নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » প্রত্যাশা প্রাপ্তির অংক মেলাচ্ছেন পাহাড়ের নেতারা

প্রত্যাশা প্রাপ্তির অংক মেলাচ্ছেন পাহাড়ের নেতারা

Untitled-2অবরোধ কিংবা হরতাল,পথে পথে নানা জায়গায় ব্যারিকেড,কোথাও গুলি,কিংবা গুলতি ছোড়া,আহতও হয়েছেন অনেকে,তবুও শেষ বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর। ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় এভাবেই মিলেছে মানুষের স্রোত,নানা মোহনা থেকে এসে। কেউ এসেছেন দুর গ্রাম অথবা পাহাড়ী ঝিরি ঝরনা পেরিয়ে, কেউবা রুটি রুজির দৈনন্দিন কাজ ফেলে,আবার কেউবা শুধু নেত্রী বা দলকে ভালোবেসে। তবে নানান প্রত্যাশা নিয়েই এসেছেন সবাই সরকার প্রধানের বক্তব্য শুনতে। বেলাশেষে কারো প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে,কেউবা হতাশা নিয়েই ফিরেছে নিজ বাড়ীতে। সফর শেষেও তাই চায়ের কাপে ঝড়। এ সফর থেকে কি পেলো পাহাড়ের মানুষ? নানা জনের নানান যুক্তি। সাধারণ মানুষের যুক্তি নানা সমীকরণে বাঁক নিলেও পার্বত্য মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করে যে আঞ্চলিক দলগুলো, তাদের ভাবনায় রয়েছে একান্তই নিজস্ব মূল্যায়ন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে খুব একটা সন্তুষ্ট নন তারা। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতারা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী যে স্টেডিয়ামে এসে প্রধানমন্ত্রী শান্তিবাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র জমা নিয়েছেন সেই স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ১১ নভেম্বর হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর খাগড়াছড়ি সফর নিয়ে প্রত্যাশার কমতি ছিলোনা পার্বত্যবাসীর সফরকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে সাধারন মানুষ খুশি হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মিলাতে পারছেনা পাহড়ের আঞ্চলিক দলগুলো। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেকে হাতাশায় ডুবলেও আবার অনেকের আছে ক্ষোভে।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে বলে তিনি আশার বাণী শোনাতে এসেছেন। পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের আগ্রহ থাকলে এতোটা বছর সময় নিতোনা। দীর্ঘ বছর ধরে আমাদের ন্যায্যতা পূরণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি,রাজপথে আন্দোলন করছি । এখন আমাদের আর বলার কিছুই নেই। আমরা এখন দেখতে চাই সরকার কি করে। ইউপিডিএফকে প্রধানমন্ত্রীর দেখে নেয়ার হুমকির বিষয়ে এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আমরা এতোদিন ধরে বলে আসছি ইউপিডিএফ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট করছে। কিন্তু আমাদের কথা সরকার গুরুত্ব দেয়নি। আর খোদ প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের অপকার্যকলাপের স্বীকার এখন বুঝবে ইউপিডিএফ কি জিনিস ! সংশোধিত ভূমি কমিশন আইন আগামী অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় তিনি বলেন, অন্তত পক্ষে এই আইনটি পাশ হলে মনকে বোঝানো যাবে। ৭৭টি চুক্তির মধ্যে ৫৫টি বাস্তবায়ন হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এমন কথায় সজীব চাকমা জানান, দেখতে হবে মৌলিক চুক্তির বিষয় কোনগুলো। শুধু চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে মুখে ফেনা তুলে লাভ নাই।

আমরা এতোদিন ধরে বলে আসছি ইউপিডিএফ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট করছে। কিন্তু আমাদের কথা সরকার গুরুত্ব দেয়নি। আজ খোদ প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের অপকার্যকলাপের স্বীকার। এখন বুঝবে ইউপিডিএফ কি জিনিস !…………………..সজীব চাকমা

সংস্কাপন্থী হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা)’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সুধাকর চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়ি আসার আগে অংক কষে হিসাব নিকাশ করে এসেছেন। কি বললে আগামী বার নির্বাচনের বৈতরনি পাড় হয়ে যাওয়া যাবে। উনি এতই আন্তরিক হলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেননি কেন ? প্রধানমন্ত্রীর আশার বাণীতে আমরা আশাবাদী হতে পারিনি,বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আশার বাণীতে আমরা আশাবাদী হতে পারিনি……..সুধাকর চাকমা

ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, উনি(প্রধানমন্ত্রী) কয়েকটি স্থাপনা উদ্বোধন করে যদি পাহাড়ের উন্নয়ন করতে পেরেছেন, সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন, ভাবলে তা হবে ভ্রান্ত ধারনা। পাহাড়ের সব চেয়ে বড় সমস্যা ভূমি সমস্যা। যতক্ষন পর্যন্ত সেটেলারদের এখান থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত পাহাড়ে শান্তি আসবেনা। কারণ সেটেলাররা বসবাসরত জায়গার মালিক পাহাড়ীরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটেলারদের উচ্ছেদের বিষয়ে কোন এই কথা উঠে আসে নাই। এই সরকারের আমলে অনেক সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনায় সরকার নিরব ভূমিকা পালন করেছে। ইউপিডিএফকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর হুমকির বিষয়ে নিরন চাকমা বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা এভাবে হুমকি দিতে পারেন না। এটি গনতন্ত্র পরিপন্থি। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণ।

একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা এভাবে হুমকি দিতে পারেন না। এটি গনতন্ত্র পরিপন্থি। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণ………..নিরন চাকমা

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি শাহাজল ইসলাম সজল বলেন, ক্ষমতার শেষ মুহুর্তে এসে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলা খুবই দুঃখজনক। পাহাড়ের সমস্যা না বুঝে চুক্তি বাস্তবায়ন করলে পাহাড়ে সংঘাত বাড়বে। আর সংশোধিত ভূমি আইন সংসদে পাশ হলে বাঙ্গালিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে,যা আমরা চাইনা। এই আইন পাশ হওয়ার আগে বাঙ্গালিদের মতামত নেয়া দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে ভূমি আইন পাশ ও চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে তাহলে কঠোর আন্দোলন ছাড়া বাঙালীদের আর কিছুই করার থাকবেনা।

ক্ষমতার শেষ মুহুর্তে এসে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলা খুবই দুঃখজনক। পাহাড়ের সমস্যা না বুঝে চুক্তি বাস্তবায়ন করলে পাহাড়ে সংঘাত বাড়বে। আর সংশোধিত ভূমি আইন সংসদে পাশ হলে বাঙ্গালিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে,যা আমরা চাইনা।….শাহাজল ইসলাম সজল

তবে হতাশার মাঝে আছে প্রত্যাশার আলোও। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন আগামীবার ক্ষমতায় আসলে খাগড়াছড়িতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবেন। এই বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুধীন কুমার চাকমা বলেন, খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজ যদি বিশ্ববিদ্যালয় হয় তাহলে এই জনপদ শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। এখানকার ছেলেমেয়েরা আর বাইরে গিয়ে পড়তে হবেনা। পাশাপাশি খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থিত কলেজগুলো সরকারীকরণ করারও দাবী জানান এই শিক্ষাবিদ।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন,প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটি পর এবার খাগড়াছড়ি সফর করলেন। দুই পার্বত্য জেলাতেই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে পাহাড়ের মানুষ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে কতটা ভালোবাসে। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য এলাকার জন্য যে বিপুল উন্নয়ন করেছেন সেই কারণেই মানুষ ভালোবেসে আবার নৌকায় ভোট দেবে বলেন জানান এই নেতা। একই সাথে তিনি বলেন, নেত্রীর সফরের কারণে পার্বত্য এলাকার নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত।

প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য এলাকার জন্য যে বিপুল উন্নয়ন করেছেন সেই কারণেই মানুষ ভালোবেসে আবার নৌকায় ভোট দেবে। নেত্রীর সফরের কারণে পার্বত্য এলাকার নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত।………মোঃ মুছা মাতব্বর

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply