নীড় পাতা » ব্রেকিং » বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করেছে ২ হাজার পোশাককর্মী!

রাঙামাটির

বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করেছে ২ হাজার পোশাককর্মী!

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেকে দুই হাজার পোশাককর্মী প্রবেশ করেছে। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পুরো উপজেলার জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করা সকলেই রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর কর্মী।

সূত্রে জানা গেছে, দেশে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সকল গার্মেন্টসশিল্প বন্ধ ঘোষণা করা হলে বিপাকে পড়ে যান এ খাতের কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মীরা। অনেকেই কার্যত লকডাউনের এই সময়টাতে ঘর মুখী হয়ে নিজ এলাকার দিকে ছুটতে থাকেন। এর মধ্যে বাঘাইছড়ির এসব বাসিন্দারা খাগড়াছড়ি থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের জিম্মায় বাঘাইছড়িতে ফিরেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্য রুপকারী ইউপিতে ১৪৭ জন, খেদারমারা ইউপিতে ৩০১ জন, সাজেক ইউপিতে ৩১৫ জন, মারিশ্যা ইউপিতে ১০৫ জন, বাঘাইছড়ি ইউপি ১৪০ জন, বঙ্গলতলী ইউপিতে ৮৮৫ জন, সারোয়াতলী ইউপিতে ১৪৫ জন, আমতলী ইউপিতে এক পোশাক কর্মী প্রবেশ করেছেন।

এদিকে হঠাৎ বাঘাইছড়ি উপজেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকাতে পোশাককর্মীরা বাড়ি ছুটে আসায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রাও। ইতিমধ্যে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নসহ অন্যান্য ইউনিয়নে অস্থায়ী মাচাং ঘর তৈরি করে আগত পোশাককর্মীদের রাখা হয়েছে।

বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করা কয়েকজন পোশাককর্মী জানিয়েছেন, আমরা নিজ উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টিন পালন করছি। আমরা নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্যই হোম কোয়ারেন্টিনে আছি।

রুপকারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শ্যামল চাকমা ও তুলাবন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানবজ্যোতি চাকমা জানিয়েছেন, ঢাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেছেন তারা সকলেই স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিন পালন করছেন। আমরা নিয়মিত এদের খবরাখবর রাখছি। এলাকাবাসীও তাদেরকে সরকারি নির্দেশনা পালনে সহায়তা করছেন।

বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল বিহারী চাকমা জানিয়েছেন, ‘অনেকেই নিজের ঘরে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। আবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, বন কুঠির ভাবনা কেন্দ্র, স্ব উদ্যোগে কারো ঘর খালি করে দেওয়া, তেরপাল দিয়ে ও মাচাং করে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে সকলকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবিব জিতু জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে চেকআপের পরে আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় এসব পোশাক শ্রমিককে বাঘাইছড়িতে প্রবেশের অনুমতি দিই। এছাড়া তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশক্রমে ইউপি চেয়ারম্যানেদের জিম্মায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, বাঘাইছড়িতে প্রবেশ করা এসব শ্রমিকরা সচেতন থাকলে তেমন সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে না। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply