নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » বদলে যাচ্ছে অরণ্য উপত্যকা সাজেক

বদলে যাচ্ছে অরণ্য উপত্যকা সাজেক

sajek--1প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক হবে পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষনীয় এক স্থান, সে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। কিছু কাজ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই। সোমবার দুপুরে রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট সেনাজোনে জোন আয়োজিত এক সুধি সমাবেশে এইসব কথা বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ এনডিসি পিএসসি।

খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজি শামশুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাজেক সফর করে সাজেকের সৌন্দর্য দেখে পর্যটন এলাকা হিসাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা করেন। আর সে লক্ষেই সেনাবাহিনী সার্বিক কাজ করে যাচ্ছে। সাজেকের উঁচু পাহাড়ের রুইলুই পাড়ায় পানির ব্যবস্থা করতে ৭০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এবং সে এলাকায় রাস্তা আলোকিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে সেখানের বাসিন্দাদের সামাজিক এবং ধর্মীয় এবং বিনোদনের জন্য মাঠসহ একটি ক্লাব করে দেওয়া হয়েছে। সাজেক পর্যটন শিল্পের জন্য একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। তা বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়রা বেশি সুবিধাভোগ করবেন। সেজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুধি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল ফরিদ, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল লোকমান আলী, ইসিবি’র সিও লেঃ কর্নেল জামিউল স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, গন্যমান্য ব্যাক্তিসহ পাহাড়ি-বাঙ্গালি নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বাঘাইহাট লেঃ কর্ণেল কবির হোসেন, বাঘাইছড়ি বিজিবি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রবিউল ইসলাম, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী উপজেলা সুমন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দীপ্তিময় চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাগরিকা চাকমা, প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নতুন উদ্ভোধনকৃত সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আজিজুল হক, সাজেকের রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাংয়া লুসাই এবং ইউপি সদস্য বিনয় চাকমা প্রমূখ। হেডম্যান তার বক্তব্যে সাজেকের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। এছাড়াও স্থানীয়দের বক্তব্যে বলা হয়, আঞ্চলিক ৩টি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এলকার উন্নয়নের স্বার্থে চিন্তা ভাবনা করে কাজ করা দরকার। ‘এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়’ স্থানীয় স্বশস্ত্র দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে এমন কথাও বক্তব্যে বলেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে স্থানীয়দের দাবী এবং সাজেকের উন্নয়নের আশ্বাসের মধ্যে প্রধান অতিথি আরো বলেন, বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় হস্তশিল্পগুলোকে চাল করা হবে। আর তা মান সম্মত করতে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে। সাজেক-বাঘাইছড়ির দীর্ঘ সড়ক পথের বিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের জন্য গাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে; এ ছাড়াও রয়েছে ঝড়ে পরা শিশুদের জন্য পাঠশালা প্রোগ্রাম। সর্বোপরি রুইলুই পাড়াকে একটি মডেল সৃষ্টি করে সাজেককে উন্নত পর্যটন শিল্পের প্রতিচ্ছবি হিসাবে স্থাপন করা হবে বলেও দাবী করেছেন জিওসি সাব্বির আহমেদ।sajek-2

প্রসঙ্গত,পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দুরবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ি অপরূপ সৌন্দর্য্য, সবুজ পাহাড় আর কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত। বরাবরই পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয় হলেও এই এলাকাটিতে নিরাপত্তার অভাব ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ হচ্ছিলোনা। সম্প্রতি সেখানে সাজেক থানা উদ্বোধন করা হয় এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় পর্যটন বিকাশে নানান উন্নয়ন পরিকল্পনা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ের তিন দোকানকে ৪০০০ টাকা অর্থদণ্ড

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বড়ইছড়ি বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের …

Leave a Reply