নীড় পাতা » বান্দরবান » বান্দরবান সদর হাসপাতালের বেহাল দশা

বান্দরবান সদর হাসপাতালের বেহাল দশা

Bandarban-Sadar-Hospitalকাগজে কলমে থাকলেও বান্দরবানে কর্মস্থলে থাকে না চিকিৎসকরা। একশ শয্যার বান্দরবান সদর হাসপাতালের বেহাল দশায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষেরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন দিয়ে চলছে সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। সরেজমিনে সদর হাসপাতাল পরিদর্শণ করে দেখা গেছে, সদর হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসকের কর্মস্থলে ডাক্তার রয়েছে মাত্র ৩ জন ডাঃ প্রবীর চন্দ্র বনিক, ডাঃ লোকেশ চন্দ্র দাশ এবং ডাঃ প্রত্যুষ পল ত্রিপুরা। খবর নিয়ে দেখাগেছে বাকী ৯ জন চিকিৎসক বান্দরবানেই নেই। ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রেজিষ্টার দেখতে চাইলেও দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে দায়িত্বশীলরা। দীর্ঘদিন থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসক-ঔষুধ সংকটের কারণে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় রোগীরা বাধ্য হয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানাগেছে, একশ শয্যার বান্দরবান সদর হাসপাতালে ডাক্তারসহ আনুসাঙ্গিক লোকবল রয়েছে ৫০ শয্যার সমমানের। বর্তমানে সদর হাসপাতালে কাগলে কলমে কর্মরত আছে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে ১২ জন, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ২২ জন, ষ্টাফ নার্স ৯ জন, সহকারী নার্স ৫ জনসহ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, ফার্মাসিষ্ট, হেলথ এডুকেটর, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ড্রাইভার এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ৭১ জনের কর্মস্থলে ৬৯ জন কর্মরত আছেন। নেই ১জন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ১জন হেলথ এডুকেটর। সরকার অনুমোদিত পদগুলোর মধ্যেও ডাক্তার, সিনিয়র-জুনিয়র নার্স, স্বাস্থ্য সেবিকা, টেকনোলজিষ্ট, অফিস সহকারী, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নকর্মীদের অনুপস্থিতি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। হাসপাতালে কর্মরত ১০ জন কনসালটেন্টের একজনও কর্মস্থলে থাকেন না। অঘোষিত নিয়মে কনসালটেন্টরা সপ্তাহের একবার করে আসার নিয়ম চালু করেছে হাসপাতালে। নিজেদের অঘোষিত নিয়মও মানে না কনসালটেন্টরা। কোনো কোনো কনসালটেন্ট মাসেও একবার আসে না বলে দাবী করেছে হাসপাতাল কর্তপক্ষ। এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাজী মুজিবুর রহমান জানান, নোংরা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে সদর হাসপাতালে খুবই নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শত চেষ্ঠা করেও সদর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে। বান্দরবানে বদলী হওয়া চিকিৎকরা কর্মস্থলে যোগ না দিয়েই পুনরায় অন্যত্র বদলী হয়ে যায়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন দিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালসহ জেলার সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিচালিত হওয়ার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। সদর হাসপাতালের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্বয়ং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লাও।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা সিভিল সার্জন মংতেঝ মারমা জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের অবস্থা সত্যিই ভালো নয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চেষ্টা করছি পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে। কিন্তু নানা সংকটের কারণে সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিগত সময়গুলোর তুলনায় বর্তমানে রোগীরা অনেক বেশি সেবা পাচ্ছে। সদর হাসপাতালের পরিবেশ অনেক বেশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বান্দরবান সরকারি কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাস …

Leave a Reply