নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » প্রভাংশু ত্রিপুরা : পাহাড়ের বাতিঘর

প্রভাংশু ত্রিপুরা : পাহাড়ের বাতিঘর

provansu tripuraবাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বাতিঘর তিনি। এ দেশের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তাঁর হাত ধরেই লিখিত রূপ পেয়েছে। পৌরাণিক গবেষণা, ত্রিপুরা সাহিত্য সংস্কৃতি আর ইতিহাস রচনায় তাঁর বিশেষ প্রকাশনা সমাদৃত। সে জন্য তাঁকে পাহাড়ের প্রাজ্ঞজনরা বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অভিধান’। এসব স্বীকৃতিস্বরূপ প্রভাংশু ত্রিপুরা পেয়েছেন বাংলা একাডেমির পুরস্কার। সাহিত্যে গবেষণামূলক বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্ভবত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাংশু ত্রিপুরা; যিনি বাংলা একাডেমির ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম সবচেয়ে সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হলেন।

তিনি পুরোদমে একজন জীবননির্ভর প্রচারবিমুখ মানুষ। তাঁর গবেষণার মুখ্য বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি। এর বাইরেও নাটক, উপন্যাস, কবিতা, গল্প এবং গানের ওপরও রয়েছে তাঁর দখল। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্রভাংশু ত্রিপুরা এলাকায় একজন গুণী মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তিনি কেবল লেখকই নন, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য নিবেদিত সংস্কৃতিকর্মীও বটে। তাই অতীত ও বর্তমান ধারার সংমিশ্রণে আধুনিক সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতায় তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বাংলা একাডেমির পুরস্কার ছাড়াও তিনি লেখা প্রকাশনার ‘সেরা গল্পকার’ পুরস্কার ২০১০, অবসর সাংস্কৃতিক পরিষদের ‘সাহিত্য পুরস্কার’ ২০১০ ও আগরতলা ‘বইমেলা সম্মাননা’ ২০০০ পুরস্কার লাভ করেন।

খাগড়াছড়ির প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র দৈনিক অরণ্যবার্তার সম্পাদক ও গবেষক চৌধুরী আতাউর রহমান তাঁর জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘প্রভাংশু একজন পৌরাণিক বিষয়ক গবেষকও। নিজের জাতিসত্তাকে অক্ষুণ্ন রেখে পাহাড়ের ১১টির বেশি জনজাতির কৃষ্টি-সংস্কৃতির অনুশীলন, চর্চা ও তা মূলধারায় বিকশিত করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। পাহাড়িদের মধ্যে প্রথম বাংলা একাডেমির সম্মানজনক পুরস্কার প্রাপ্তিতে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষই আনন্দিত।’

এনজিও ব্যক্তিত্ব মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘ওনাকে (প্রভাংশু ত্রিপুরা) ত্রিপুরারা সাংস্কৃতিক অভিধান বলে থাকেন। তিনি ত্রিপুরা; এমনকি বাংলা সহিত্যের নানা খুঁটিনাটি মুখস্থই বলতে পারেন।’

বাংলা একাডেমির সাহিত্যে গবেষণার জন্য পুরস্কার পাওয়া প্রভাংশু ত্রিপুরা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সাহিত্যে দীর্ঘদিনের সাধনার পর এমন সম্মাননা পেয়ে আমি খুশি। কারণ, আমিই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান আধুনিক সংস্কৃতির রূপায়ণ করেছি।’

খাগড়াছড়ির পানছড়ির মদন কার্বারীপাড়ায় তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালের ৬ এপ্রিল। বাবা ঋষি শ্রী সন্দ মোহন ত্রিপুরা আর মা কুমুদীনি ত্রিপুরা। চার ভাই আর এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply