নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বদলে যাওয়া সাজেক হাতছানি দিয়ে ডাকছে

বদলে যাওয়া সাজেক হাতছানি দিয়ে ডাকছে

sajek09যেন নীল আকাশ এসে ঢলে পড়েছে সাজেকের গায়ে। যে দিকে চোখ যাবে, শুধু রং আর রংয়ের খেলা। এই সাজেক আর সেই সাজেক নয়। বদলে গেছে সব দৃশ্যপট। সর্বোচ্চ চুড়া হতে ক্যামেরার ফ্রেমে হঠাৎ মনে হতে পারে, এটি একটি ইউরোপের আধুনিক কোন ছোট্ট শহর। সত্যিই তাই,কল্পনাতীত পরিবর্তন ঘটে গেছে সাজেক। আগের সেই সাজেকের অনেক কিছুই নেই। কিন্তু নতুন অনেক কিছুই যোগ হয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ নেই ঠিকই; আছে সোডিয়াম লাইট, বায়ো-বিদ্যুৎ। মসৃন সড়ক। থ্রি স্টার মানের হোটেল, রিসোর্ট, ক্লাব। বদলে যাওয়া সাজেকের জনজীবনেও ঘটেছে ব্যতিক্রম। এই বদলে যাওয়াকে স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরাদের অনেকে ইতিবাচক দেখলেও আছে ভিন্ন মতও। তবে প্রাকৃতিক নিসর্গ সাজেক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পর্যটনবান্ধব সাজেক প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর আজকের সাজেক।
রাতের সাজেকও এখন ভিন্ন। রুইলুইপাড়াতে রাতে জ্বলছে সোডিয়াম বাতি, তাও আবার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির সোলারের মাধ্যমে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলে তাকালেই মনে হবে, মেঘের চাদরে ডেকে রেখেছে সাজেককে। পাহাড়ের ওপর হতে মেঘের সমুদ্রে লাফ দিতে ইচ্ছা করবে যে কারো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গেল এক বছরের সাজেকের সাথে বর্তমানের অনেক পার্থক্য। যেখানে কিছুদিন আগেও বিশ্রামের ব্যবস্থা ছিলনা, ছিল পানির কষ্ট এখন সবকিছুই হাতের নাগালের মধ্যে। আর প্রতিদিন পর্যটকদের ভীড় চোখে পড়ার মতো। সাজেকের মূল কেন্দ্র রুইলুইতে পানির সংকট দূর করতে নির্মিত হয়েছে পানির হাউস। পাশেই পাবলিক টয়লেট। চালু হয়েছে ‘পাহাড়ি রেস্তোরা’। মনোমুগ্ধকর অত্যাধূনিক দুইটি রিসোর্ট নির্মান করেছে সেনাবাহিনী। দুটিতেই রয়েছে এসি সুবিধা। দুইটি রিসোর্টের কাজ শেষে পর্যায়ে, এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এছাড়াও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আলোর উদ্যোগে ‘আলো রিসোর্ট’ ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে।Sajek-08

সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামছুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থাপনা নির্মানের কাজ অনেকটা শেষ হলেও পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার সমস্যার অবসান ঘটেছে। দার্জিলিং দেখা নয়, সাজেকের তুলনা হবে শুধুই সাজেক। দার্জিলিং বা মিজোরামের স্থাপত্য, নকশা বা বৈচিত্র্যকে আমরা অনুকরণ হিসেবে না নিয়ে সাজেককেই বিংশ শতাব্দির উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকবান্ধব এলাকা হিসাবে গড়ে তোলতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, সাজেকের জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং নিজস্বতা ধরে রাখাই আকর্ষনীয় সাজেকের মূল লক্ষ্য।

দীঘিনালা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরার মতে সম্ভাবনাময় সাজেককে তুলে ধরতে হবে নিজস্বতা ঠিক রেখেই। সেভাবেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা হতে আসা পর্যটক আবদেল মিয়া ও অনুস্কার সেন সাজেকের পরিবর্তন দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেন, এটিই একদিন দেশের পর্যটন শিল্পের অনুকরণীয় হবে। তবে, পর্যটকবান্ধব কিছু সুযোগ সুবিধাও রাখতে হবে এখানে। বিনোদনের বিভিন্নতা না রাখলে পর্যটনের বিকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। কারণ পর্যটকরা মন খুলে আনন্দ করতেই এখানে আসবেন। না হয় ঢাকা বা চট্টগ্রাম ছেড়ে আসবেন-ই বা কেন।

এদিকে সাজেকে পর্যটন উন্নয়নে খুশি লুসাই পাংখো ও ত্রিপুরা অধিবাসীরাও। অবশ্য তারা নিজেদের বর্ণিল সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন। একই সাথে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবস্থা রাখার দাবী তাদের। অনেকেই আবার কমিউিনিটি ট্যুরিজমের বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে পর্যটনের আয় হতে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুটা হলেও ভাগ পেতে পারেন। ওখানকার তরুন তনেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, পরিবর্তনের ফলে আশানুরুপভাবে স্থানীয় জনগনের উপকার হচ্ছেনা। তবে, নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব হলে পর্যটনের বিকাশের উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে।

রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাংগা লুসাই জানান, সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় ব্যাপক উন্নয়নে তারা খুবই খুশি। উন্নয়নের কারনে লুসাইসহ নৃতাত্তিক জাতির মানুষরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানির সংকট দুর হয়েছে। অনেকে লাভবানও হচ্ছেন।sajek-pic-(05),

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে যেতে হয় সাজেকের পথে। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নকে দেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘ ৬৭ কিলোমিটার পাহাড়ী সড়কে যেতে যেতে অন্যরকম আনন্দ। মুক্ত বাতাস, প্রকৃতির নিদর্শন আর আকাবাকা মসৃন সড়কের দু‘ধারে তাকাতেই মন ভরে যায় আগন্তুক প্রতিটি পর্যটকের। ঐতিহ্যবাহী চাঁদের গাড়ীতে ঝুলে সাজেক যেতে বেশি মজা। কাচালং আচালং নদী অতিক্রম করে দীর্ঘ ভ্রমনে মুহুর্তের জন্যও খারাপ লাগেনা। ২/৩ ঘন্টার এই জার্নিতে সাজেক উপত্যকা উঠার আগে ঝরনায় গা ভিজিয়ে নেয়া যায়। এক সময় কমলার জন্য বিখ্যাত সাজেকে এখনো মিষ্টি কমলা পাওয়া যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply