নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দেবী প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ আঁচর

দেবী প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ আঁচর

puja-02হাতে গোনা আর দু’তিনটা দিন। তারপরই মন্দিরে বেজে উঠবে ঢাক আর কাঁসা। উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে মন্দির প্রাঙ্গন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। পাহাড়ে বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায় সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী হওয়ায় তারাও সমানভাবে এই উৎসব পালন করে।

সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও পাহাড়ে এই উৎসব পাহাড়ী বাঙ্গালীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পূজা মন্ডপগুলোতে অন্যান্য ধর্মীবলম্বীদের উপস্থিতিও থাকে চোখে পরার মত। সকল সম্প্রদায়ের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে পূজামন্ডপগুলো।

খাগড়াছড়িতে দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে মন্দির গুলোতে চলছে শেষ মূহুর্তের কাজ। মৃৎ শিল্পীরা এখন ব্যস্ত মাটির কাজ শেষে প্রতিমায় রঙ তুলির আঁচর শেষ আঁচর দিতে। মন্দিরগুলোতে প্রায় শেষ সাজসজ্জা সহ প্যান্ডেল তৈরির কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ির বৃহৎ পূজা মন্ডপ শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ণ মন্দিরে মাঠ জুড়ে প্যান্ডেলের কাজ চলছে। প্রতিমায় রঙ করছেন মৃৎ শিল্পীরা। পাশে চলছে মঞ্চের সাজসজ্জা। দূর্গা পূজায় এই মন্দিরের আশপাশে প্রতি বছর মেলা বসে। বাহারি রঙ্গের পশরা নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন মেলায় বেচাকেনা করতে। তাই আগে ভাগে দোকান বুকিং দিতে ভিড় করছেন অনেক খুচরা মৌসুমী ব্যবসায়ী।

এছাড়া জেলা সদরের শান্তিনগর, আনন্দনগর, জগন্নাথ মন্দিরসহ অন্যান্য মন্দিরে দূর্গা পূজায় নতুনত্ব আনতে ব্যস্ত সময় পার করছে একঝাঁক কর্মী।

খাগড়াছড়ির গীতা আশ্রম সার্বজনীন দূর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত দত্ত জানান, ‘ বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবারের পূজায় নতুনত্ব থাকছে। প্রতিমা, মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা সব কিছুতেই নতুনত্ব আনা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। পূজার নতুনত্ব দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে দূর্গা পূজা আসার অনেক আগ থেকে বিপণী বিতান গুলোতে ভীড় চোখে পরার মতই। পূজায় নতুন রূপে সাজা হবেনা তা কি হয়? তাইতো বিপণী বিতান গুলোতে পড়েছে বেচাকেনার ধুম। শিশু থেকে বৃদ্ধা সবাই মেতেছে কাপড় চোপড় কেনার তালে। পোষাকের সাথে তরুণীদের প্রসাধনী চাই’ই। তাইতো কাপড়ের সাথে মানানসই প্রসাধনি কিনতে ভিড় লেগেই আছে প্রসাধনীর দোকান গুলোতে।

সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপনের জন্য তৎপর পুলিশ প্রশাসনও। সার্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে দফায় দফায় বেঠক করছেন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

খাগড়াছড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এবার পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৪৭টি। তার মধ্যে সদরে ১৪টি, মাটিরাঙ্গায় ৭টি, মহালছড়িতে ২টি, মানিকছড়িতে ২টি, লক্ষীছড়িতে ১টি, দীঘিনালায় ৯টি, পানছড়িতে ৮টি এবং রামগড় উপজেলায় ২টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে জেলা সদরে ১টি, দীঘিনালায় ২টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, পূজা মান্ডপগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ শ্রেণীতে ভাগ করে হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজা মান্ডপে ২৩ জন, গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপে ১৯ জন ও সাধারন গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপে ১৭ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে মোট ১৩৫৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি এবং র‌্যাবকে নামানো হবে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

হেফাজতের হরতালের প্রভাব পড়েনি খাগড়াছড়িতেও

ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও। রোববার সকাল …

Leave a Reply