বান্দরবানে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

22অব্যাহত বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানে গত কদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ তৃতীয়দিনের মত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে রুমা, থানচি, লামা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষও। বন্যার পানিতে সড়ক ও বেইলি ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কেও ৩ দিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ৪৮ ঘন্টায় বান্দরবানে ২৯৪ মি:মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গতবুধবার থেকে টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে জেলা সদর, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি এবং আলীকদম উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তবে সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত থেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যা দুর্গত অঞ্চলের শতশত পরিবার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা ৭০টি আশ্রয় কেন্দ্রে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খোলা হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম। অব্যাহত বর্ষণে জেলা সদরের বনরূপা পাড়া, হাফেজঘোনা, পুলপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে বান্দরবানে গতকদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ কামাল, শামসুল আলম জানান, পাহাড় ধসে রুমা, থানচি সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় দুদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এদিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পশ্চিম বরদুয়ারা এলাকায় প্রধান সড়কে বন্যার পানি জমে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের তৃতীয়দিনের মত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে লামা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষও। বন্যার পানিতে সড়ক ও বেইলি ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কেও তিনদিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী দুটি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী হতদরিদ্র মানুষদের ১৫টি ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে নদী তীরবর্তীরা মানুষেরা। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বন্যা দুর্গত খতিজা কেগম, ছলিমুল্লাহ, মোহাম্মদ আলী জানান, বৃষ্টিতে বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গত ২/৩ ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে কষ্টে জীবন যাপন করছি। কোনো খাবার ও ত্রান পায়নি। এমনকি খাবার বিশূদ্ধ পানিও দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র সেনাবাহিনী ওষূধ এবং সামান্য খাবার চিড়া দিয়েছিল।

পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানান, বন্যা এবং পাহাড় ধসে বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নানা প্রতিকূলতায় ত্রান সামগ্রী দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সোমবার দুপুর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দুর্গতদের খিঁচুড়ি এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বন্যা দুর্গতদের মাঝে খাবার সামগ্রি এবং ত্রাণ তৎপরতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বান্দরবানের জন্য ১২৫ মে: টন খাদ্যশস্য এবং ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের সাহাযার্থে প্রতিটি উপজেলায় ৩৫ মে: টন খাদ্যশস্য এবং ৭০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজণীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় দু’হাজার ৬৮৬ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গতদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply