নীড় পাতা » খেলার মাঠ » বান্দরবানের সোনার মেয়ে ড থুই প্রু মারমা

বান্দরবানের সোনার মেয়ে ড থুই প্রু মারমা

DO-THUI-PRUEড থুই প্রু মারমা, জাতীয় সাঁতারে এ নামটাই মনোযোগ আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট। আদিবাসী মেয়েদের সেভাবে সাঁতারে দেখাই যায় না। ড থুই প্রু শুধু অংশই নিচ্ছে না, বয়সভিত্তিক সাঁতারের উদ্বোধনী দিনেই জিতে নিয়েছে চারটি সোনা। ১২টি ইভেন্টের সবকটিতেই সোনা জেতার লক্ষ্য  বান্দরবানের এই মেয়ের । তার ‘ই সাক্ষাৎকার-

প্রশ্ন : ‘আদিবাসী’ মেয়েদের সাঁতারে তো সেভাবে দেখা যায় না। তোমার উঠে আসাটা কিভাবে হলো? এত ভালোই বা করছ কিভাবে?

ড থুই প্রু মারমা : আমার বাড়ি বান্দরবানের থানচিতে। বাড়িতে থাকতে আমি সাঁতার জানতামই না। নদীতে গোসল করেছি, কিন্তু কখনো সাঁতার কাটিনি। সাঁতার শিখেছি বিকেএসপিতে এসে। আমার চাচাতো ভাই আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে দেন। এখানকার স্যারদের কাছেই আমার প্রথম সাঁতার শেখা। পানিতে নামতে প্রথম প্রথম খুব ভয় লাগত, আস্তে আস্তে সে ভয় কেটে গেছে।

প্রশ্ন : এবার প্রথম দিনই চারটি সোনা জিতলে, তার মানে তুমি অনেক ভালো সাঁতারুও হয়ে গেছে, সেটা কিভাবে?

ড থুই প্রু : অনুশীলন করতে করতেই হয়েছে। বিকেএসপিতে ট্রায়ালের দিনই স্যাররা বলেছিল আমাকে দিয়ে সাঁতার হবে। কারণ আমার শরীর গড়নটাই এমন যে আমি সহজে ভেসে থাকতে পারি। সাঁতারু হব আমি নিজেও কখনো ভাবিনি। কিন্তু এখন খুব ভালো লাগে সাঁতার কাটতে। প্রতিযোগিতা তো আলাদা ব্যাপার। বাড়িতেও মেয়েরা সাঁতার কাটে, কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামলে ওরা আমার সঙ্গে পারবে না।

প্রশ্ন : তোমাকে দেখে ওরাও কি এখন সাঁতারে আসতে চায়?

ড থুই প্রু : হ্যাঁ, আমার বান্ধবীদের অনেকেই বলেছে ওরা সাঁতারে আসতে চায়। আমাদের ওখানকার মেয়েরা ফুটবল, আর্চারি, তায়কোয়ান্দো, কারাতেতে অনেক ভালো করে। কিন্তু সাঁতারে নেই। সেভাবে আমাদের ওখানে কেউ শেখায় না তো। নিজে নিজে সাঁতার কাটা আর প্রতিযোগিতা তো এক না।

প্রশ্ন : তুমি এ পর্যন্ত কয়টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছ?

ড থুই প্রু : এটা আমার চতুর্থ প্রতিযোগিতা। ২০১১-তে প্রথমবার যখন অংশ নিয়েছি তখন ভালো পারতাম না। তার পরও একটা ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। পরেরবার তিনটা ব্রোঞ্জ জিতি। আর ২০১৩ সালে জিতেছি চারটি সোনা।

প্রশ্ন : আর এবার এক দিনেই জিতলে চার সোনা, লক্ষ্য কী? আর কয়টা ইভেন্টে অংশ নেবে?

ড থুই প্রু : আমার তো ইচ্ছে আছে সবগুলোতেই সোনা জিতি। মোট ১২টি ইভেন্টে আমি অংশ নেব। ১২টিতেই সোনা জিততে চাই।

প্রশ্ন : তোমার কি এখন বড় সাঁতারু হওয়াই লক্ষ্য?

ড থুই প্রু : হ্যাঁ, বিকেএসপিতে যত দিন আছি সাঁতারই তো করব। স্যারও বলেছেন, আমি চেষ্টা করলে আরো ভালো করতে পারব। আমারও নিজেরও এখন স্বপ্ন বড় সাঁতারু হওয়ার। রোমানা আপু, সোনিয়া বিকেএসপির নামকরা সাঁতারু। তাঁদের মতো তো আমি হতে চাই-ই, জাতীয় দলেও আমার খেলার স্বপ্ন।

( দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত এই সাক্ষাতকারটি কালের কন্ঠের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো )

 

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাজার তদারকিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক

নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউের সংক্রামন রোধে চলমান লকডাউনে ও রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে …

Leave a Reply