নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » বান্দরবানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে ধুম্রজাল

বান্দরবানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে ধুম্রজাল

বান্দরবানে করোনা পজিটিভ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (পিসিআর ল্যাবের) পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার শনাক্ত রোগীর তথ্যের সঙ্গে বান্দরবানের স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষিত তালিকায় গড়মিল রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও। জনমনে ছড়াচ্ছে নানা ধরণের বিভ্রান্তি। এনিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বান্দরবান জেলায় গত রোববার পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবমতে শনাক্ত পজিটিভ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৩ জন। তারমধ্যে সদর ৩০ জন, লামা ১২ জন, আলীকদম ১ জন, রুমা ৫ জন, থানচি ৪ জন, রোয়াংছড়ি ১ জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ১০ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন টিএন্ডটি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. শাহাজাহান নামে ১ জন। তবে কক্সবাজার পিসিআর ল্যাব ও চট্টগ্রাম ল্যাবের পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর তালিকা অনুসারে ৬৮ জন। মহামারিতে অসুস্থ মানুষেরা পার্শ্ববর্তী সুবিধাজনক স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে নমুনা দেয়ায় সনাক্ত হওয়া ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর নাম সনাক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফলে কক্সবাজার ল্যাবের পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার শনাক্ত রোগীর তথ্যের সঙ্গে বান্দরবানের স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষিত তালিকায় গড়মিল রয়েছে। তবে ল্যাবে সনাক্ত রোগীর তালিকায় বান্দরবান জেলা এবং ঠিকানায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে নমুনা দেয়ায় বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নসহ আশপাশেরর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজলার পজিটিভ শনাক্ত রোগীদের জেলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে কক্সবাজার ল্যাবের তালিকায় ঠিকই বান্দরবান জেলার শনাক্ত রোগী হিসাবে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। কিন্তু বাদ পড়া শনাক্ত এসব রোগীরা কক্সবাজার জেলার তালিকায়ও তালিকাভুক্ত নেই। যে কারণে তাদের চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বাস্তবায়নটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ফলে তথ্য গোপন করে অবাধে চলাফেলা করা রোগীদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের শঙ্কাটা বেড়ে যাচ্ছে ক্রমশ। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষেরা। শনাক্ত রোগী নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরণের ধুম্রজাল। স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগও করেছেন অনেকে।

সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (পিসিআর ল্যাবের) অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া জানান, নমুনা কোথায় দিয়েছে, সেটি বড় বিষয় নয়। যেহেতু তারা বান্দরবান জেলায় বসবাসকারী মানুষ, ঠিকানা মোতাবেক তারা বান্দরবান জেলার রোগী হিসাবেই চিহ্নিত হবে। তারা ব্যবস্থা না নিলে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে না। ফলে এসব শনাক্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশনাও কার্যকর করা যাচ্ছে না। তথ্যগোপন করে আক্রান্ত রোগীরা এলোমেলো ঘোরাফেরা করবে, তাদের মাধ্যমে ঘরে-বাইরে আরও অনেকে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কাতো রয়েছেই। বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত হবে, তাদের চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যসেবা ও বিধি নিশ্চিত করা। তবে আমরা মঙ্গলবার থেকে লিফলেট ছড়িয়ে দিচ্ছি আনাচে-কানাচে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরী টিপু বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ দায়িত্ব নিয়ে চিহ্নিত না করায় সীমান্তবর্তী শনাক্ত রোগীরা তথ্যগোপন করে ঘরে-বাইরে ইচ্ছামত ঘোরাঘুরি করছে। তাদের মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রথম দুজন করোনা রোগী শনাক্তের খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু খোঁজখবর আর তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখা গেছে ১ জন বান্দরবানের ঘুমধুমের বাসিন্দার। তথ্যগোপন করে সে রোহিঙ্গা স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে নমুনা দিয়েছিল। পজিটিভ সনাক্ত হওয়ার পর তাকে খোঁজে পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে সবার। এরপরও আরও ৩/৪ জন রোগী কক্সাবাজার ল্যাবে সনাক্ত হলেও বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেনি। ফলে তাদের চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য বিধি কার্যকর যাইনি।

বান্দরবানের বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় দরকার। সমন্বয় না থাকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে গড়মিল তৈরি হচ্ছে। শনাক্ত রোগীদের কেউ কেউকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। যেহেতু সিভিল সার্জন নানা কারণে ব্যস্ত থাকেন, তাই স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র দরকার। যে বিষয়গুলো তদারকি করবেন। শনাক্ত রোগীদের চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছেন কিনা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিভাগ কিছুটা উদাসিন মনোভাবে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রু মারমা জানান, চিহ্নিত করা না গেলে সংক্রমণ ছড়ানো স্বাভাবিক। ভুলটি কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগের। যেহেতু আমরা নমুনা নেইনি, ল্যাবেও পাঠায়নি, তাহলে তাদের দায়িত্ব বান্দরবান স্বাস্থ্য কিভাবে নিবে। তাদের কোনো তথ্যতো আমাদের কাছে নেই। যে কারণে শনাক্তের তালিকায় বান্দরবান তারা অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে না। তাদের দায়িত্বটা কক্সবাজারের নেয়া উচিত। তবে বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে চিকিৎসার জন্য আসলে আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য মেনে চলার নির্দেশনা কার্যকরে বিষয়টিও নিশ্চিত করছি। কক্সবাজারের সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলেছি। যাতে রোহিঙ্গা স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে নমুনা দেয়া বান্দরবানের বাসিন্দাদেরও যেন চিকিৎসার সেবার দায়িত্ব নেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাই হ্রদে ডুবে ২ কিশোরের মৃত্যু

রাঙামাটি শহর লাগোয়া কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে বন সংরক্ষকের পুত্রসহ দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। …

Leave a Reply