নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের বেহাল দশা

বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের বেহাল দশা

Bandarban-Road-Pic_2বান্দরবান সড়ক ও জনপদের (সওজ) বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের আমতলী এলাকায় কার্পেটিং কাজ বছর না যেতেই সড়কের কার্পেটিং ও পাথর উঠে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণের মাত্র চার মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন জায়গায় ছোটছোট খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। সওজের প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সমন্বয় করে অর্ধকোটি টাকার কাজে অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কাজ করে কাজের বিপরীতে সর্ম্পূন টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদার,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সওজের ৮৬০ ফুটের রাস্তার মাটি ভরাট, কার্পেটিং, সিলকোড ও বেসটাইফ ওয়ান কাজে ৫০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে রিভাইস করে আরো ২৪০ ফুট বাড়িয়ে মোট এগারোশ ফুট নির্ধারণ করা হয়। ফুট বেড়ে যাওয়ায় টাকার পরিমাণও ৭ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বেড়ে মোট ৫৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ধার্য্য করা হয়। সওজের অধীনে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কে আমতলী এলাকায় ওই কাজে ১২ মিলিমিটার (এমএম) সিলকোর্ড ও বেসটাইফ ওয়ান ছয় ইঞ্চি ও ২৬ মেগাডম করার কথা রয়েছে। টমি এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারী লাইসেন্সে কাজ পায় শিমুল কান্তি দাশ, শিবু ও অমিত গ্রুপ। নির্ধারিত সময়ে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও কাজটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই কাজের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মির্জাকে। তার তত্ত্বাবধানেই অর্ধকোটি টাকার কাজটি সম্পন্ন হয়। রোববারও সরজমিন ঘুরে দেখাগেছে, বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের আমতলী এলাকায় ১১শ ফুটের কার্পেটিং করা কাজ অল্প সময়ের মধ্যে পাথর-সুরকি উঠে গেছে। রাস্তার পাথর ও সুরকি উঠে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশের পাথর উঠে যাওয়ায় বুঝার উপায় নেই কাজটি চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসেই শেষ করা হয়েছে। কার্পেটিং কাজ চার মাস না যেতেই রাস্তার এই দশা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দার মোহাম্মদ বাবুল, ইলিয়াছ’সহ কয়েকজন বলেন, কার্পেটিং যেখান থেকে শুরু এবং শেষ করা হয়েছে সবস্থানেই পুরো রাস্তায় কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কাজের নামে অর্থ লোপাট করেছে সড়ক বিভাগ। তবে কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবী করা হলেও ছয় মাস না যেতেই এত তাড়াতাড়ি রাস্তার ক্ষতি হওয়ার কারণ সর্ম্পকেও কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি সওজ বিভাগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপদ বিভাগের কয়েকজন ঠিকাদার ও অফিস সূত্রে জানাগেছে, কোটি টাকার কাজে বিশাল অনিয়ম হয়েছে। ওই কাজের প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সমন্বয় করে এই অনিয়ম করেছে। সিলকোড ১২ এমএম করার কথা থাকলেও সেখানে করা হয়েছে ৭-৮ এমএম। বেসটাইফ ওয়ান ছয় ইঞ্চির স্থলে করা হয়েছে দুই ইঞ্চি। পাথরের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে ইটের কংক্রিট। অফিসিয়ালী দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মির্জা ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অনিয়ম করেছেন। অনিয়ম আর দুর্নীতি সঙ্গে জড়িত হয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ মির্জা আজ কোটি টাকার মালিক বলে জানা গেছে। কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাজ থেকে শতকরা ২০ পার্সেন্ট টাকা নিয়েছেন। এই কাজের পার্সেন্টিসের একটি বিশাল অংকের টাকা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফজলুল হক ভাগিয়ে নিয়েছেন।

ঠিকাদার শিমুল কান্তি দাশ, শিবু ও অমিত বলেন, নি¤œমানের কাজ তারা কখনো করেননি। ঠিকাদার হিসেবে তাদের বেশ সুনাম রয়েছে। তবে ছয় মাস না যেতেই কি কারণে পাথর-সুরকি উঠে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তারা।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বান্দরবান সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফজলুল হক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মির্জা জানান, সঠিকভাবে কাজ ঠিকাদারদের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়েছে। কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোনো কমিশন বা ঘুষ নেননি। তবে ছয় মাস না যেতেই সড়কের পাথর-সুরকি উঠে যাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় ব্রেক ধরা এবং পাবলিকেরা রাস্তার উপর ভেজা জাতীয় জিনিস শুকাতে দেয়া’কে দায়ী করেছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লামায় তক্ষকসহ ৩ পাচারকারী আটক

পাচারকালে বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে ৫টি তক্ষকসহ ৩ পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার …

Leave a Reply