বান্দরবানে ঘরে ফিরছে দুর্গতরা

Bandarban-Flood-NewPic_1বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাহামুহুরী নদীর পানিও কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বান্দরবানে সদর, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিন্মাঞ্চলের অনেকস্থানে এখনো বন্যার পানি রয়ে গেছে। দূর্গতদের অভিযোগ সরকারের পক্ষে ত্রান বরাদ্দ দেয়া হলেও এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পায়নি তারা।

রোববার প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বানের পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরছে মানুষ। ঘরের মধ্যে বন্যায় জমে যাওয়া কাদামাটি এবং ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে ব্যস্ত দেখা গেছে দূর্গতদের। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকার মানুষের দূর্ভোগ আরো বেড়েছে। ঘরের ভিতরে কাদামাটি এবং খাবার বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা গেছে। টিওবওয়েল এবং রিংওয়েল গুলো বানের ময়লা পানিতে তলিয়ে এ সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে বান্দরবানে প্রায় পঞ্চাশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দূর্গতদের সাহাযার্থে ১০ লক্ষ টাকা এবং ১৫০ মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ত্রান বিতরণ কার্যক্রম আজও শুরু করেনি প্রশাসন। পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দূর্ভোগ কিন্তু আরো বেড়েছে। খাবার পানি এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরের ভিতরে কাদামাটি এবং ময়লা আবর্জনায় ভুরপুর হয়ে যাওয়ায় তা পরিস্কার করতে দিন যাচ্ছে। কিন্তু সরকারীভাবে এখনো ত্রান তৎপরতা শুরু হয়নি।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বন্যা দূর্গত সেলিনা খাতুন, মোহাম্মদ সিরাজ’সহ অনেকে জানান, আশ্রয় কেন্দ্রেও পর্যাপ্ত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি মিলছে না দূর্গতদের। সরকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে খাবারগুলো খাওয়ার উপযুক্ত ছিলোনা। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয়নেয়া অনেক মানুষই খাবার গ্রহণ করেনি। বন্যা ও পাহাড় ধসে মানুষ দূর্ভোগ পোহালেও সরকারীভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা আজও পায়নি।

এদিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বরদুয়ারা এলাকায় প্রধান সড়কের উপর থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি, রুমা, থানছি এবং লামা-সূয়াল অভ্যন্তরিন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় সড়কগুলো যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী জানান, লামায় বন্যায় ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা শহরের বন্যার পানি নামলেও নিন্মাঞ্চলের অনেকস্থানের মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে এখনো অবস্থান করছে কয়েক হাজার মানুষ। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএসএম শাহেদুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাইশারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম, ঘুমধুম ইউনিয়নের দুটি গ্রাম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দৌছড়ি এলাকায়। বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় বন্যা পানি পুরোপুরি নেমে গেছে। বন্যায় ঘরের কাদামাটি এবং ময়লা জমে যাওয়ায় ঘরে ফেরা দূর্গম মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে আরো কয়েকগুন। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে।
জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, দূর্গতদের প্রয়োজনীয় খাবার দেয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দূর্গতদের সাহাযার্থে ১০ লক্ষ টাকা এবং ১৫০ মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দূর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭০ হাজার টাকা ও ৫০ মেট্টিকটন চাল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply