নীড় পাতা » বান্দরবান » বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

Bandarban-Tourist-PiC_3প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে বান্দরবানে ঢল নেমেছে পর্যটকের। দেশী-বিদেশী পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। তিল ধারণের ঠাই নেই ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস এবং গেস্টহাউসগুলোতে কোনো সিট খালি নেই। এক সিটে ডাবলিং করেও থাকছে পর্যটকরা। কোথাও সিট না পেয়ে দূর্গমাঞ্চলে পাহাড়ীদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিচ্ছে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটকেরা ভীড় জমাচ্ছে এখানে। ছুটে বেড়াচ্ছে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো’সহ পাহাড়ী পল্লীগুলোতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বৈচিত্রময় জীবন-সংস্কৃতি উপভোগে।

তবে অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন স্পটগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ করেছে পর্যটকেরা। বেড়াতে আসা পর্যটক ডা: কফিল উদ্দিন এবং রাসেল অপূর্ব জানান, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন এবং ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে আরো সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, স্বর্ণ মন্দির’সহ এখানকার পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মত। প্রকৃতি এখানে নিজেকে মেলে ধরেছে আপন সাঁজে। তবে পর্যটকবাহী পরিবহণগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং একইস্থানে দু’দফায় টিকেট-টোল আদায়ের কারণে বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। ছোটখাটো সমস্যাগুলো পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। প্রশাসন’সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরো কঠোর নজরদারী দরকার।

পালকি গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার আব্দুর রহিম টিপু এবং হোটেল গ্রীণ ল্যান্ডের পরিচালক কাওছার সোহাগ জানান, ঈদের পরদিন থেকেই তাদের গেষ্টহাউজ-হোটেলের সবগুলো রুম বুকিং রয়েছে। বুধবার ৮ অক্টোবর থেকে দশ অক্টোবর পর্যন্ত বান্দরবানের কোথাও কোনো রুম খালি নেই। দীর্ঘদিন পর পর্যটকের ভীড় বাড়ায় পর্যটন ব্যবসাও জমে উঠেছে। এদিকে রুপের রাণী বান্দরবানের পর্যটন স্পট নালাচল, মেঘলা, নীলগিরি, স্বর্ণ মন্দির, রিজুক ঝর্ণা, শৈল প্রপাত, চিম্বুক, বগালেক, নাফাকুম, বাদরগুহা, রেমাক্রী বড়পাথর এবং পর্বত চূড়া ক্যাওক্রাডং’সহ জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকের পদভারে এখন মুখরিত। কোথাও তীল ধারণের ঠাই নেই। সাঙ্গু নদী পথে ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে পর্যটকদের। শৈল প্রপাত এবং রিজুক ঝর্ণার স্বচ্ছ পানিতে গাঁ ভাসাচ্ছে পর্যটক তরুন-তরুনীরা। স্থানীয় ভিন্ন ভাষার এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্রময় জীবন ধারণ এবং ঐতিহ্য-সংস্কৃতি দেখতে দূর্গমাঞ্চলে পাহাড়ী পল্লীগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে পর্যটকরা। অর্থের বিনিময়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থাও করে দিচ্ছে পাহাড়ীরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কে.এম তারিকুল ইসলাম জানান, পর্যটন শিল্পের অনেক উন্নয়ন হয়েছে বান্দরবানে। ঈদ’সহ বিভিন্ন উৎসবগুলোতে পর্যটকের বাড়তি চাপ দেখা যায় এখানে। স্থানীয় পাহাড়ীরা পর্যটকদের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। কারণ তারা জানেন পর্যটকের আগমন বাড়লেই তাদের উৎপাদিত পণ্যের বেচা-বিক্রি বাড়বে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান কুজেন্দ্রের

কভিড-১৯ মহামারী উত্তরণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য …

Leave a Reply