নীড় পাতা » ব্রেকিং » ফিসারি সড়কে শুভ্রতার রোশনাই !

ফিসারি সড়কে শুভ্রতার রোশনাই !

Fishari-road-01‘বিসর্জনের পূর্বে রঙ করা হচ্ছে। কিছুদিন পর গাছগুলো হ্রদে সমাধি দেওয়া হবে তাই শেষবারের মতো রঙের আস্তর লাগানো হচ্ছে।’ গত সোমবার ফিসারি বাঁধের দুই পাশের গাছগুলোতে রঙের প্রলেপ লাগাতে দেখে সিএনজি অটোরিক্সাতে বসে এক যাত্রী এমনই মন্তব্য করছিলো। এসময় তাঁর সাথে কথা বলতেই তিনি আক্ষেপ করে জানান, প্রতিবছরই রাঙামাটির উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। কিন্তু, এই বাঁধটি রক্ষা যেমন জরুরি তেমনি বাঁধটি রক্ষার মাধ্যমে এই এলাকার সৌন্দর্য আরো ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। বাঁধটি রক্ষার জন্য স্থানীয় যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের এতোদিনের অনাগ্রহের কারণে বাঁধটি এখন হুমকির মুখে।

যে বাঁধের ওপর বসে লোকজন নির্মল বাতাস গ্রহণ করে। শহরে চলার পথে যে বাঁধ দিয়েছে দুইপাশে কাপ্তাই হ্রদের জলরাশির দেখার সুযোগ, যে বাঁধ শহরের দুই অংশের লোকের সাথে মেলবন্ধন করেছে, সে বাঁধটি আজ হুমকির মুখে। বাঁধের বেশ কিছু অংশে মাটি ভাঙতে ভাঙতে সড়কের কিনারায় এসে ঠেকেছে। যে গাছগুলো ছায়াসহ সৌন্দর্য বিলিয়ে যাচ্ছে, এরইমধ্যে সে গাছের বেশকিছু হ্রদগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আর কিছু বিলীন হওয়ার পথে। পথচারীদের হাঁটার রাস্তাও ভেঙে পড়েছে। রাতে রাস্তার ওপর চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে রাস্তাটি ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তখন হয়তো বা জোড়াতালি দিয়ে আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা চলবে। কিন্তু একটি উন্নয়ন প্রকল্প এই বাঁধটিকে গড়ে তুলতে পারে রাঙামাটি তথা পার্বত্য অঞ্চলের বড় পর্যটন স্পট।

রাঙামাটির উন্নয়ন কর্মীরা জানায়, বাঁধটির দুইপাশে ওয়াল দিয়ে যেমনি বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব তেমনি ওয়ালের সাথে হাঁটার রাস্তা করে দিলে এবং বসার ব্যবস্থা থাকলে এর চাইতে সুন্দর পর্যটন স্পট মনে হয় পাহাড়ের আর কোনো জায়গায় হতো না।

রাঙামাটি উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক এম জিসান বখতেয়ার এতোদিনেও বাঁধের উন্নয়নে কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাঁধটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। বাঁধটির দুই দিকে ওয়ালের মাধ্যমে যেমন এটি রক্ষা করা সম্ভব তেমনি ফুটপাত নির্মাণ করে এটিকে বিনোদন স্পট হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব। রাঙামাটি যেহেতু পর্যটন নগরী তাই পর্যটনের উন্নয়নে বাঁধের সংস্কারসহ সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ অবশ্যই জরুরি।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বাঁধটি নিয়ে যারাই বেশি কাজ করতো পারত তারা কেউ করেনি। তবুও আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু একটা করার। ইতোমধ্যে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। পানিসম্পদ মন্ত্রী আমাদের চট্টগ্রামের সন্তান তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহী। বাঁধে ওয়ার্ক ওয়ে ও লাইটিং এই দুইটি বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। সব কিছু ঠিক থাকলে আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করতে পারবো। আপাতত শুরু হিসেবে বাঁধের সৌন্দযবর্ধনের জন্য পৌরসভা থেকে গাছে রঙ করা হয়েছে।fishari-road-02

তাই রাঙামাাটিবাসী আর বিলীন চায় না। তারা চায় অন্তত এবার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো একটু নজর দিক এই অসহায় বাঁধের প্রতি। বড় বড় পাহাড়কে যেমন রিটার্নিং ওয়াল দিয়ে ধরে রাখা হয়েছে। তেমনি স্বপ্নের এই বাঁধটিকে ধরে রাখার জন্য একটি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিদের চায় একটু সহানুভুতি। যে অনুভূতি পর্যটন ক্ষেত্রে এ অঞ্চলকে আরো অনেক এগিয়ে নেবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply