নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বিঝু ও চাকমা গানের বৈশিষ্ট্য

বিঝু ও চাকমা গানের বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশের ভূস্বর্গ কোথায় বলব! এই বিঝুতে সেই কল্পলোকের মায়াস্পর্শ পেতে আমি বের হয়েছিলাম। চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষের উৎসবকে চাকমারা বলে বিঝু, বড়–য়ারা বলে বিয়ু, অসমিরা বলে বিহু। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড পর্যন্ত এর বিস্তার। মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন প্রভৃতি ১১টি জাতিগোষ্ঠী এই উৎসব পালন করে। ২৯ চৈত্র চাকমাদের ফুল বিঝু। বিঝু ভূস্বর্গের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান।
খুব ভোরে বন বিভাগের ডাকবাংলো বনশ্রী থেকে বের হয়েছি। ভোরের আলোয় বিশাখা নক্ষত্র আর দেখা যাচ্ছে না। তুলা রাশির বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ মাসের নাম হয়েছে। ওর শেষ আলোটুকু কিছুক্ষণ আগে এদো শির মোনের শীর্ষে দেখে চোখ বন্ধ করে ওকে স্মৃতিতে ভরে রাখলাম। তুলা রাশির জাতক—জাতিকারা বৈশাখের প্রথম দিনের শেষে সন্ধ্যায় পুব দিকে বিশাখাকে দেখে শুভদিনের আশায় থাকে। আমার মেষ রাশি, মার্চ মাসে মেষ রাশির তারা অমল, শিরস্থান ও সুখরশ্মি নক্ষত্রের সঙ্গে পশ্চিম আকাশে ডুবে গেছে।
বীরকিশোর চাকমার বাড়িতে পৌঁছতেই দেখি তিনি তৈরি। পরপর তিন রাত বৃষ্টি হয়েছে। এজন্য চেঙ্গি নদীতে পানি বেড়ে গেছে, ডুব দেয়া যাবে। বালুচরের প্রান্তে স্রোতের কাছাকাছি ছেলেমেয়েরা কল্পলোকের উদ্দেশে ফুল উৎসর্গ করবে। বোশেখ মাসে পাহাড়ে ফোটে কুর্চি বা গিরিমল্লিকা, চাকমারা বলে কুরুক, সংস্কৃতে কুটজ। এটি বাংলার বনেজঙ্গলে ফোটা দেশজ আদি ফুল। বাংলার প্রধান প্রধান সব ফুল বসন্ত থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুটতে শুরু করবে অথবা বলা যায় প্রাক—গ্রীষ্ম বা বসন্ত থেকে শুরু হয়ে যাবে। অশোক, হিজল, মহুয়া, কৃষ্ণচূড়া, জুঁই, চাঁপা, গুলাচ, কনকচাঁপা, বাতাবিলেবু ও লেবু, পেয়ারা
বৃষ্টি পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। বীরকিশোরকে নৃত্যরত একটি পাখি দেখালাম, আগে আমি ওকে দেখিনি, চিনি না। আমার অভিজ্ঞতা বলছে ওটা পুরুষ পাখি, পাখিটির বুকে ভালোবাসার জন্ম হয়েছে, সে সঙ্গিনীকে আহ্বান ও আকৃষ্ট করতে তৎপর। সঙ্গিনী রাজি হলে তাদের মিলন হবে, ডিম দেবে, ফোটাবে ও পরিচর্যা করে সন্তানকে বড় করে তুলবে। প্রকৃতির জগতে বসন্ত থেকে বর্ষা পর্যন্ত এই সৃজন—নদী বয়ে চলবে। বীরকিশোরকে সব বললাম। মন ভরে দেখলেন তিনি।
নদীতে অনেক তরুণী এসেছে। কলাপাতায় ফুল ভাসিয়ে দিয়ে শাক্যমুনি (বা মা গঙ্গা বা নদীর) কাছে প্রার্থনা করে পুরনো বছরের জীর্ণতা ও আবর্জনা যেন ধুয়ে মুছে যায়, নতুন বছর যেন আশা—আনন্দ ও সুখে ভরে ওঠে। চাকমাদের কাছে নদী অত্যন্ত পবিত্র ও প্রিয়। সাধারণত নদীর ধারে চাকমা গ্রাম গড়ে ওঠে। পাহাড়ের ঢালে গ্রাম গড়ে উঠলে আশপাশে অবশ্যই ছড়া বা ঝরনা থাকা চাই।
বিঝুতে শাক্যমুনির কাছে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করে। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে, নববর্ষের সুখশান্তি কামনা করে। এটি সামাজিক থেকে ধর্মীয় রীতি হয়ে গেছে।
নববর্ষে প্রথম দিনকে বলে গজ্যাপর্জ্যা। সেদিন মারমাদের নববর্ষের র‌্যালিতে গিয়েছিলাম। মারমা রমণীরা বাটিতে করে সেনেকার এনে দুই গালে ও কপালে লাগিয়ে দিল। এটি তাঁদের বরণ করে নেয়ার স্বীকৃতি। সেনেকার চন্দনের মতো এক রকম গাছের ডাল। সেই ডাল শিলে ঘষে নিলে মুখে লাগানের উপযোগী হয়। রোদ থেকে এটি ত্বককে রক্ষা করে। মুখে—হাতে—পায়ে এটি লাগানো হয়, প্রতীক হিসেবে ওঁরা আমাদের গালে লাগিয়ে দেয়, সঙ্গে সঙ্গে শীতল স্নিগ্ধতা সারা শরীর ছড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারে আমি মুখে দিয়ে সারাদিন রোদে ঘুরেছিলাম।
র‌্যালি শেষে পানখাইয়া পাড়ার ক্লাবঘরে ভুট্টা, পিঠে, তরমুজ খেয়ে গেলাম মং—এর বাড়িতে। বীরকিশোর, মং ও আমি। এইদিন মারমারা মদ স্পর্শ করবে না। ওদের দিনপঞ্জির হিসেবে দু’দিনের ব্যবধান আছে বাংলার সঙ্গে। মং পরিবেশন করলেন অতিথিদের। সঙ্গে পাজোন বা পাঁচ রকম তরকারির ঘণ্ট, মাংস ও তরমুজ এল, বাঁশের তৈরি দাবা (হুঁকো) সাজিয়ে দিল।
সেই শুরু। সারাদিন এবাড়ি—ওবাড়ি গিয়ে খাওয়া, পান ও গান চলল। পুরনো দিনের বিখ্যাত সব আধুনিক গান। সব শেষে বীরকিশোরের বাড়িতে শেষ দুপুরে আমরা বসেছি আড্ডায়। মুক্তিযোদ্ধা রণবিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সঙ্গে পরিচয় হল। দীর্ঘ, সুঠাম দেহের অধিকারী, ছয় ফুট তো হবেনই। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গান শুরু হল। বীরকিশোরের ঘরের সিডিতে বাজছে
চাকমা গান। বীরকিশোর ও মনীষ ধরল চাকমা গান, ‘রামজুয়িন উদিলে তর কদা মনত্ পরে দে।’ কী! কী অর্থ? ‘রামধনুটা উঠলে তোর কথা মনে পড়ে যায়।’ এত সহজ—সরল বাণী ও সুর যে হৃদয় উছলে ওঠে। তারপর কুমার সমিত রায়ের সেই গানটির কথা মনে পড়ল। এগুলো আমাকে লিখে পাঠিয়েচেন বাসন্তী চাকমা ও বাদল চাকমা।
হাঝি হাঝি দিন্ বেরাং
কানি কানি রেত্ জাগং
মন্ কদা মনত্ রাগংগে॥
সিধান কুরুক গাচ্চোত
বিঝু পেক্কো দপরে বিঝু বিঝু
ত মুয়ো হাঝিয়ান র্ম চোখত্ ভাঝে॥
এদক্ সর্দ হইলেই বো রাঘে—ধ ন—জানিলে
মন্ কধানি এক্কানধ্ কোই ন—পেলে
তুমি মিলাগুন ভারী বজংগে
বাঝি ধোক্যা যিন্দি রায় সিন্দি ব—দে॥
এর বাংলা মোটামুটি এরকম হতে পারে—
হেসে দিন কাটে
কেঁদে কেঁদে রাত জাগি
মনের কথা মনে রেখে দিই॥
সিধানে কুর্চি গাছে
বিঝু পাখি ডাকে বিঝু বিঝু
বিঝু ফুল একে একে ঝরে পড়ে
তোর মুখের হাসিটি আমার চোখে ভাসে॥
এত আপন হয়েও রাখতে না জানলে
মনের কথা একজনকে বলে না গেল—
তুমি মেয়েটি বড্ড খারাপ
বাঁশি যেন, যার হাতে যাও তার হয়ে বেজে যাবে !!
গানের বাণী দিয়ে গান বোঝানো যায় না, সুর আমি লেখায় ফুটিয়ে তুলতে পারি না। তবুও এই সহজ সরল বাণীও কম কি! আপনারা নাইবা শুনতে পেলেন। পরে একদিন শুনে নেবেন।
নববর্ষের অনুষ্ঠানে উপজাতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যখন চাকমা গান শুনি মন দমে গেল। ব্যান্ড যন্ত্রপাতির ভিড়ে এই সহজ—সরল মাধুর্যপূর্ণ সুর হারিয়ে যায়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুসময় চাকমাকে ক্ষোভের সঙ্গে বললাম, ভাই, চাকমা গানের সঙ্গে ধুধুক, খেং গরং, বেলা, শিঙা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করুন না কেন? আগামীবার আমি এসব বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে আপনার হলঘরে চাকমা গান শুনতে চাই। সুসময় আমার সঙ্গে একমত হলেন।
বীরকিশোরের ভাই বাদলও গান করেন নিজের মনে। খেয়েদেয়ে ফর্সা মুখ রইসক্ ফলের মতো টুকটুকে হয়ে গেছে। গেয়ে উঠলেন, ‘কী এত সুন্দর হয়েছিস যে তুই/ মনে হয় শুধু চেয়ে থাকি।’ এত সুন্দর চাকমা গান আমি বেশি শুনিনি। বীরকিশোরকে একটা কলি ধরে দিলাম, ‘সেদিন তোমায় দেখেছিলাম ভোরবেলায়, তুমি ভোরের বেলা হয়ে কৃষ্ণচূড়ার ওই ফুলভরা…।’ গানটি গতকাল বীরকিশোর দীঘিনালা যাওয়ার পথে বাসে শুনিয়েছিলেন।
প্রকৃতি, দেশ, পাখি, ফুল কী কঠিন—কোমল বাঁধনেই তার মানুষকে ধরে রাখে। সেই ভালোবাসার গানের বাণী ও সুর দিয়েছেন রঞ্জিত দেওয়ান। গেয়েছেন নীলা রায় লিলি। চাকমা ভাষায় পড়ে দেখুন, কিছু তো বুঝতে পারবেন—
ন চাং যের্বা এই জাগান্ ছারি
ইদু আঘং জনম্মান্ পোরি
এই জাগানান্ রইয়েদে ম—মনান্ জুরি॥
কোগিল, দাগন্ কু—উ—কু, বিঝু পেক্কো দগরে বিঝু বিঝু
কাত্তোল্ পাঘোক্কো দার্গে কাত্তোল্ পাঘোক্
পুইয়া পেক্কো দগরে র্গবা এঝোক্ র্গবা এঝোক্
তুরিং ফুলং ধুপ্ রাঙানি রেবেক্ ফুর্ল তুম্ বাচ্চানি
ম মনান্ গরে চুরি ॥
শওন্ ভাদ মাচ্ এলে হেল হেল ভূইয়ানি দাগেদে
র্শি পানিনি ঝিমিলাইদে জীবর্ন, সুখ্কানি চোগত্ ভাঝে
আগোনে—পুঝে ধান ছরাগুন্ সনা রঙে ভাঝি উধন্
সনা ধানে ঘর উঠে ভরি॥ ন চাং যে বার এই জাগান্ ছাড়ি…
এই গানের সুর এত নিবেদিত ও আত্মমগ্ন, পরিপূর্ণ ও উদাস করা, নিজের চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশকে ভালোবাসার জন্য এত গভীর ও অনুভূতিময় যে সেই তুলনায় নিজেকেও মনে হয় কত ছোট আমি। গতকাল আমার অনুরাগী এক পাঠিকা গুনগুন করে শুনিয়েছে নীলা রায়ের গাওয়া এই গানটি। আমি তো অ—সুর লোকের মানুষ, তাই সুর শুনতে এত ভালোবাসি।
চাকমা গান নিয়ে আরও তরুণ—তরুণী এসেছে। সবার নাম আমি জানি না, সবার গান আমি শুনিনি— চাকমা ভাই—বোন তোমরা, এজন্য আমাকে ক্ষমা করো একথা বলব না, কারণ এই অবহেলা ক্ষমাহীন। আলপনার একটি মাত্র গান শুনেছি, সেটি হল, ‘উত্তন্ পেগে মেঘে মেঘে মিউল্ দেবাত্ তলে/ ম পরানান্ যেদে মাগে তারার লগে লগে।’ এত সরল লক্ষ্যভেদী সুর ও বাণীর গান আগে তো শুনিনি! চিত্রমোহন, রাজা দেবাশীষ রায়, কুমার সামিত রায়, সুগত চাকমা, সুসময় চাকমা, জুমপুত, মানি, অমরকান্তি চাকমা, রঞ্জিত দেওয়ান, দেবজ্যোতি চাকমার বাণীসমৃদ্ধ গান গেয়েছেন নীলা রায় লিলি, জুমপুত, আলপনা চাকমা, রূপায়ণ দেবান (রাঙা)। এসব গানের সুরকার রঞ্জিত দেওয়ান, দেবাশীষ রায়, জনি, আলপনা, জুমপুত, রাঙা, রূপায়ণ ও সহশিল্পীরা। ‘মর পরানী’ সিডিতে এগারো জনের গান আছে, কিন্তু সিডির কোথাও রচয়িতা, সুরকার ও গায়িকা—গায়কের নাম নেই। আমার মতো সাধারণ শ্রোতার অনুসন্ধানী মনকে অতৃপ্তিতে ভরে দিল ক্যাসেট কোম্পানী ‘বিনিময় ক্যাসেট বাজার’, এটি শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারকে স্পষ্টতই অবজ্ঞা করা। খাগড়াছড়ি থেকে আমি এই ক্যাসেট সংগ্রহ করেছি।
দ্বিতীয় সিডির গীতিকার অমরশান্তি চাকমা, শুভা তালুকদার, দীপন চাকমা। সুরকার শুভা, অমরকান্তি, দীপন। কণ্ঠশিল্পী শুভ তালুকদার ও পাপড়ি চাকমা। এই সিডির নাম দলক। শুভার গানগুলি হল, ‘ফুল ভঙরা’, ‘এধক আঝা এল বুগত’, ‘ও তুঙোধন ও তুঙোবি’, ‘আমার দেজর’, ‘বিঝু এজ আমা ইদু’, ‘মুই স্ববনে দেগং’, ‘সোনার চিজি’, ‘এল এল মোন’। পাপড়ী চাকমার গানগুলি, ‘থেঙত্ খারু ঝনাট্’, ‘মেঘ র্ঘু র্ঘু’ ও ‘থুপ্ থাপ্ পড়ে র্ঝ’। কী আকুল সুর ও বাণী। চট্টগ্রামের বাংলা ভাষা যারা বোঝেন তাদের পক্ষে চাকমা ভাষা কিছু কিছু বোঝা সহজ। আমার আশ্চর্য লাগে যারা নিজের দেশের এই অসাধারণ সুন্দর ও সমৃদ্ধ চাকমা ভাষা বুঝতে, পড়তে বা জানতে আগ্রহী নন তাদের সম্পর্কে কী ভাবব! শুধু সেই ভাষার মানুষদের— গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, হাজং, রাখাইন, মুরং প্রভৃতি ভাষাভাষীদের ঘৃণা ও অবজ্ঞা করতেই শিখলাম, ভালোবাসতে চাইলাম না কেউই। সংখ্যাগুরু বাংলা ভাষাভাষীদের নৈতিক দায়িত্ব তাঁদের বোঝা, এমনকি শাসকমণ্ডলীরও এটি সাংবিধানিক কর্তব্য। কে শোনে এখন এই নৈতিকতার বাণী! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কী অর্থ তাহলে? এখন যদি ওদের ভাষার দাবিতে ওরা বিদ্রোহী হয়, আর এক ২১ ফেব্র“য়ারি সৃষ্টি করে ওরা!
চাকমা গায়ক—গায়িকা অনেকের নাম আমি জানি না। এজন্য আমি নিঃশর্ত বা শর্তসহ তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইতে পারি। শর্তসহ এজন্য যে এটি আমার দীনতা, এই নাম না জানার অজুহাত আমার অন্যায়। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িকে কেন্দ্র করেই চাকমা গানের চর্চা ও সম্প্রচার বা সম্প্রসারণ। কিন্তু আমার শুনতে ইচ্ছে করে বেলা (বেহালা), ধুদুক, খেংগরং, শিঙা, ঢোল, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র দিয়ে এই গানের রস আহরণ করতে। ব্যান্ড লড়াই করে যাক, থাকুক কিন্তু নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রগুলো অবহেলায় একপাশে পড়ে থাকবে কেন? আমার এই মতও যদি অপাঙক্তেয় হয় তাতেও আমি রাজি। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন গান আমি শুনবই।
বিঝুতে নববর্ষের প্রথম দিনে রাত সাড়ে এগারোটায় অষ্টম বাড়িতে পানাহার দ্রুত সেরে ফিরতে হল অতৃপ্ত মন নিয়ে বনশ্রী ডাকবাংলাতে। পথে রিকশা নেই, আলো নেই, কিন্তু আকাশে জ্বলজ্বলে অমিত সুন্দর নক্ষত্ররা আছে। বৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু হঠাৎ এক লহমায় রাতের আকাশ ফুটফুটে বালিকা হয়ে গেল। কন্যারাশির চিত্রা মাঝ আকাশ অতিক্রম করছে। সোমতারা পশ্চিমাকাশে পাহাড়ের শীর্ষে, বৃষরাশির রোহিণী ডুবে গেছে। সপ্তর্ষি ও সারমেয় যুগল পশ্চিম প্রান্তে এদো শিরো মোনের ফাঁকে আধখানা দেখা যাচ্ছে। আমার প্রিয় সিংহ রাশির সিংহ ও সিংহ শাবক, পাশে বনমার্জার। বন বিভাগের ডাকবাংলাতে উঠতে পাহাড়ের খাড়াপ্রায় পাকা পথ বাইতে হয়। এত সুখাদ্য ও সুপেয় পানীয় খেয়ে পাহাড় ঠেলে ওঠা কি এত সহজ! তবু আমাকে তো একা উঠতেই হবে। গান, পান, অভিমান সবশেষে ঘুমুতে হয়। ওরা সবাই সেই বাড়িতে গজ্যাপর্জ্যা ও চাকমা গানের উৎসব করছে, আমার যে একটু ঘুমুতে হবে নয়তো রক্তের চাপ উসকে দেবে একটু বড় হয়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ড। ক্ষমা করো চাকমা ভাইবোনেরা, তোমাদের সবার গান শুনতে পাইনি এবং নাম জানি না বলে। আমি জানি গুণীজনের কাছে কিছু চেয়ে না পেলেও দুঃখ নেই, কারণ আমি তো অধমের কাছে যাঞ্ছা করিনি। আমার কাছে বাংলাদেশের ভূস্বর্গ হল পার্বত্য চট্টগ্রাম, যাকে নরক বানিয়ে ফেলতে আমার দায়ভাগও কম নয় ॥

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply