নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » বন্দরনগরীতে আবাসন সংকটে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা

বন্দরনগরীতে আবাসন সংকটে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা

ctg-pic
ছবি………….কমল রুদ্র

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রতিবেশি তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান । এই তিন জেলায় ভালো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার কারণে প্রত্যেক বছর এসএসসি এবং এইচএসসির পাশ করার পরে এই জেলাগুলির প্রচুর শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং কোচিং সেন্টার সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে মফস্বলের শহর ছেড়ে মহানগরী চট্টগ্রাম শহরে আসে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার লাভের জন্য শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম আসতেই হয়। কিন্তু নাগরিক এই শহরে এসে পাহাড়ী তিন জেলার শিক্ষার্থীরা সন্মুখীন হচ্ছে চরম আবাসন সমস্যার।
চট্টগ্রাম শহরে বর্তমানে যে সব সরকারি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তার কোনটিতেই নেই পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা। যে কটি রয়েছে তার অধিকাংশরই এখন বেহাল দশা। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্র সংখ্যার তুলনায় ছাত্রাবাস নেহাৎই কম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের ৭টি এবং মেয়েদের ৩টি সহ মোট ১০টি ছাত্রাবাস রয়েছে। যেখানে নতুন ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বৈধভাবে থাকার কোন সুযোগ নেই। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে হলে থাকার সুযোগ মেলে,তাও জোটেনা সবার ভাগ্যে । ফলে পার্বত্যঞ্চল থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নিতে হয় বিভিন্ন মেস কিংবা বেসরকারী/ব্যাক্তিমালিকানাধীন ছাত্রাবাস এবং ছাত্রীনিবাসে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছে, তেমনি ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়।
এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি থেকে আসা নগরীর এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী অন্নি দাশ বলেন, মাসিক ৫৮০০ টাকা দিয়ে ব্যাক্তিমালিকানাধীন একটি ছাত্রীনিবাসে থাকি। এটা সরকারী ছাত্রাবাসের ফি’র তুলনায় অনেক বেশী। ছাত্রীনিবাসের খাবারের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি ।
নগরীর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র স্বরুপ বড়ুয়া বলেন, তিনি ২বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামে আসেন। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রাবাস না থাকার কারণে তকে একটি মেসে থাকতে হচ্ছে, যা তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক দূরে। যার ফলে ক্যাম্পাসে আসতে তাকে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।
পার্বত্যঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এই আবাসন সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রতি বছর অধ্যয়নের জন্য চট্টগ্রাম শহরে আসছে, সে পরিমান ছাত্রাবাস, মেস গড়ে উঠছে না। তাই শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে নিন্মমানের পরিবেশে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের পড়ালেখায় ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে,চাপ পড়েছে মনোজগতেও।
চট্টগ্রাম কলেজের সন্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র আমিনুল হক জানালেন, তিনি কলেজে ভর্তির পর প্রথম ৩মাস ক্লাস করতে পারেননি আবাসন সুবিধার অভাবে। রাঙামাটির ভেদভেদি থেকে আসা এই শিক্ষার্থী আরো জানান, ছাত্রসংখ্যার তুলনায় কলেজে পর্যাপ্ত ছাত্রাবাস না থাকার কথা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কলেজে প্রায় ১৯ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মেয়েদের একটি এবং ছেলেদের তিনটি সহ মোট চারটি হোষ্টেল রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই নগন্য এবং সেখানেও বিশেষ একটি ছাত্রসংগঠনের প্রবল দাপটের কারণে সাধারন শিক্ষার্থীরাদের থাকা প্রায় দুরূপ ব্যাপার।
একই কলেজের উচ্ছ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা মারমা বলেন, কলেজ এবং কলেজের বাইরে ছাত্রীদের থাকার পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তাকে বাধ্য হয়ে আত্নীয়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে নগর কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হয়ে কিছু জরুরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
তিন পার্বত্য জেলা থেকে পড়তে আসা এইসব শিক্ষার্থীরা মনে করেন,যদি পার্বত্য মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করে নির্দিষ্ট স্থানে কিছু হোস্টেল স্থাপন করে তাহলে এই সমস্যার সমাধান যেমন হবে, একই ভাবে পাহাড়ী জেলাগুলো থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে আসা শিক্ষার্থীরাও স্বস্তি আর সানন্দ্যের সাথেই কাটাতে পারবে শিক্ষাজীবন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply

%d bloggers like this: