বছরে বেতন ভাতা’ই ১২ লাখ, অথচ আয় মাত্র ৫ হাজার টাকা !

krishi-cover-01‘হর্টিকালচার শব্দের অর্থ হলো ‘বেষ্টনীর মধ্যে চাষাবাদ’। আর আমাদের হর্টিকালচারের বেষ্টনীই নেই। পুরো হর্টিকালচার সেন্টার অরক্ষিত অবস্থায় আছে। সন্ধ্যা হলেই বসে বখাটেদের আড্ডা। হর্টিকালচারের সেন্টারের কাজ নেই বললেই চলে।’ কথাগুলো বলছিলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কৃতি চাকমা।

দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম কয়েকবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। হটিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা,কর্মচারীদের মাসে বেতন ভাতা খরচ হয় এক লাখ টাকা,সেই হিসেবে বছরে এইখাতে ব্যয় প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। অথচ এ বছর হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৯শ টাকা। গত বছর আয় হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই মরে গেছে ২৫টির মত নারিকেল গাছ, চুরি হয়ে গেছে বড় বড় অর্ধশতাধিক সেগুন গাছ।

সরেজমিন দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টার ঘুরে ও কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়,হর্টিকালচারের জায়গার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ একর। সেন্টারের সামনে ও পাশের কিছু অংশে সীমানা দেয়াল থাকলেও অধিকাংশ এলাকা অরক্ষিত। চারা উৎপাদন ঘরে গিয়ে দেখা যায় ঘরটি খালি পড়ে আছে। তিনটি পুকুরে পানি নেই,শুকিয়ে আছে। গাড়ির গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় দুইটি পাওয়ার টিলার ও একটি ট্রলি পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হচ্ছে। দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি মরা নারিকেল গাছ। আমসহ অন্যান্য গাছ গুলো মৃতপ্রায়। সেন্টারের জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে আছে। পানির পাম্পটির নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙ্গে অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। এক সময়ের বাণিজ্যিক ফুল বাগান,লিচু বাগান,লেবু বাগানসহ অন্যান্য ফলের বাগানের কোন অস্তিত্ব নেই।dighinala(khagrachari)-pict

হর্টিকালচার সেন্টারে বর্তমানে একজন নার্সারী তত্ত্বাবধায়ক,একজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা,একজন পাওয়ার টিলার চালক,চারজন গার্ডেনার ও একজন প্রহরী কর্মরত আছেন। পদ শূণ্য আছে একজন প্রহরী ও একজন গার্ডেনারের। কর্মরত কর্মকর্তা,কর্মচারীদের মাসে বেতন,ভাতায় খরচ হয় এক লাখ দুই হাজার টাকা। অথচ বছরে আয় হয় মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মত। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে আয় হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। চলতি বছর আয় হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৯শ টাকা।
উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কৃতি চাকমা বলেন,আমরাও কাজ নাই অবস্থায় দায়ীত্ব পালন করছি। অনেকেই বিভিন্ন চারা কিনতে আসেন তখন আমরা লজ্জায় পড়ে যাই। সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় আমরাও কিছু করতে পারছি না। আমাদের বেতন ভাতা তুলতেও নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। বেতন তুলতে জেলা সদরে চার বার যেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জীবন চৌধুরী উজ্জ্বল ও প্রেসক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজু বলেন,এক সময় দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টারটি পার্কের মত ছিল। অনেকেই বিকালে ভ্রমণে আসতেন। ফুল ও ফলে ভরপুর ছিল। এখন সবই স্মৃতি। হর্টিকালচার সেন্টারটি এখন বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করলে এখন আর ফুল ও ফল কিছুই চোখে পড়বে না। হর্টিকালচার সেন্টার বেসরকারি ভাবে লিজ দেয়া হলে বছরে সরকারের কয়েকলাখ টাকা আয় হতো।

হর্টিকালচার সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহজাহান আলী বলেন,আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। তার আগে থেকেই হর্টিকালচার সেন্টারের দুরবস্থা। বরাদ্দ না থাকায় আমরাও কোন কাজ করতে পারছি না। পুরো এলাকা অরক্ষিত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবগত আছেন বলে জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply