সমস্যা কথা জানাতে। তখনই আমরা চেষ্টা করি তাদের সে সব সমস্যা সমাধান করার। যদি সম্ভব হয় তখনই সমাধান করি, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে সমস্যাটি সমাধানের জন্য পাঠাই।

জেলা প্রশাসক বলেন, গণশুনানিতে আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। কেউ আসে তার শিক্ষা সরঞ্জাম কিনতে পারছেন না। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে আমরা তাকে শিক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করি। তেমনিভাবে চিকিৎসা ব্যয় মেটানে না পারা মানুষসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গণশুনানিতে মানুষ আসে। আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির টাকা, বই উপহার যেমন দিয়েছি, তেমনি এই বছরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ইঞ্চিনচালিত বোটও (নৌকা) উপহার দিয়েছি। সব মিলিয়ে চেষ্টা করেছি, মানুষগুলোকে সহায়তা করার।

ডিসি বলেন, ভবিষ্যৎতে আমরা চেষ্টা করবো উপজেলা পর্যায়ে গণশুনানি চালু করার। যাতে করে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌছানো যায়। তাছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলার মানুষের সাথে গণশুনানি করার পরিকল্পনা আছে নতুন বছরে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মানিকছড়িতে করোনা উপর্সগ নিয়ে নারীর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) উপর্সগ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকছড়ির যোগ্যাছোলা …

Leave a Reply