নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » বাকপ্রতিবন্ধী শাহরিয়ারের বাংলাদেশ জয়!

বাকপ্রতিবন্ধী শাহরিয়ারের বাংলাদেশ জয়!

Pavel-with-mam-dadজন্ম থেকেই কোনদিন বাবা-মা’র সাথে কথা বলতে পারেনি সে, অন্য আর দশটি শিশুর মতো এখনো কোনদিন মায়ের কাছে মুখে বলতে পারেনা,নিজের চাওয়া-পাওয়া,ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলোও, তবুও ছেলেটিকে নিয়ে বাবা-মা’র গর্বের শেষ নেই। বাক প্রতিবন্ধী হলেও শিশুটি যে তাদের ঘর আলো করে দিয়েছে। নিজের অসম্পূর্ণতা ভুলিয়ে দিয়ে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে এনে রাখছে নিজস্ব যোগ্যতার সাক্ষর। শিশুটির নাম শাহরিয়ার আহমদ পাভেল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচে প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার। ক্লাসে যেমন অন্য বন্ধুদের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে পড়াশুনায় প্রতিদ্বন্ধিতা করে একইভাবে ছবি আঁকাতেও রাঙামাটিতে অপ্রতিদ্বন্ধী পাভেল এবার যে জাতীয় পর্যায়েই চ্যাম্পিয়ন ! রাঙামাটি শহরে আয়োজিত প্রায় সবগুলো চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অবধারিত প্রথম স্থান পাওয়া শাহরিয়ার এবার জাতীয় পর্যায়ে প্রমাণ করেছে নিজের প্রতিভার সাক্ষর।

জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতা’২০১৩ সালে জলরং-‘ক’ বিভাগে সারাদেশের সকল প্রতিযোগিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে। পুরষ্কার নিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর কাছ থেকে।

ছেলের সাফল্যে উচ্চসিত বাবা মোক্তার আহমদ ও মা রোকসানা আক্তার। তারা জানালেন,আমাদের সন্তান আর দশটি শিশুর মতো কথা হয়তো বলতে পারেনা,কিন্তু সে তার মেধা আর প্রজ্ঞা দিয়ে নিজের অপূর্ণতাকে পূরন করে নিয়েছে। আমরা তার জন্য গর্বিত।

শাহরিয়ারের এটাই প্রথম জাতীয় পুরষ্কার হলেও আগামী মাসে সে আরেকটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মে মাসে ঢাকায় জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে সে। বাবা-মা’র প্রত্যাশা সেখানেও ভালো ফলাফল করবে তাদের প্রিয় সন্তান।

জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় পাভেল পুরষ্কার নিচ্ছে তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর কাছ থেকে।
জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় পাভেল পুরষ্কার নিচ্ছে তৎকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর কাছ থেকে।
চ্যাম্পিয়ন শাহরিয়ারের মুখ থেকে বিজয়ের প্রতিক্রিয়া জানা গেলোনা। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা এই শিশুটির চোখে যে আত্মপ্রত্যয় আর সরলতার চিত্র ভেসে উঠেছে তা যেকোনো পেশাদার সাংবাদিকের বুকের ভেতরটাকে নাড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। নিয়তির নির্মম পরিহাসে নিজমুখে নিজের অভিব্যক্তি জানাতে না পারলেও তার হাতে রংতুলি’ই যেনো হয়ে উঠছে নিজেকে জানানো,নিজেকে উম্মোচিত করার মাধ্যম। বাকপ্রতিবন্ধী শিশু শিল্পী শাহরিয়ার একদিন অনেক বড় শিল্পী হবে এই প্রত্যাশা কেবল তার মা-বাবা’রই নয়,এমন স্বপ্ন দেখে এখন তার শিক্ষক,সহপাঠীরাও। শাহরিয়ারের জয় হোক।

শাহরিয়ারের শিল্পশিক্ষক রেজাউল করিমও প্রিয় ছাত্রের সাফল্যে উদ্ভাসিত। জানালেন,অসম্ভব মেধাবী এই শিশুটি আমার খুব প্রিয় ছাত্র। তার ছবি আঁকার ভাবনা অন্য অনেকে শিশুদের চেয়েও অনেক চিন্তাশীল,তীক্ষè এবং দৃষ্টিননন্দন।

আর স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম খীসা জানালেন,আসলে এই সপ্তাহটি আমাদের সাফল্যের সপ্তাহ। জাতীয় পর্যায়ের দুটি পুরষ্কার আমার স্কুলে এসেছে। ভুবন দে জাতীয় পর্যায়ে মেধা অন্বেষন প্রতিযোগিতায় শীর্ষ বারোজনে ঠাঁই করে নেয়ার পর এবার শাহরিয়ার আহমদ পাভেল জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। এই দুই ছাত্রের সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত।

ছবি ঃ বাবা-মা এর সাথে শাহরিয়ার আহমদ পাভেল

Micro Web Technology

আরো দেখুন

‘আওয়ামীলীগ চুক্তি করেছে, তারাই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে’

‘আওয়ামীলীগ সরকারের আগে অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। উল্টো তারা পার্বত্য …

Leave a Reply