নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘বর্ষাকালীন দুর্যোগে যাতে কোন প্রাণহানি না ঘটে সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ’

দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙামাটিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

‘বর্ষাকালীন দুর্যোগে যাতে কোন প্রাণহানি না ঘটে সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ’

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) শফি কামাল, অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম, অতিরক্তি পুলিশ সুপার (সদর) মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
রাঙামাটি জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম পিএসসি জানান, যদি কোন দুর্যোগ হয় সে জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা ৪০জনের একটি উদ্ধারকারী ও জনসাধারণকের সহায়তা করার জন্য একটি টিম প্রস্তুত থাকার ব্যবস্থা নিয়েছি। তারই সাথে সাথে কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ব্যবস্থা করেছি। ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নিব।

অতিরক্তি পুলিশ সুপার (সদর) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা প্রতিবারের মত এবারও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে যাতে জনসাধারণকে সহায়তা করা যায় সে জন্য হটলাইন নাম্বারের ব্যবস্থা করবো।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম জানান, আমরা ৪০জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করছি, যাতে করে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সাথে সাথে সাড়া দেওয়া যায়। তাদের তিনদিনের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বরকল উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, আমাদের এলাকায় কোন সড়ক যোগাযোগ নেই, বর্ষা মৌসুমে যখন ভারি বৃষ্টিপাত হয় তখন, এমন ভাবে লেকে ¯্রােত নামে লেকে নে ৗচলাচল করতেই পারে না, ঘূর্ণিপাকের কারণে। সে সময়গুলোতেই আমাদের ত্রাণের প্রয়োজন হয়। আর তখন জেলা থেকে লেকে ঘূর্ণিপাকের কারণে কোন নৌ-যান ত্রাণ নিয়ে আমাদের কাছে যেতে পারে না। আর গেলেও আমরা তা দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পৌঁছাতে পারি না। দুর্গত মানুষ যাতে সঠিক সময়ে ত্রাণ পাই সে জন্য আমাদের বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে যাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠানো হয়। যাতে করে আমরা আগেই ত্রাণগুলো ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বুঝিয়ে দিতে পারি প্রয়োজনীয় মুহূর্তে বিতরণ করার জন্য।

এই সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধির কাছে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সামনের বর্ষা মৌসুমে যদি পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, সে সময় সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভাড়া আনার বিষয়ে চিন্তা করছি।

এলজিইডির প্রতিনিধি জানান, আমরা নতুন করে একটি বুল্ডোজার পেয়েছি, তার সাথে আগের কিছু যন্ত্রপাতি আছে।

সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি জানান, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের যে লোকবল আছে তাকেও সক্রিয় রাখা হবে।

পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে এক প্রস্তুতিমূলক সভার সভাপতি এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, দুর্যোগের পূর্ব মুহূর্তে সাধারণ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য আগামীকাল থেকেই একটি টিম কাজ শুরু করবে। কোনও অবস্থাতেই যাতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে এবং গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সবসময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও তিনি দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা দেখলে বা আশ্রয় কেন্দ্র খোলার প্রয়োজন দেখলে প্রশাসনের নির্দেশের অপেক্ষা না করে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় সে সকল আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশনাও দেন জেলা শিক্ষা অফিসারকে।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক ও জোন কমান্ডারসহ অন্যান্য সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ পাহাড় ধসের দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জন ও ২০১৮ সালের ১২ জুন পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই : মনিস্বপন

‘এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। দেশ ভালো নেই, দেশের মানুষ ভালো নেই। গনতন্ত্র নেই, …

Leave a Reply