নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » বিএনপি-জনসংহতি সমিতি সমঝোতা !

বিএনপি-জনসংহতি সমিতি সমঝোতা !

pic-28_48793১০ম সংসদ নির্বাচন বয়কট করলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে বান্দরবান জেলা বিএনপি। আওয়ামী লীগকে একঘরে করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সাথে নির্বাচনী আঁতাত করেছে তারা। সমঝোতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে সাত উপজেলার মধ্যে তিনটিতে জনসংহতি সমিতি এবং চারটিতে লড়বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট!

এ প্রসঙ্গে দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বান্দরবান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, জেলা বিএনপি ও জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা অনুযায়ী রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় জনসংহতি সমিতির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে জনসংহতি সমিতি কোনো প্রার্থী দেবে না।

অবশ্য জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা কে এস মং মারমা সাংবাদিকদের কাছে সমঝোতা উদ্যোগের কথা স্বীকার করলেও কোন কোন উপজেলায় কে কাকে ছাড় দেবে সেই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাচনের সিডিউল অনুযায়ী প্রথম দফায় বান্দরবানের কোনো উপজেলার নাম নেই। দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও লামা উপজেলায় ভোটগ্রহণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। থানচি উপজেলায় বিএনপি নেতা এবং বর্তমান চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো প্রার্থী হওয়ায় সমঝোতা কিছুটা ধাক্কা খেলেও ধারণা করা হচ্ছে- শেষ পর্যন্ত খামলাই ম্রোকে জনসংহতি সমর্থন দিবে। সমঝোতা অনুযায়ী লামা উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী থোয়াইনু প্রু চৌধুরীর সমর্থনে জনসংহতি সমিতি কোনো প্রার্থী দেয়নি। বর্তমানে জনসংহতি সমর্থক একজন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জনসংহতি সূত্র দাবি করেছে।

তবে নির্বাচন সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন- এমন সূত্রগুলো জানিয়েছে, তৃতীয় দফায় ঘোষিত বান্দরবান সদর ও আলীকদম উপজেলা পরিষদ নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিএনপির পক্ষে আলীকদম উপজেলায় প্রার্থীতা ঘোষণা করা হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালামকে। এখানে জনসংহতি প্রার্থীর সাথে সমস্যার অবসান ঘটলেও বড় সমস্যা দেখা দেবে বান্দরবান সদর উপজেলায়।

বান্দরবান সদর উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস। সমঝোতা অনুযায়ী এই উপজেলায় জনসংহতি সমিতির প্রার্থী না থাকার বিষয় চূড়ান্ত থাকলেও জনসংহতি সমিতি নেতা জলি মং জানিয়েছেন, তিনি কোনো সমঝোতা মানবেন না। নির্ধারিত দিনে এবারও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

কালের কণ্ঠকে জলি মং বলেন, ‘গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনসংহতি সমিতির অনুরোধে এক পর্যায়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েও সমর্থকদের চাপে শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত থেকে তাকে সরে আসতে হয়েছে। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটলেও বিজয়ী প্রার্থীর সাথে তার ভোটের ব্যবধান ছিল কম।’

সংগঠনের সিদ্ধান্ত না মানলে বহিষ্কারের মতো ঘটনা ঘটবে কি না-জানতে চাইলে জলি মং বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে জনমতকে সম্মান দেওয়া সকল দল ও সংগঠনের দায়িত্ব। কেউ তা না করলে তিনি বহিষ্কারের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও নির্বাচনে লড়ে যাবেন।’

(এই প্রতিবেদনটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক কালের কন্ঠে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখের দ্বিতীয় রাজধানী পাতায় প্রকাশিত হয়েছে, পাহাড়টোয়েন্টিফোর  ডট কম এর পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি পুনঃপ্রকাশ করা হলো,কালের কন্ঠর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply