বাঘাইছড়ির সড়কে বাড়ছে অবৈধ ট্রাক্টর

p.1রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৌর এলাকায় সড়কগুলোতে অবৈধ ট্রাক্টর (স্থানীয় ছয় চাকা গাড়ি) বেড়েই চলেছে। ট্রাক্টর চালকদের বেপরোয়া গতি ও মাটি-বালু পরিবহনের সময় ধুলা ও বালু উড়ে আসায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর শহরে ৪৫ থেকে ৫০টি ট্রাক্টর জমিতে হাল চাষ করার জন্য কেনা হয়েছে। কিন্তু তা না করে মাটি, বালু ও সংরক্ষিত বন থেকে কাঠ পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিলাভের আশায় এক শ্রেণি অসাধু ব্যবসায়ী পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের কাজ করেন। গত তিন বছর আগে পাহাড় কাটা কড়াকড়ি হওয়ায় এখন নিচু জায়গা ভরাট করার জন্য টিলা কেটে ও ফসলির জমির মাটি পরিবহন করছে। এছাড়া সংরক্ষিত বন থেকে জ্বালানির জন্য বিভিন্ন প্রজাতির কাঠও পরিবহন করছে। এসব কাঠ তামাক চুল্লি ও ইট ভাটাই ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার বনের গাছ কাটা হচ্ছে উজাড় হচ্ছে বন। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাক্টর মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে মাত্র চার থেকে পাঁচটি ট্রাক্টর হাল চাষের কথা বলে বাঘাইছড়ি উপজেলা আনা হয়। গত পাঁচ বছরে এখন তা দাঁড়িয়ে ৪৫ থেকে ৫০টি হয়েছে। কিন্তু একটিও হাল চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে সড়কগুলোতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে। পৌর এলাকায় অর্ধশতাধিকের বেশি ট্রাক্টর চালক রয়েছেন একজনের লাইসেন্স নেই। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেননি। সেজন্য ট্রাক্টর দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। গত সাত বছরে ২০ থেকে ২১ জন মানুষ মারা গেছে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। এছাড়া ট্রাক্টরের বিকট শব্দে আবাসিক এলাকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘœ ঘটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্রাক্টর চালক মো. আরিফ বলেন, আমি এক বছর ধরে সড়কে ট্রাক্টর চালাচ্ছি। লাইসেন্স কিংবা কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়নি। এখানে অর্ধশতাধিক ট্রাক্টর চালক রয়েছে কেউ প্রশিক্ষণ নেননি বলে তিনি জানান।

ট্রাক্টরের মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, আমি একটি ট্রাক্টর হাল চাষের জন্য কিনেছি। এলাকায় চাহিদার কারণে বালু, ইট ও জ্বালানি কাঠ পরিবহন করি। পৌর এলাকায় ৫০ থেকে ৫২টি ট্রাক্টর চলাচল করে। একটিও সড়কে চলাচলের অনুমতি নেই বলে তিনি জানান।
বাঘাইছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, সড়কে যে ট্রাক্টরগুলো চলাচল সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া চালকদের কোনো লাইসেন্সও নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এখানে স্থানীয় সড়কগুলো তিন থেকে চার টন ওজনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী। কিন্তু ট্রাক্টরগুলো চলে আট থেকে দশ টন ওজন মালামাল নিয়ে। সেজন্য সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা ট্রাক্টগুলো চলাচলের নিষেধ করতে পারি না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply