নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো মেলেনি ‘ক্লু’

খাগড়াছড়িতে ৭ হত্যাকান্ড

বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো মেলেনি ‘ক্লু’

ফাইল ছবি

সে দিন সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিট। মাত্র দিনের শুরু। আস্তে আস্তে বাড়ছিল কর্মব্যস্ততা। নিরাপত্তার জন্য চেক পোষ্টের দ্বায়িত্ব নিয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। ঠিক ওই সময় খাগড়াছড়ির শহরের অদূরে স্বণির্ভর এলাকায় ঘটে রক্তাত্ত ঘটনা। সে দিন অজ্ঞাত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান ৬জন। আহত হন ৩জন। একই দিন সদরের পেরাছড়া এলাকায় অপর এক ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু হয়। রক্তাত্ত সে ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পুরো দেশ।

গত ১৮ আগস্ট রক্তাত্ত সেই ঘটনায় পূর্ণ হলো এক বছর। তবে বছর পেরিয়ে গেলেও নৃশংস সে ঘটনার কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) তদন্ত করছে। মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন স্থানীয়দের অসহযোগীতার কারণে মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে দীর্ঘ সময়েও মামলার কোনো অগগ্রতি না দেখে হতাশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বণির্ভর বাজারে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলোপাথাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতাসহ ৬জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন ত্রিপুরা (২৮), গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সভাপতি পলাশ চাকমা (৩০), পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক এল্টন চাকমা(২২), জেলা সদরের উত্তর খবংপুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা (৫৩), একই গ্রামের কান্দারা চাকমার ছেলে রুপম চাকমা(২০) এবং ধীরাজ চাকমা(২৭)। এই ঘটনায় আহতরা হলেন সমর বিকাশ চাকমা (৪৮), সুকিরন চাকমা (৩৫) ও সোহেল চাকমা (২২)। ঘটনার পর পলাশ চাকমা, জিতায়ন চাকমা ও ধীরাজ চাকমার মরদেহ ঘটনাস্থলের স্বণির্ভর মোড় থেকে, তপনের মরদেহ ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনের মাঠের বাউন্ডারীর পাশ থেকে, এল্টনের মরদেহ কার্যালয়ের বাম দিকের পুকুর পাড় থেকে, রুপম চাকমার লাশ তাঁর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। শুরুতে সন্ত্রাসীরা স্বণির্ভর এলাকায় অবস্থিত পুলিশের চেক পোষ্ট লক্ষ করে গুলি ছোঁড়ে। অপর দিকে পেরাছড়ায় পৃথক হামলায় শন কুমার চাকমা (৫৫) মারা যান। সে সময় এই ঘটনার জন্য প্রসীত গ্রুপের পক্ষ থেকে এমএন লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করা হয়।

নিহত জীতায়ন চাকমার স্ত্রী প্রভাতি চাকমা বলেন, আমার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল না। তিনি সাধারণ একটি চাকরি করতেন। যা দিয়ে আমাদের পুরো সংসার চলতো। পেনশনের কিছু টাকা পেয়েছিলাম। যা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধ করতে হয়েছে। বর্তমান ঘর ভিটে ছাড়া কিছুই নেই। আমার তিন মেয়ে নিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি সদর থানায় অপর দুটি আদালতে। এরমধ্যে ঘটনার একদিন পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) গৌতম চন্দ্র দে বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামী অজ্ঞাত হলেও ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে যে দুটি মামলা হয়েছে সেখানে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে বান্দরবানের বাসিন্দা ওসিং সই চাক ৫৬জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। একই দিন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা মিঠুন চাকমা ২৭জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটো মামলাতে এমএন লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা তাতিন্দ্র লাল চাকমা ওরফে মেজর পেলে, প্রজ্ঞান খীসা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার নাম উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ১৮ মে মামলা তিনটি চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র ইনিস্পেক্টর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলাগুলো হাতে পাওয়ার পর আমার বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা স্থানীয় কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না। যার কারণে রহস্য উদঘাটনে সময় লাগছে। তবে আমরা আশা করি সহসায় আমরা রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত সংস্থা পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়রা সহযোগীতা করলে আমরা আরো আগে মামলার সহস্য উদঘাটন করতে পারতাম। তারপরও আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। তদন্ত চলছে। আশা করি প্রকৃতি খুনিদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।

নারী নেত্রী নমিতা চাকমা বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনের সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর ভয়ে বিচারও চাইতে পারছেনা। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর চলমান বিবাদ রাজনৈতিক সমস্যা যা সরকার রাজনৈতিক ভাবে নিরসন করতে পারে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply