নীড় পাতা » বান্দরবান » বান্দরবানে কেন্দ্র দখল, গুলি ও সংঘর্ষে আহত ৯

বান্দরবানে কেন্দ্র দখল, গুলি ও সংঘর্ষে আহত ৯

Bandarban-Vot-PiC_06বান্দরবানে ছয়টি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, হামলা এবং সংঘর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী’সহ ৯ জন আহত হয়েছে। শনিবার ভোট চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার ছয়টি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ২২৭টি ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সকালে আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দুপুরে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে একতরফা জালভোট দিয়েছেন। এসময় বহিরাগতদের সংঘর্ষে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুচ্ছফা মাস্টারের সমর্থকদের সংঘর্ষ বাঁধে। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুচ্ছফা মাস্টার’সহ ৬ জন আহত হয়। অপরদিকে ফাইতং ইউনিয়নের দৈল্লারছড়ি এবং নয়াপাড়া ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে গোলাগুলি করে দুটি কেন্দ্র দখল করে নেয় বহিরাতগরা। এসময় বহিরাগতদের হামলায় এজেন্ট’সহ ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দুটির ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ ছিল। বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপকভাবে জালভোট দিয়ে ভোট বাক্স ভর্তি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুচ্ছফা মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে একতরফা জালভোট দিয়েছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরণের ভূমিকা রাখেনি। আমি এ অনিয়মের নির্বাচন বর্জন করছি।
এদিকে দুটি ইউনিয়ন ছাড়াও জেলার অন্যান্য ২৩টি ইউনিয়নে বড় ধরণের কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকাল থেকেই জেলার রেইছা, সূয়ালক, মাঝেরপাড়া স্কুল ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জেলার দূর্গম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ২৬টি ভোট কেন্দ্র’সহ ২২৭টি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ৩০জন ম্যাজিষ্ট্রটের নেতৃত্বে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। এছাড়াও ষ্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি-র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষনিক টহলে ছিলেন। জেলার ২৫টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপি মনোনীত এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৯৪ জন প্রার্থী। এছাড়াও সাধারণ ওয়ার্ডে ৭০৮ জন ইউপি এবং সংরক্ষিত পদে ২১৬ জন নারী সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ইউনিয়নগুলোতে মোট ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮১৪ জন। তারমধ্যে পুরুষ ৭১ হাজার ৭১৪ জন এবং নারী ভোটার ৬৭ হাজার ১০০ জন ভোটার রয়েছে। মোট ভোট কেন্দ্রর সংখ্যা ২২৭টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫৩২টি।
জেলা নির্বাচন অফিসার শফিকুর রহমান জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া জেলার ২৫টি ইউনিয়নেই নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। শান্তিপূর্নভাবে ভোট গ্রহণ শেষে এখন ভোট গননার কাজ চলছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply