প্রিয় ‘মা’ আমার

iraqতখনো মনে হয় কাক ভালো করে ডাকা শুরু করেনি, কিন্তু আমার মা ঘরের উঠোন ঝাড়– দেয়ার আওয়াজ ঠিকই শুনতে পাচ্ছি। নড়েচড়ে কানে বালিশ চেপে ঘুমালাম। একুট পর শুনতে পেলাম থালা বাসনের আওয়াজ। বুঝতে পারলাম, রাতে জমিয়ে রাখা ময়লা থালা বাসন ধোঁয়ার কাজ করছে মা। ভ্রু কুচকে একুট ঘুমু চোখ মেলে দেখলাম আলো ভালো করে ফোটেনি।
মাত্র সাড়ে ৫টা বাজে, ততক্ষনে চা তৈরি। নিজে চা খেয়ে মনযোগ দিলেন ঘরের আশপাশে গাছগাছালি লাগানো, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে। নিত্য দিনের এই কাজ শেষ হতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৮টা বাজে(ঘরের আশপাশ দেখে আজো বুঝে উঠতে পারিনি ঘরের সামনে পিছনের দুই উঠনো প্রতিদিন করার এমন কি কাজ)।

প্রতিদিন সকালে এক ফাঁকে আমার বাবা ও বড় ভাইয়ের জমানো ময়লা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে রেখেছে। উঠোন বাড়ীর কাজ শেষ করেই তিনি এবার কাপড় ধোয়ার কাজে নেমে পড়েন। তারপর স্নান করে পূজা অর্চনা করেন। আনুমানিক সাড়ে ১০টার মধ্যে শেষ করে তিনি রান্নার কাজে হাত দেন। চলে প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

এক এক করে আমরা বাপ বেটা তিনজন খেতে আসি। এবং তিনবারি রান্নাঘরে ছুটে আসতে হয়। একটু টিভি আর একটু ঝিমুনি এই দুইয়ের সম্মিলনে বিকাল পার। তরিতরকারী গরম করা, তিন জায়গায় থাকা তিন মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলা(যদিও সকাল থেকেই কথা বলা অব্যাহত থাকে) এই নিয়ে সন্ধ্যা পার। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর আর সয্য করতে পারেনা। তাইতো সন্ধ্যার পর থেকে কখনো সোফাই, কখনো খাটে, কখনোবা পাকায় শুয়ে পড়ে। দরজায় একটু আওয়াজ হলেই অমনি হুমরি খেয়ে উঠে। বলে উঠে কেরে অপু নাকি বাবু ?।

এক এক করে আমরা বাপ ছেলেরা ঘরে প্রবেশ করি। আর ততবারি মা হঠাৎ ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে। যেহেতু কিছুক্ষন পরপর একজন একজন করে ঘরে প্রবেশ করে তাই একজন একজনকে ভাত বাড়িয়ে দিতে হয়(আমাকে ছাড়া, নিজেরটা নিজেই নিয়ে খাই)। সবাইকে খাইয়ে যদি পর্যাপ্ত থাকে তবুও কোনরকম তিনি খাবে, এই ভেবে তরকারী যদি অল্প থাকে ছেলেরা সকালে ভাত খেতে পারবে।

জানি যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই অভ্যাস কখনো বদলাতে পারবোনা। মাঝের মধ্যে একটু বকাঝকা করি এই কারণে। বাসি তরকারী মা সহজে ফেলে দেয়না। তিনি অতি যতœসহকারে গরম করে রাখেন। এবং নিজে খান। সবাই ঘুমিয়ে পরার পর তিনি ঘুমতে যাবেন। ও বলা হয়নি, তিনি সব সময় বলেন, “আমি যদি সন্ধ্যায় একটু খানি শান্তিতে ঘুমাতে পারি তাহলে সারারাত না ঘুমালেও চলবে’। যত রাতই ঘুমাক সকালে আযান দেয়ার অনেক আগেই উনার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রতিদিন ভাবি সত্যিই পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ নেই।
প্রতিদিন উনি আমার ভাবনায় জায়গা দখল করে রাখেন। উনার কষ্টের কথা ভেবে দীর্ঘ ৩/৪ বছর ধরে নিজের কাপড় নিজেই ধুই। নিজের ভাত নিজেই পাতিল থেকে নিয়ে খাই, থালাটাও ওনার ধুতেঁ হবে ভেবে রেখে যায়না। কিন্তু ওনার কষ্টের কথা ভেবেই এই কয়েকটা কাজ করি তা উনি জানেননা। আমার মা যদি জানে যে উনাকে নিয়ে আমি এতো ভাবি উনি অবাক হবেন কারণ আমি কখনো নিজের ভেতরের অনুভূতি কাউকে জানতে দেইনা। ওনাকে কখনো হইতোবা ওভাবে বলাও হবে না “মা আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি”। তবে বলতে না পারলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওনাকে আমি আমার পূর্ণ ভালোবাসায় সিক্ত করতে চাই। যা একটি মা সন্তানের কাছে প্রত্যাশা করে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply