নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » প্রযুক্তির কল্যাণে রাঙামাটিবাসীর ভিন্ন এক উপভোগ

প্রযুক্তির কল্যাণে রাঙামাটিবাসীর ভিন্ন এক উপভোগ

প্রযুক্তির উৎকর্ষকার এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতার সম্মূখীন রাঙামাটিবাসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে রাঙামাটিবাসীর সরাসরি সংযুক্তি। শনিবার দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিট হতে ১২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৬ মিনিট রাঙামাটির হাজারো জনগণ সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন গণভবনের সাথে যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটিবাসীর প্রতিনিধিদের কথা শুনেছেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। শুধু তাই নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সমাপনী বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রসঙ্গ এনে বক্তব্য রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাঙামাটিবাসীর প্রতি এই আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছে রাঙামাটিবাসী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটির সাথে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিং এ অংশ নিবেন এই বিষয়ে আগেভাগেই প্রচার হওয়ার পর থেকে রাঙামাটিবাসীর মাঝে ভিন্নতর এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে এই আয়োজনকে সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সকল শ্রেণির প্রতিনিধির সাথে একাধিকবার মত বিনিময় করে নেয়া হয় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটিস্থ প্রধান কার্যালয়ের প্রাঙ্গণের মূল ভিডিও কনফারেন্সিং এর স্থান নির্ধারিত হলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে সরাসরি বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এই কনফারেন্সিং এর। জনসভার আদলে বিশাল উন্মুক্ত পরিবেশে এটি প্রথমবারের মতো আয়োজন হলেও আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সকলের সক্রিয় সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়। ভিডি কনফারেন্সিং এর মূল স্থানে হাজারো লোকজনের সমাগম হলেও সকলের মাঝে ছিল স্থিতিরতা এবং অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার প্রচেষ্টা। তাই এই বিশাল আয়োজন সত্ত্বেও সর্বত্র ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

মূল আয়োজন স্থলের পাশাপাশি জেলা সদরের যে ৫টি স্থানে ভিডিও কনফারেন্সিং এর সম্প্রচার সরাসরি বড় পর্দায় দেখানো হয় সেসব জায়গায় ও ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন রাঙামাটি জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং এ যুক্ত হয় তখন সবার মাঝেই সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। প্রযুক্তির কল্যাণে রাঙামাটির লোকজন যেন তাদের মাঝেই খুঁজে পান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। অপর দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও রাঙামাটি জেলার জন্য সর্বোচ্চ সময় বরাদ্দ করেন এবং রাঙামাটির ভিডিও কনফারেন্সিং পর বিভিন্ন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সিং এর রাঙামাটির সংযুক্তির প্রথম পর্বেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এই সময় তিনি রাঙামাটিতে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রাঙামাটিরবাসীর অবস্থানের কথা বলেন। এরপর তিনি পরিচয় করিয়ে দেন স্থানীয় বিশিষ্ট জনদের। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহা পরিচালক কবির বিন আনোয়ারের নির্দেশনায় প্রথমেই হেডম্যান সমিতির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন হেডম্যান এসোসিয়েশনের সম্পাদক কারণ চাকমা। তিনি তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য জেলার হেডম্যান ও কার্বারিদের সম্মানিভাতা বৃদ্ধিসহ তিন পার্বত্য জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সমতল জায়গার ন্যায় শতকরা ৫০ ভাগ নির্ধারণের আহবান জানান। এরপর বক্তব্য রাখেন কার্পেন্টার আবুল হাশেম। তিনি তার বক্তব্যে রাঙামাটির কাঠ নির্ভর শিল্পকে পরিপূর্ণ শিল্পে পরিণত করার জন্য আহবান জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কারণেই রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী থুই নু চিং মারমা বক্তব্য রাখেন। শিক্ষার্থী থুইনুচিং রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষক সংকট দূরীকরণসহ কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি কলেজ বাসের আবেদন করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখান সার্বিক পরিস্থিতির বিভন্ন বিষয় উল্লেখ করেন এবং পার্বত্য অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আহবান জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাঙামাটিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই হ্রদসহ স্থানীয় নদীর ড্রেজিং কাজ শুরু করার আহবান জানান এবং কর্ণফুলী পেপার মিলসকে আবারো সক্রিয় করার আহবান জানান।

রাঙামাটিবাসীর বক্তব্যের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ভূমি অধিগ্রহণে পার্বত্য জেলার জনগণও যাতে শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক সংকটসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের আশু সমাধানের জন্য পাশে উপবিষ্ট শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি কলেজ বাস দেয়ার ঘোষণা দেন। মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিং এর সমাপনী বক্তব্যে আবারো রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের পাশাপাশি অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি এবং বন্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের জন্যও দুটি কলেজ বাস দেয়ার ঘোষণা দেন।

প্রথমবারের মতো বিশাল পরিসরে আয়োজিত এই ভিডিও কনফারেন্সিং এ সর্বসাধারণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভিডিও কনফারেন্সিং এ প্রথম সারির পাশাপাশি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সারিতেও ছিল বিশিষ্ট জনের উপস্থিতি। হাজারো জনগণের মাঝে মাত্র ৪ জন ভিডিও কনফারেন্সিং এ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেলেও কথা বলতে না পারলেও কারো মাঝে ছিল না কোনও হতাশা। সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সহ প্রতিটি সরকারি বিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন এখানে। জেলা অওয়ামী লীগের সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বরসহ জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ, চেম্বারের সভাপতি, প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ প্রতিটি পেশাজীবি মহলের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একটি ভিন্নতর আয়োজনের সৃষ্ঠ ইতিহাসের সাক্ষী হলেন।

এই ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রমাণিত হলো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই আর রাঙামাটিবাসী। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সক্রিয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। যেখানে প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোন, পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের আলো। এখন তাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার শুভক্ষণ।

লেখক : সংবাদকর্মী,বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং অধ্যক্ষ,রাঙামাটি শিশু নিকেতন

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply