নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » প্রাণ ফিরছে রাঙামাটি পার্কের

প্রাণ ফিরছে রাঙামাটি পার্কের

pic-01রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাজদ্বীপ ঘোষ। শহরের রিজার্ভ বাজারের বাসা থেকে প্রতিদিনই রাঙামাটি শিশু পার্কের ভেতর দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে সে । কিন্তু এই পার্কের দুরবস্থার জন্য তার মনটা খুবই খারাপ থাকতো। তার বাবার কাছ থেকে এই পার্কের কথা সে অনেক শুনেছে। এই পার্কে একসময় খেলতো ছোট ছোট শিশুরা। দোলনা থেকে শুরু করে শিশুদের খেলার অনেককিছু ছিলো। কিন্তু পার্ক ধ্বংস করে ভবন তৈরির উদ্যোগ নেয়াতে শিশুদের খেলাধূলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বর্তমানে নির্মিতব্য ভবনের স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়েছে। এখন পার্কটি পুনঃ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পার্কটিতে কিছু গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তাই রাজদ্বীপ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে. আর মাত্র কয়েকদিন বাকী, তারপর সেও খেলতে পারবে এই পার্কে।

আট বছর আগে ২০০৫ সালে রাঙামাটি পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পার্কটি ধ্বংস করে কমিউনিটি সেন্টার তৈরির লক্ষ্যে ভবন তৈরির কাজ শুরু করেন। তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ । আন্দোলনের এক পর্যায়ের বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং পরে হাইকোর্ট পার্কে যেকোন ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে । এর প্রায় আট বছর পর জেলাপ্রশাসন, পৌরসভা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সম্প্রতি এই সমঝোতার ভিত্তিতে নির্মিতব্য স্থাপনা অপসারণ করে রাঙামাটি পৌরসভা।

নানা টানাপোড়ন ও আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাঙামাটি পার্কটি গত আটবছর না ছিল পার্ক; না ছিল কমিউনিটি সেন্টার। এতে যেমন পর্যটন শহরের সৌন্দর্য্য হানি হয়, তেমনি এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে অবসর বিনোদনের এই নির্মল কেন্দ্রটি অপরাধ আর অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। সম্প্রতি আবারো জেলা প্রশাসন পরিত্যক্ষ পার্কটিকে নিয়ে শুরু করেছে নতুন কর্মপরিকল্পনা। পার্কের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর বেদখল হওয়া জায়গার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে প্রশাসন,গঠন করা হয়েছে পার্ক ব্যবস্থাপনা কমিটি।

pic-02
পার্কে গাছের চারা লাগাচ্ছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল

রিজার্ভ বাজারের তৈয়বিয়া আইডিয়্যাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী বলেন, পার্কটি অরক্ষিত থাকায় শিশু ও পর্যটকরা বিনোদন ও প্রকৃতির ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে গড়ে উঠায় ও বাড়িতে গাছ না থাকায় শিশুরা প্রকৃতির ছোঁয়া পায় না বললেই চলে। পার্কটির ভবন ভেঙে ফেলার পর নতুন করে পার্কটি শিশু ও পর্যটকদের উপযোগী করে গড়ে তোলা দরকার। এতে শিশুরা প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে। তাদের মনমানসিকতাও উৎফুল্ল থাকবে। পার্ককে ঘিরে সমস্ত অসামাজিক কার্যকলাপও বন্ধ হবে।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা ও পৌরসভার সাথে সমঝোতা হওয়ার পর আমরা পার্কের ওপর নির্মিত ভবনটি ভেঙে দিয়েছি। কিন্তু পার্কটির বর্তমান মালিকানা জেলাপ্রশাসনের হাতে। তাই পার্কের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ও পার্ক তৈরির কাজটি জেলাপ্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, আগের মতোই শিশুদের উপযোগী দোলনা ও স্লাইডারসহ বিভিন্ন রাইড এবং গাছপালাসহ ফুল বাগান গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যেই উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি পঁচিশ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে,শীঘ্রই এর কাজ শুরু হবে। পার্কে বেশকিছু মূল্যবান গাছের চারাও লাগানো হয়েছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু পার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে রাঙামাটি পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ‘রাঙামাটি পার্ক’ নাম দিয়ে এই পার্কটির যাত্রা শুরু হয়। পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর রাঙামাটি শহরের বিনোদনের অন্যতম স্থানে পরিণত হয় এই পার্কটি। শিশুদের বিনোদনের জন্য তেমন ব্যবস্থা না থাকলেও আগ্রহ ভরে শিশুরা অভিভাবকদের সাথে নিয়ে এই পার্কে নিয়মিত বেড়াতে আসতো। সেই সময় শিশুদের মানসিক বিকাশে পার্কটি মূল্যবান অবদান রাখে। কিন্তু ২০০৫ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে পার্কের গাছ কেটে পার্কের ভিতর দুই তৃতীয়াংশ জায়গাজুড়ে কমিউনিটি সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিলে ওলট পালট হয়ে যায় সব কিছু ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply