বন বিভাগ নয়; বন চাই

11168520_451034795075555_13036930154308810_nপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, বন বিভাগ নয়; বন চাই। বনবিভাগের সাথে সাধারণ মানুষের দুরত্ব আরো কমিয়ে আনতে হবে। তাদের সাথে খবরদারি করলে হবে না। আলোচনার ভিত্তিতে তাদেরকে বনায়নে উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে। সারা দেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে তুলতে হলে সাধারণ মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। বনবিভাগকে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বৃক্ষ রোপণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বোঝাতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের একটি বৃহত্তম অংশ, এখানে বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় যাতে বন, বনায়নসহ বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া যায় সেজন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে। বুধবার রাঙামাটিতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এসব কথা বলেন।

বৃক্ষরোপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বীর বাহাদুর বলেন, দেশের এক দশমাংশ জায়গা হচ্ছে এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলের পাহাড় ও সমতল জায়গায় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়র করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বোঝা নয় সম্পদে পরিণত হবে। তাই পার্বত্য অঞ্চলে সেগুন গামারির পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সংরক্ষণ ও রোপণ করার আহবান জানান।

পাহাড়, উপকুল, সমতলে গাছ লাগাই সবাই মিলে এই স্লোগানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ ও কৃষি স¤প্রসারণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ শামসুল আজম, রাঙামাটি কৃষি স¤প্রসারণের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গাছ কাটলে হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিপির উদ্যোগে পাহাড়ের উন্নয়নে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগ অর্থ বনায়ন, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য আলোচনা চলছে। আশা করছি এতে পাহাড়ে বনায়নে আরো বেশি অগ্রগতি হবে।

রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ শামসুল আজম জানান, যেখানে বন নেই, বন বিভাগ থেকে সেখানে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো যাতে আরো কোনো সময় কাটা না হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নদী কিংবা ছড়ার ধারে গাছ লাগানো মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা এর উৎসমূলে যেখানে খালি জায়গা রয়েছে তাতে গাছ লাগাতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাঙামাটি সার্কিট হাউজে বৃক্ষ রোপণ করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ। পরে বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা অতিথিরা গাছের চারা বিতরণ করেন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মেলায় ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলে বিভিন্ন গাছের চারা প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা আগামী মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা উদ্বোধনকালে বীর বাহাদুর এমপি
বন বিভাগ নয়; বন চাই////
হেফাজত সবুজ >>
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, বন বিভাগ নয়; বন চাই। বনবিভাগের সাথে সাধারণ মানুষের দুরত্ব আরো কমিয়ে আনতে হবে। তাদের সাথে খবরদারি করলে হবে না। আলোচনার ভিত্তিতে তাদেরকে বনায়নে উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে। সারা দেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে তুলতে হলে সাধারণ মানুষের সহায়তা প্রয়োজন। বনবিভাগকে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বৃক্ষ রোপণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বোঝাতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের একটি বৃহত্তম অংশ, এখানে বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় যাতে বন, বনায়নসহ বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া যায় সেজন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে। বুধবার রাঙামাটিতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এসব কথা বলেন।

বৃক্ষরোপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বীর বাহাদুর বলেন, দেশের এক দশমাংশ জায়গা হচ্ছে এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলের পাহাড় ও সমতল জায়গায় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়র করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বোঝা নয় সম্পদে পরিণত হবে। তাই পার্বত্য অঞ্চলে সেগুন গামারির পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সংরক্ষণ ও রোপণ করার আহবান জানান।

পাহাড়, উপকুল, সমতলে গাছ লাগাই সবাই মিলে এই স্লোগানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ ও কৃষি স¤প্রসারণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ শামসুল আজম, রাঙামাটি কৃষি স¤প্রসারণের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গাছ কাটলে হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিপির উদ্যোগে পাহাড়ের উন্নয়নে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগ অর্থ বনায়ন, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য আলোচনা চলছে। আশা করছি এতে পাহাড়ে বনায়নে আরো বেশি অগ্রগতি হবে।

রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ শামসুল আজম জানান, যেখানে বন নেই, বন বিভাগ থেকে সেখানে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো যাতে আরো কোনো সময় কাটা না হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নদী কিংবা ছড়ার ধারে গাছ লাগানো মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা এর উৎসমূলে যেখানে খালি জায়গা রয়েছে তাতে গাছ লাগাতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাঙামাটি সার্কিট হাউজে বৃক্ষ রোপণ করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ। পরে বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা অতিথিরা গাছের চারা বিতরণ করেন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মেলায় ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলে বিভিন্ন গাছের চারা প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা আগামী মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply