নীড় পাতা » ব্রেকিং » বর্ষণে প্রাণহানি এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং

বর্ষণে প্রাণহানি এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং

দুইদিন ধরে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে বর্ষার থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। এতে দেখা দিয়েছে জনমনে আতঙ্ক। গত বছরগুলোতে বর্ষার বৃষ্টির প্রকোপ জুনে দেখা যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জুন মাসেই শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। এই বছর বর্ষার প্রকোপটা দেখা যাচ্ছে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে এসে।

গত দুইদিনে বর্ষার বৃষ্টিতে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে পাহাড়ের ওপর বা পাদ দেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে। অতিবৃষ্টি বা ভারিবর্ষণ নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। সে সময়টাতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকে ।

প্রশাসন জানায়, জেলা শহরের চেঙ্গী মুখ, পাবলিক হেলথ এলাকা, শিমুলতলী, রাজমনি পাড়াসহ ৩৩টি পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অন্তত ৫হাজার পরিবার। আর উপজেলাগুলোতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন আরো অন্তত ৫হাজার পরিবার। এতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন জেলায়। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা এইসব মানুষকে বর্ষার মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে নিরাপদে সরিয়ে নিতে শহরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯টি আশ্রয় কেন্দ্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও প্রস্তুত রেখেছেন নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র।

শিমুলতলী এলাকার বাসীন্দা সুরত আলী জানান, গত দুইদিনে বর্ষার বৃষ্টিতে ভয় লাগছে। সব সময় সর্তক থাকছি, পাহাড়ে কোথাও কোন ফাটল দেখা দিচ্ছে নাকি সেটা খেয়াল রাখছি। রাতে বৃষ্টি শুরু হলে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকি। বৃষ্টির প্রকোপ বাড়লে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিব।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, বর্ষার থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বা চূড়ায় ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে আহবান জানানো হচ্ছে। অতিবৃষ্টি বা ভারিবর্ষণ দেখা দিলে তারা যাতে নিকস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেই। শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তিন বছর পূর্বে ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে টানাবর্ষণে ভূমিধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। লন্ডভন্ড হয়ে যায় রাঙামাটি শহরসহ উপজেলাগুলো। বন্ধ হয়ে যায় দেশের সাথে সড়ক পথের যোগাযোগ। প্রাণহানির পাশাপাশি কৃষি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২০১৮সালে নানিয়াচরে পাহাড় ধসে প্রাণ যায় ১১জনের ও ২০১৯সালে কাপ্তাইয়ে ৪জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলো পর প্রতিবারই পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের বিষয়টি সামনে আসলেও, ঘটনার তিন বছর পরও রোধ করা যায়নি বসতি স্থাপন। যেখানে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছে, সেসব এলাকায় আগের চেয়ের দ্বিগুণ গড়ে উঠেছে বসতি। এতে আবারো শঙ্কা বেড়েছে প্রাণহানির।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চলে গেলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পিন্টু

রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু আর নেই। বুধবার বিকেল তিনটায় তিনি …

Leave a Reply