নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » বান্দরবানে আওয়ামীলীগ নেতার কান্ড

বান্দরবানে আওয়ামীলীগ নেতার কান্ড

Bandarban-Krching-Marmaপাহাড়ে মসলা চাষের নামে অগ্রণী ব্যাংকের ঋনের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে । স্থানীয় সহজ সরল পাহাড়ী চাষীদের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার নিবারন তঞ্চঙ্গ্যার যোগসাজশে বিশাল অংকের এই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী  চাষীরা। এই বিষয়ে স্থানীয় কৃষকেরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন অভিযুক্ত বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাচিং অং মারমা। তবে বিষয়টি ভূক্তভোগি চাষীরা জেনে যাওয়ায় তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পিনা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত একটি সূত্র। ফলে দরিদ্র চাষীরা পড়েছেন অজানা শংকায়।

ভুক্তভোগি চাষীরা অভিযোগ করেছেন, বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাচিং অং মারমা এবং অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার নিবারন তঞ্চঙ্গ্যা আতাঁত করে স্থানীয় প্রায় দুশতাধিক পাহাড়ী চাষীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রায় দেড়কোটি টাকার ঋন নিয়ে তা  আত্মসাত করেছে।

সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের কানাইজো পাড়ার বাসিন্দা থুইসা চিং মারমা, মংসিনু মারমাসহ কয়েকজন জানান, দুই- তিন বছর ধরে আওয়ামীলীগ নেতা ক্যচিং অং মারমা পাড়ায় এসে সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরীহ পাহাড়ী চাষীদের কাছ থেকে ছবি, জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ব্যাংক ঋণ পরিশোধের নোটিশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগিরা জানতে পারেন তাদের নামে বিশাল অংকের টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা থুইসাচিং মারমা জানান, তার নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ক্যাচিং অং মারমা)আদা-হলুদ চাষের বিপরীতে ৭০ হাজার টাকার ঋণ দেখিয়েছে। একইভাবে পাড়ার অসংখ্য মানুষের নামে বিশাল অংকের ব্যাংক ঋণ নেয়া হয়েছে। যা এখনো অনেকেই জানে না।

আমতলী পাড়ার বাসিন্দার হ্লামং চিং মারমা জানায়, তার নামেও ৮০ হাজার টাকার ঋণ নেয়া হয়েছে। সরকারীদল আওয়ামীলীগের মানুষ ক্যচিং অং মারমা তাদেরকে বোকা বানিয়ে অশিক্ষিত সহজসরল চাষীদের নাম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ গ্রহন করে স্থানীয় চাষীদের ফাসিয়ে দিতে চাইছে। এই টাকা দিয়ে অভিযুক্ত ক্যচিং অং মারমা চেমীডলুপাড়া ও গুংগুরু পাড়ায় দুটি আলিশান বাড়ী নির্মাণ করেছে। ঋণ আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অভিযুক্ত ক্যচিং অং মারমা বিদেশে পালিয়ে প্রস্ততি নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে জাপান যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই পাসপোর্টও বানিয়েছে।

এদিকে ঋণ কেলেংকারীর মূলহোতা ক্যাচিং অং মারমার বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগিরা জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে বান্দরবান ছেড়ে যেতে না পারে এবং দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন ভূক্তভোগীদের।
এদিকে স্থানীয় পাহাড়ীদের নামে ঋণ নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে আওয়ামীলীগ নেতা ক্যাচিং অং মারমা জানান,  নিজের ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের নামে ব্যাংক থেকে বেশকিছু টাকা ঋন নিয়েছি। যথাসময়ে ঋণের টাকাও পরিশোধ করব।’ তবে হতদরিদ্র চাষীদের না জানিয়ে ঋণ গ্রহণে করেছেন কেনো,এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
অপরদিকে অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক স্বপন কুমার ধর জানান, ঋণ কেলেংকারীর কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। উধর্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেপরোয়া হয়ে উঠছে তুমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত জেলা পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এখনো ৬৩৩ পরিবারের …

Leave a Reply