নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বান্দরবানে আওয়ামীলীগের থানা ঘেরাও, পুলিশের লাঠি চার্জ,গ্রেফতার ২

বান্দরবানে আওয়ামীলীগের থানা ঘেরাও, পুলিশের লাঠি চার্জ,গ্রেফতার ২

Bandarban-Police-PiC_2বান্দরবানে কৃষকলীগের হামলায় সদর থানা পুলিশের এসআই এনাম আহত হয়েছে। এসময় আটক পৌর কৃষকলীগের সেক্রেটারী আবুল বশর’কে ছাড়িয়ে সদর থানা ঘেরাও করে কৃষকলীগ’সহ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত। এই ঘটনায় পৌর কৃষকলীগের সেক্রেটারী আবুল বশর এবং যুবলীগ নেতা মো: কবির’কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সুয়ালকে মদ্যপান করে সাবেক এক ইউপি মেম্বার’কে জুতা মারেন আওয়ামীলীগের কর্মী রুন্জু। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবাররাতে সদর থানার গেইটে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ঝগড়া থামাতে গেলে সদর থানার এসআই এনামের উপর চড়াও হয় কৃষকলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা এবং কৃষকলীগের পৌর কমিটির সেক্রেটারী আবুল বশর পুলিশ অফিসারকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা এসে কৃষকলীগ নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আটক নেতাকে ছাড়িতে নিতে কৃষকলীগের জেলা সভাপতি প্রজ্ঞাসার বড়–য়া পাপন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা এবং যুবলীগ নেতা মো: কবিরের নেতৃত্বে কৃষকলীগ’সহ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরারা জড়ো হয়ে থানা ঘেরাও করে। স্লোগান এবং মিছিলে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সদর থানা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে সকলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাজী মুজিবুর রহমান উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এখানে সাংবাদিকের কাজ কি জিজ্ঞাসা করেন সংবাদকর্মীদের কাছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের দলীয় লোক নয় বলে অস্বীকার করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত অনেককেই আমি চিনি, যারা জামায়াত-বিএনপির লোকজন। সাংবাদিকরাও উপস্থিত হয়েছেন, আওয়ামীলীগ’কে বাঁশ দেয়ার জন্য। পরক্ষনেই তিনি আবার বলেন, এখানে আওয়ামীলীগের যারা আছেন, সকলে বাড়িতে চলে যান এবং নিশ্চিন্তে ঘুমান।’

এদিকে পুলিশ অফিসারের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। উক্ত মামলায় রাতেই সাতকানিয়া থেকে যুবলীগ নেতা মো: কবিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত পৌর কৃষকলীগের সেক্রেটারী আবুল বশর এবং যুবলীগ নেতা মো: কবির দুজনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, মীমাংসিত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ অফিসারের উপর হামলা এবং আসামী ছাড়িয়ে নিতে সদর থানা ঘেরাও করার ঘটনা দু:খজনক। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আবুল বশর এবং মো: কবির দুজনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাজার তদারকিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক

নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউের সংক্রামন রোধে চলমান লকডাউনে ও রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে …

Leave a Reply

%d bloggers like this: