নীড় পাতা » ব্রেকিং » বাইরে পাঠাগারের সাইনবোর্ড,ভেতরে জুয়ার আসর !

বাইরে পাঠাগারের সাইনবোর্ড,ভেতরে জুয়ার আসর !

kaukhali-Gambling-news-pic-বাইরে পাঠাগারের সাইনবোর্ড টানানো। ভেতরে চলে জুয়া আর মদের আড্ডা। অবৈধ সংযোগে চলছে বৈদ্যুতিক ম্যাজিক চুলোয় খাবার রান্না। থানা পুলিশও হাতে থাকায় কেউ টু-শব্দ করা সাহস করেনা।
কাউখালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কমল বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাইনবোর্ড সর্বস্ব ‘পোয়াপাড়া কিশোর কিশোরী উন্নয়ন সমিতি’র সভাপতি দাবি করা কমল সমিতির খাতাপত্র, কমিটি এমনকি কত জন সদস্য আছে তাও বলতে পারেননি।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের নাইল্যাছড়ি সড়কে পোয়াপাড়া যাত্রি ছাউনির পাশেই এই জুয়ার আসর বসলেও থানা পুলিশ নাকি জানেই না। অবশ্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন দলের নেতারা ।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে- পাহাড়ের উপরে তৈরি করা হয়েছে টিনের চালা ও বেড়ার প্রায় ২২ ফুটের একটি দুকক্ষের ঘর। পশ্চিম দিকে ফেরানো প্রবেশ মুখের দরজায় তালা ঝোলানো। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে আসর বসে। উত্তর দিকে আরও একটি দরজা দিয়েই নিত্যদিনের যাতায়াত হয় আনন্দ মেহমানদের!

চালায় স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। পার্শ্ববর্তি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মিটার সংযোগ ছাড়াই টানা হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। খাবার রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক ম্যাজিক চুলোও বন্দোবস্ত আছে। মুরগি আর চোলাই মদ পেটপুড়ে খাওয়ার নিয়মিত ব্যবস্থাও। পাঁচটি চেয়ার আর দুটি টেবিলে ছড়িয়ে আছে তাস। বৈদ্যুতিক পাখার নিচে শীতল পাটি আর কোল বালিশ। আছে আয়েশি বিনোদনের উপরকণ! আর এই আসর থেকে প্রায় তিনশো ফুট নিচে ঝোলানো হয়েছে পোয়াপাড়া কিশোর কিশোরী উন্নয়ন সমিতির সাইনবোর্ড।

প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন প্রতিদিনই সরকারী চাকুরীজীবি, বিভিন্ন এনজিও কর্মী, উঠতি তরুণেরা নিয়মিত যাতায়াত করছে এখানে। এমনকি থানা পুলিশের জনৈক কর্মকর্তাও এখানে আসেন ফুর্তি করতে।

তরুণেরা পাঠাভ্যাসের সুযোগ পাবে এই আশায় পাঠাগারের সাইনবোর্ড দেখে গ্রামবাসিরা আগ্রহি হয়ে উঠেন। কিন্তু সেতো কেবল সাইনবোর্ড অবধি, এর বেশিতো নয়। বরং শংকার ডালাপালা মেলেছে কয়েকগুন। তরুনদের হাত ধরেই এবার স্কুল-কলেজগামি বাচ্চারাও অভ্যস্থ হয়ে পড়বে জুয়া আর মদের নেশায়। নগদ টাকার জন্য বাড়বে পারিবারিক অশান্তি আর সম্মানহানি। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিবেশি নিজেদের এমন নানা শংকার কথা জানিয়েছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।323

প্রতিবেশি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়ভূবন চাকমা বলেন- এলাকার স্বার্থে জুয়া আর মদের আসর বন্ধের কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। সমিতির নামে হলেও সেখানে এর কোন কর্মকান্ডই চলেনা।
প্রতিবেশি পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক প্লুটো চাকমা বলেন- জুয়া আর মদের আসর বসার কারণে আমি নিজেই এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেইনি। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। থানা পুলিশের ভয় দেখানোয় কেউ টু শব্দটি করছেনা।

কাউখালী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন- কমল চাকমা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জুয়া আর মদের আসর বসানোর কারনে ওসিকেও অভিযোগ করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। লোকমুখে শুনেছি থানাকে মাসোহারা দিয়েই কলম একাজ করছে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাইন উদ্দিন জানান- খুব শিগগির সাংগঠনিক ব্যবস্থ্যা নেয়া হচ্ছে কমলের বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে কমল বিকাশ চাকমা উল্টো অভিযোগ তুলে বলেন -পুলিশের নাকের ডগায় কচুখালী করাত কল এলাকায় ৪/৫টি জুয়ার আসর বসে সেগুলো না লিখে আমারটা কেন ? সমিতির ক্লাবে জুয়া মদ চলবেনাতো কোথায় চলবে। এক প্রশ্নের জবাবে কমল নিজেকে সভাপতি দাবি করে জানান- সমিতির কোন কাগজপত্র নাই, ধরেন ৪০/৫০ জন সদস্য আছি আর কি। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে তার জবাব- খুব শিগগির আবেদন করে সংযোগ বৈধ করে ফেলবো।

কাউখালী বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী হাসির উদ্দিন জানান- আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কেউ বিদ্যুৎ চুরি করলে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হবে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচাজের্র দায়িত্বে থাকা এসআই মজিবুর রহমান বিষয়টি আজকেই এই প্রতিবেদকের কাছে শুনেছেন বলে দাবি করেছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply