নীড় পাতা » বান্দরবান » প্রধান শিক্ষক নেই ৫৮ স্কুলে, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ৮৮টি

বান্দরবানের প্রাথমিক শিক্ষা

প্রধান শিক্ষক নেই ৫৮ স্কুলে, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ৮৮টি

শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পার্বত্য জনপদ বান্দরবানের প্রাথমিক শিক্ষা। জেলার সাতটি উপজেলায় ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রধান শিক্ষকের কাজ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৮টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। জেলায় ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর হার ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি থানচি উপজেলায়। এদিকে শিক্ষকের প্রয়োজন যেখানে শিক্ষক নেই, কিন্তু জেলা শহরের অনেক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছে অভিযোগ অভিভাবকদের।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জেলার সাতটি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৪৪০টি। শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বান্দরবানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। সঠিক পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। জেলার ৫৮টি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকেরাই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে সাতটি উপজেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৮৮টি। প্রধান শিক্ষক শূন্য বিদ্যালয় রয়েছে, সদরে ২টি, রুমায় ১৩টি, রোয়াংছড়ি ৬টি, থানচি ৪টি, লামা ১১টি, আলীকদম ১২টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ১০টি। গতবছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাশের হার ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী হার ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের হারে এগিয়ে আছে দুর্গম থানচি উপজেলা।

এদিকে শিক্ষক সংকটে ভেঙে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। পাহাড়ে প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম আরেকটি সমস্যা হচ্ছে ‘বর্গা’ শিক্ষক। বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষক নিজে স্কুলে উপস্থিত না থেকে তার বদলে এলাকার অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবককে মাসিক ৩/৪ হাজার টাকা বেতনে বর্গা শিক্ষক হিসাবে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেয়ার জন্য দায়িত্ব দেন। আর সারাবছর স্কুলে উপস্থিত না থেকে মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নেন। অপরদিকে ডেপুটেশনে সরকারী স্কুলের শিক্ষকরা নানাভাবে শহরমুখী হচ্ছে। দূরদূরান্তের স্কুলগুলোতে যোগদানের পরপরই ক্ষমতার অপব্যবহার করে শহরের প্রাণকেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডেপুটেশনে চলে যাচ্ছে। অনেকে আবার যুগযুগ ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্কুলগুলোতে কর্মরত আছেন। ফলে শিক্ষক সংকট কাটছেনা পাহাড়ের গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্কুলগুলোতে। তবে জেলা শহরের অনেক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছে অভিযোগ অভিভাবকদের।

নাইক্ষ্যংছড়ির ক্রোক্ষ্যং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পুচা অং চাক বলেন, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৭০ জন। শিক্ষকের পদ ৪টি। কিন্তু ছয়টি বছর ধরে কর্মরত আছে শুধু ২ জন শিক্ষক। শিক্ষকের সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। সব শিক্ষকই শহরমুখী, যে কারণে গ্রামীণ স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট কাটছেনা। শিক্ষার মানোন্নয়নে বদলিক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য দীর্ঘদিন ধরে। অসংখ্যবার মন্ত্রণালয়ে লেখালেখি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করে আলোচনা করা হয়েছে। পাাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মানোন্নয়নে শূন্য পদগুলোতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার প্রদানে পার্বত্য জেলা পরিষদকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিশেষ ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানানো হয়। কিন্তু উদ্যোগ নেয়া হয়নি আজও। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংস্থা পিএসসি ধারা নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষকেরা চাকরী পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে বদণি হয়ে বিভাগীয় শহরসহ সমতল ভূমির জেলাগুলোতে চলে যায়। পাহাড়ের শিক্ষকের পদগুলো আবারও শূন্য হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার দেয়া হবে। শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে সংকট কেটে যাবে। ডেপুটেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকের প্রয়োজন যেখানে, সেখানে শিক্ষক নেই। কিন্তু শহরের অনেক স্কুলেই অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে কথাটি মিথ্যা নয়। আবার যুগযুগ ধরে গ্রামীণ স্কুলগুলোতে শিক্ষকতা করছে এমন শিক্ষকও আছে অনেক। বদলি ক্ষেত্রে বৈষম্য যে হচ্ছেনা, তা কিন্তু নয়। আমরাও বিষয়টি অনুধাবন করি একটি নীতিমালা থাকা দরকার। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পার্বত্য জেলা পরিষদের ন্যস্ত বিভাগ, পরিষদেই বদলিগুলো করে। অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থটা দেখা হয়না, শিক্ষকের প্রয়োজনটাই অগ্রাধিকার পায় বদলি ক্ষেত্রে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে পুলিশের ত্রাণ সহায়তা

মহামারী করোনাভাইরাস ( কভিট-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাই থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত …

Leave a Reply