নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বিএনপি’র ১৮,আওয়ামীলীগের ১৯ আর জেএসএস’র ৯

বিএনপি’র ১৮,আওয়ামীলীগের ১৯ আর জেএসএস’র ৯

Sadar-cover-012৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্র নিয়ে নানান অভিযোগ করছেন। উপজেলার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩১টি কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ ও অধিক ঝুকিপুর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করলেও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এর সংখ্যা নিয়ে নানান বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি’র দাবি ১৮টি, আওয়ামীলীগের দাবি ১৯টি এবং জেএসএস’র দাবি ৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। আর ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রের ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হবে বলেও প্রার্থীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুল বাসেত অপু’র পক্ষে তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ শাহ আলম জানান, রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পৌর এলাকার ২টি এবং পৌর এলাকার বাইরে ১৬টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন। আর এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রবিবার জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

আওয়ামীলীগ সমর্থিক প্রার্থী জাকির হোসেন সেলিমের পক্ষে তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানান, উপজেলার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আর এসব ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর ইতোমধ্যেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি ।
জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী অরুন কান্তি চাকমার পক্ষে তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নীলোৎপল খীসা উপজেলার ৩৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ন হিসেবে চিহ্নিত করে জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানানো হবে।

তবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের মতে উপজেলার ৩১টি কেন্দ্রই ঝুকিপূর্ণ। কেন এসব কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন? এমন প্রশ্নে একেক প্রার্থীর অভিযোগ একেক রকম।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানান, ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ কেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং কেন্দ্র জবরদখল করে জেএসএস’র প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায় করা হয়েছে। যার কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক উপজেলায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রার্থী হওয়ার মত যোগ্য লোক থাকলেও প্রার্থীদের নির্বাচন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছিল। যার কারণে জুরাছড়ি উপজেলায় আওয়ামীলীগের কোনো প্রার্থী দেয়া হয়নি। অথচ বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিল। সদর উপজেলায় আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু জেএসএস’র অস্ত্রের মুখে দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে আমাদের কর্মী সমর্থকরা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবেন না বলে আমরা আশংকা করছি। আর এসব কেন্দ্র তারা দখল করে একচেটিয়া ভোট নিবে। যা গত সংসদ নির্বাচনে করেছিল। তাই এ ধরনের ১৯টি কেন্দ্রকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মোঃ শাহ আলম অনেকটা একই সুরে বলেছেন। তাদেরও দাবি জেএসএস অস্ত্রের মুখে কেন্দ্র জবরদখল করে একচেটিয়াভাবে ভোট নিবে। জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী হয়েও এই নিয়ে অনেকটা হতাশায়ও ভুগছেন। তার মতে পৌর এলাকার দুইটি উপজাতীয় অধ্যুষিত এলাকার ভোট কেন্দ্র এবং পৌর এলাকার বাইরে ১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছেন।

অপরদিকে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে উদয়ন ত্রিপুরার দাবি আওয়ামীলীগ যেহেতু ক্ষমতায় আছে সেহেতু তারা পেশিশক্তি এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে কেন্দ্রে জালভোট প্রয়োগ করবেন। তিনি বিগত সংসদ নির্বাচনে পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী এবং প্রার্থীর এজেন্টকে হামলা করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেন। এছাড়াও তার মতে পৌর এলাকার ৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা জালভোট প্রয়োগ করবেন বলেও অভিযোগ করেন।
আর এসব কেন্দ্রের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং অফিসার রফিকুল করিম নিশ্চিত করেছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে করোনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

রাঙামাটি শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে শহরের চম্পকনগর আইসোলেশন …

Leave a Reply