নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » বছর ঘুরেও পূর্ণতা পায়নি রাঙামাটি জেলা যুবলীগ

বছর ঘুরেও পূর্ণতা পায়নি রাঙামাটি জেলা যুবলীগ

jubaligকাউন্সিল শেষ হওয়ার এক বছর পরও রাঙামাটি জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। গত বছরের ২৪ নভেম্বর জেলা যুবলীগের কাউন্সিলে সভাপতি পদে আকবর হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে নূর মোহাম্মদ কাজল নির্বাচিত হন। আজ আবার বছর ঘুরে সেই ২৪ নভেম্বর। কিন্তু বিগত ৩৬৫ দিন পার হয়ে গেলেও ঘোষণা করা হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি । এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তবে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি সম্পাদক দুজনই। নভেম্বরের শেষে কিংবা আগামী মাসের প্রথমদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে পাহাড়টোয়েন্টিফোরকে নিশ্চিত করেছে যুবলীগের একাধিক সূত্র।

যুবলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়,জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পর্যায়ে কমিটির পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন থাকায় এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনে দেরি হওয়ায় এতদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেওয়া যায়নি। তবে কংগ্রেসে ইতোমধ্যে গঠনতন্ত্র পাস হওয়ার পর নতুন ফরম্যাটে অচিরেই কমিটি ঘোষণা করা হবে জানান জেলার দুই শীর্ষ নেতা।

কমিটি ঘোষণায় বিলম্বের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা থাকলেও জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দাবি, গত এক বছরে তৃণমূল নেতাকর্মীসহ সকলকে নিয়ে যুবলীগ বিভিন্ন কর্মকান্ড করে গেছে। আর যুবলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর চাইতে বেশ জোরালো ও কার্যকর ছিল। তাদের দাবির স্বপক্ষে যুক্তিও অবশ্য আছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের সবচে সক্রিয় সহযোগি সংগঠন যুবলীগই।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ কাজল জানান, জাতীয় কংগ্রেসে কমিটির পরিধি বৃদ্ধির জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। ইতোমধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন হওয়ায় এমাসের শেষে কিংবা আগামী মাসের প্রথম দিকে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবো। তিনি জানান, সদস্য সংখ্যা ৭১ থেকে বৃদ্ধি করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হবে।

তবে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও গত একবছরে দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে যেখানে আওয়ামী লীগের অনেকের দেখা না মিললেও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঠসরগরম রাখতে দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বরাবরই সামনে থেকে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর শান্তিপ্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় জেলা যুবলীগের আনন্দমিছিল, কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের বিশাল উপস্থিতি, বিভিন্ন সময়ে হরতালবিরোধী মিছিল ও বিরোধী দলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানায় আওয়ামী লীগের অন্যমত প্রধান এই সহযোগি সংগঠনটি। সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের সবচে সক্রিয় সহযোগি সংগঠন যুবলীগ। তথাপি তৃণমূল নেতাদের দাবি, যদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় তবে যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলোতে আরো ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকতো।
জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ নেই দাবি করে বলেন, গত এক বছরে যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিই প্রমাণ করে রাঙামাটিতে যুবলীগ কতোটা ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এসব কর্মসূচি সফল হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবনেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি অচিরেই ঘোষণা করা হবে। যোগ্য সকল নেতাকর্মীকে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য কমিটির পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান রাঙামাটি যুবলীগে প্রাণ ফিরিয়ে আনা এই তরুন নেতা।

যুবলীগের সভাপতি কিংবা সাধারন সম্পাদক কমিটি ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণ হিসেবে যত যুক্তিই তুলে ধরেন না কেনো,সাধারন নেতাকর্মীরা তা মানতে নারাজ। তাদের দাবি গত একবছর ধরে সকল আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসূচীতে অংশ নিয়েও যুবলীগ কর্মী ছাড়া আর কোন পরিচয়ই দিতে পারছিনা। পরিচয় বন্ধ্যান্ত ঘোচাতে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা জরুরি বলে মনে করছেন খোদ সভাপতি-সম্পাদকের সাথে সার্বক্ষণিক থাকা নেতাকর্মীরাও।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়ির বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী বান্দরবানে বদলি

অবশেষে বদলি হয়েছেন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকার। তাকে বাঘাইছড়ি …

Leave a Reply