নীড় পাতা » ব্রেকিং » বাঘাইছড়িতে ৯ মাসে ১৩ খুন

বাঘাইছড়িতে ৯ মাসে ১৩ খুন

পাহাড়ি গ্রাম/ প্রতীকী ছবি

পাহাড়ে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। আবারও সবুজ পাহাড় রক্তে লাল হলো। তিন পার্বত্য জেলায় আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তার, এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত সংঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু সাধারণ মানুষও।

চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে গত বুধবার পর্যন্ত আয়তনে রাঙামাটির সবচে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বাঘাইছড়িতে আঞ্চলিক রাজনীতির ‘জিঘাংসার শিকার’ হয়ে ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত ৩০/৩৫ জনের মতো। এসব ঘটনায় পাহাড়ের আঞ্চলিকদলগুলো একে-অপরকে দায়ী করা রীতিমত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

এ সময়ে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন। এদিন উপজেলার সাজেক তিন কেন্দ্র কেন্দ্রে ভোট শেষে নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারীদের ওপর সন্ত্রাসী হমলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল নয়মাইল এলাকাটি প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এরপর গত ১১ আগস্ট বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার বাবুপাড়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সহযোগী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শতসিদ্ধি চাকমা ও উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এনো চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারিতে একই এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুব সমিতির নেতা বসু চাকমাকে।

সবশেষ গত বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম গ্রাম নবছড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী রিপেল চাকমা (২৫) ও বর্ষণ চাকমাকে (২৪) হত্যা করা হয়েছে। জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) বাঘাইছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জ্ঞান জীবন চাকমা এ ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করেন।

বাঘাইছড়ি থানার ইনচার্জ (ওসি) এমএ মনজুর বলেন, বুধবার মধ্য রাতে এই ঘটনা ঘটে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে এলাকাটি খুবই দুর্গম। পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধারের রওয়ানা দিলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

ভাঙনের সুর:
দুই দশক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়। যা পরবর্তীতে শান্তি চুক্তি নামে পরিচিতি লাভ করে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমার সঙ্গে এই চুক্তি সই হয়। সেই সময় গেরিলা বাহিনীর নেতা ও তার সব সদস্যরা অস্ত্র জমা দেয় সরকারের কাছে। চুক্তি পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। কিন্তু চুক্তি বিরোধিতা করে সন্তু লারমার সংগঠন থেকে বের হয়ে ১৯৯৮ সালে ২৬ জুন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) আত্মপ্রকাশ করে।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জেএসএস এ ‘গণতান্ত্রিক চার্চ নেই’ বলে অভিযোগ এনে সুধাসিন্ধু খীসা ও তারিন্দ্র লাল চাকমার (পেলে) নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নামে পাহাড়ে নতুন আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে খাগড়াছড়ি জেলায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামের নতুন সংগঠন জন্ম নেয়। এ নিয়ে বর্তমানে পাহাড়ে চারটি আঞ্চলিক দলের তৎপরতা চলছে।

জনশ্রুত আছে, পাহাড়ের চার আঞ্চলিকদল বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পক্ষে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী সংগঠন প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) বর্তমানে এক হয়ে কাজ করছেন। সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) ও শ্যামল কান্তি চাকমার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে (গণতান্ত্রিক) কে এক হয়ে কাজ করছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ছুফি উল্লাহ জানান, পাহাড়ে যেসব আঞ্চলিক দল আছে, তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। কেউ যদি সু-পরিকল্পিতভাবে মার্ডার করার পরিকল্পনা করে, মার্ডার করে এটা রোধ করা খুবই কঠিন। তারপরও মার্ডার রোধ করতে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাঠে সর্বদা কাজ করছে। প্রতিটি ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা অনেককে আটক করতে সম্ভব হয়েছি এবং বাকীদের আটকে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে পরিবারের অসম্মতি, অতপর…

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মুবিনা আক্তার নয়ন (১৬) নামের এক তরুনী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে …

Leave a Reply