নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » বদলে যাচ্ছে আমার শহর,প্রিয় খাগড়াছড়ি

বদলে যাচ্ছে আমার শহর,প্রিয় খাগড়াছড়ি

Kgh picচোখ মেলে তাকালেই চারদিকে পাহাড় আর পাহাড়। এত পাহাড়, এত বন বনানী, পাখ পাখালির কলকাকলি, এতো ঝরণা দেশের আর কোথাও নাই বললে চলে। হাজার হাজার ফুট উচুঁ পাহাড় গুলো যেন কিশোরীর ঢেউ খেলানো শাড়ি। আকাশের মেঘ ছুঁয়ে যায় পাহাড়ের বুক। শরৎ হেমন্ত এবং শীতে শুভ্র মেঘের খেলাও চলে সবুজ পাহাড়ের ভাজে ভাজে। সুন্দরের সমারোহে খাগড়াছড়ি যেনো পরিণত হয়েছে প্রকৃতির এক অপরূপ লীলা ভূমিতে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় প্রকৃতির এমন রুপ কতদিন থাকবে…?

৭১ সালে এই দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর এই দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দাড়াঁলো ১৬ কোটিরও অধিক। দিন দিন দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও দেশের মানচিত্র কিন্তু বাড়ছেনা। আর দিনে দিনে এতো মানুষ বাড়লে পুকুর ভরা মাছ, গোলাভর্তি ধান থাকবে কিভাবে…?

মানুষের চাহিদা বাড়ছে। পরিবার বড় হচ্ছে। আরো বাসস্থানের প্রয়োজন। তাইতো বন, পাহাড়, নদী, পুকুর ফসলি জায়গায় প্রতিয়নত গড়ে উঠছে ঘরবাড়ী। সেই সাথে তৈরি হচ্ছে রাস্তাঘাট। দা,খুন্তির আঘাতে ক্ষত বিক্ষত পাহাড়।
আমরা যারা পাহাড়ে থাকি প্রতিনয়ত বন উজাড় হওয়ার পরও বলবো স্বর্গে আছি। বলবো প্রকৃতির কোলে ঘুমাচ্ছি। গাছগাছালি, পাখপাখালি, নদী, ছড়া, ঝড়না কি নেই এখানে। তবে সব কিছু ভালো করে দেখে রাখুন !! একদিন এগুলো কিন্তু গত হবে। হয়তবা একটা সময় আসবে যখন এগুলো ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে।
তখন আমরা বলবো ‘এক সময় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বা বান্দরবানে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি ছিল, গাছগাছালি-পাখপাখালিতে ভরপুর ছিল। উচুঁ নিচু আর আকাঁ বাকাঁ রাস্তা ছিল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই অঞ্চলে পর্যটক আসতো প্রকৃতির রুপ দেখতে। কিন্তু এগুলো এখন যান্ত্রিক নগর।’

আমরা যারা পাহাড়ে থাকি তারা যান্ত্রিক নগরে গিয়ে খুব স্বস্থিবোধ করিনা। কারণ সবুজের হাতছানিতো আর যান্ত্রিক নগরে পাওয়া যায়না। আমারতো এক থেকে দুইদিন থাকলেই দম বন্ধ হয়ে আসতে চাই। শুধু নিজ ভূবনে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকি।

কিন্তু পাহাড়ের এই সবুজের সমারোহ আর থাকবেই বা কতদিন..? ত্রিশ বছর ? পঞ্চাশ বছর? না হয় তার চেয়ে একটু বেশি? অপ্রিয় হলেও সত্য একদিন এই পাহাড়ীয়া শহর ঢাকার মত যান্ত্রিক নগরে পরিণত হবে। যেদিকে চোখ যাবে শুধুই দেখা মিলবে ইট পাথরের দালান কোঠা। সবুজ গাছগাছালির স্থান হবে ঘরের বেলকনির ঐ মাটির টপে বা ছাদে । আর উচুঁ উচুঁ পাহাড়..!! এককালের ডাইনেসরের গল্পের মত হবে নাতো !

এতো মানুষ থাকবে কোথায় ? ভারতে…..? মিয়ানমারে….? নাকি পাকিন্তানে….?। না লাল সবুজের এই ভূমিতেই থাকবে। ঐ যে বললাম ফসলের জমি, নদী, নালা ভরাট করা ঘরের উপর ঘর হবে। সেই ঘরে মানুষগুলো থাকবে।
ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহরের বাচ্ছাগুলোর বেড়ে উঠার কথা শুনলে মন খারাপ হয়ে যায়। যান্ত্রিক এই নগরে খেলার মাঠের খুবই অভাব। যে কয়েকটি আছে তাও ভরাট করে বড় বড় দালান তৈরি হচ্ছে। যার কারণে মাঠে গিয়ে খেলতে পারছেনা শিশুরা। ঘরের এপাশ থেকে ওপাশ বা ঘরের বেলকনিই তাদের খেলার মাঠ। কিছুই করার নেই মানুষ যে বাড়ছে…! সাথে মানুষের চাহিদা যে বাড়ছে…।
জানি প্রয়োজনের তাগিদে পাহাড় কাটতে হবে, গাছ কাটতে হবে……। সব ঠিক আছে, শুধু প্রত্যাশা সব কিছু পরিকল্পিত হোক। এখনও সময় আছে পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন গড়ে তোলার। না হয় যে ঢাকার পরিবেশের কথা বলতে অস্বস্থি বোধ করি একদিন এই খাগড়াছড়ি বা পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ ঢাকার মত যান্ত্রিক হবে। তখন আপসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা।
আমার ভালোবাসার পাহাড়ীয়া শহরে খাগড়াছড়ির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তন উন্নয়নের স্বাক্ষ্য বহন করছে। কিন্তু মনে অজানা ভয় থেকেই যায়। এই উন্নয়নের জোয়ারে এই শহরের চেনা রুপ নষ্ট হয়ে যাবে নাতো…..!!!!

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply