নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বাঘাইছড়িতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনকে আসামী করে মামলা

বাঘাইছড়িতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনকে আসামী করে মামলা

Rangamati-Pic-02রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নিহত ৩ জনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনরা ইতোমধ্যেই লাশ নিয়ে বাঘাইছড়ি ফেরার পর যাবতীয় ধর্মীয় আচার শেষে নিহতদের সৎকারও সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে নিহতদের মধ্যে উপজেলা সভাপতি শশাংকমিত্র চাকমার স্ত্রী ঝর্ণা চাকমা বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামী করে বাঘাইছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিত জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র নেতা সুদর্শন চাকমাসহ স্থানীয় ইউপিডিএফও সংস্কাপরন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বাদী ।

বৃহস্পতিবার এই ট্রিপল মার্ডারের পর উপজেলায় চাপা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহত স্বজনদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বাঘাইছড়িতে নিহত ৩ জনের লাশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। সেখানে রাতে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা সাধারন সম্পাদক বড় ঋষি চাকমা জানান, শুক্রবার সকালে নিহত পরিবারের স্বজনরা লাশ নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন এবং বিকেলে নিহতদের দাহ করা হয়। নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নিহতদের লাশ নিয়ে স্বজনরা নিজ নিজ গ্রামে পৌছুলে সেখানে শত শত গ্রামবাসি জড়ো হয়। আর স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন,রাজনৈতিক সহকর্মী ও এলাকাবাসি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন শশাংকমিত্র চাকমার স্ত্রী। তবে মামলায় কাদের আসামী করা হয়েছে সেই সম্পর্কে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

আসামীদের ধরতেই কৌশল হিসেবে নাম প্রকাশ করা হচ্ছেনা বলেও জানিয়েছে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ হাবিবুর রহমান। তবে মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) এর পক্ষ থেকে এ হত্যাকান্ডের জন্য আর কোনো কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, আপাতত কোনো কর্মসুচী দেয়া হবে না। তবে পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচী দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাঘাইছড়ির শিজক কলেজের পাশে একটি চা দোকানে বসা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপজেলা সভাপতি শশাংকমিত্র চাকমা প্রীতিশ, সাংগঠনিক সম্পাদক নন্দ কুমার চাকমা এবং স্থানীয় এলাকাবাসি যুধিষ্ঠির চাকমাকে গুলি করলে তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই হত্যাকান্ডের জন্য জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে ইউপিডিএফ ও সংস্কাপন্থীদের দায়ি করা হলেও সংগঠন দুটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার  রাঙামাটির লংগদু …

Leave a Reply