নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » প্রতিবন্ধী অভাবী বাবার মেধাবি সন্তান

প্রতিবন্ধী অভাবী বাবার মেধাবি সন্তান

ANOWAR-PICপ্রতিবন্ধি বাবা আবু তাহের যে অর্থ উপার্জন করে সেটা দিয়েই নুন আনতে পানতা ফুরায়। নিজের উপার্জিত অর্থের কিছু টাকা আর বাবার অল্প আয় মিলিয়ে কোন মতে চলছে সংসার। অভাব অনটনের সংসারে নিজের এবং দুই বোনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন নিজের কাঁদে। সেই অভাবী সংসারে কঠিন জীবন যুদ্ধে চলতে চলতে সে এখন নিজেকে নিয়ে গেছে দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ‘গ’ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বলছিলাম খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন(১৮)’র কথা। মেধাবি এই ছাত্র ভর্তি যুদ্ধে টিকে সুযোগ পেয়েছে ‘গ’ইউনিটে ভর্তির।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানছড়ির মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী আবু তাহের ছেলে আনোয়ার হোসেন। ৩ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় আনোয়ার হোসেন। প্রতিবন্ধী বাবা উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোনরকম সংসার চলে। আর আনোয়ারের টিউশনির থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চলে নিজের এবং দুই বোনের পড়ালেখার খরচ। মেজ বোন মণি আক্তার পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরিক্ষার্থী। এবং একই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তাসলিমা আক্তার জেএসসি পরিক্ষার্থী।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়া মেধাবি আনোয়ার ২০১৩ সালে পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে পান জিপিএ-৫। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে আসে প্রত্যাশিত জিপিএ-৫।

সর্বশেষ মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ১শ ৭০টি আসনের বিপরীতে এবার ৪০ হাজার ৯শ ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নেন। এরমধ্যে ৭ হাজার ১শ ৯৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। যাদের মধ্যে মেধা তালিকায় ৮০ তম স্থান পান আনোয়ার হোসেন। তার রোল নাম্বার ৭০৭১৭৭।

আনোয়ার হোসেন জানায়, এতটুকু আসার পিছনে আমার বাবার সমর্থন ছিল খুব বেশি। তবে বাবার উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার আর আমাদের তিন ভাইবোনের বড়াশুনার খরচ চালানো কোনভাবে সম্ভব হচ্ছে না। পড়াশুনার পাশাপাশি আমি টিউশনি করে নিজের এবং বোনদের পড়ালেখার খরচ চালায়। নিজের জমানো কিছু টাকা নিয়ে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষায় অংশ গিতে যায়।

আনোয়ার হোসেনের বাবা প্রতিবন্ধী দিনমজুর আবু তাহের বলেন, পোলা(আনোয়ার) পরীক্ষায় পাশ করার পর থেইকা অনেকে ঘরে আইছে। আমাগো খোঁজ খবর নিতাছে। আপনারা আমার পোলার লাইগা দোয়া কইরেন। যাতে আরো উপরে যাইতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন সময় আনোয়ার হোসেনকে পড়াশুনায় সহযোগিতাকারী পানছড়ির স্থানীয় সাংবাদিক শাহজাহান কবির সাজু বলেন, ‘সে(আনোয়ার) খুব মেধাবি ছাত্র। হাজারো ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা গর্বিত।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের প্রভাষক রাশেদুল হক বলেন, ‘আনোয়ার হোসেনের এমন সাফল্যে আমরা অনেক খুশি। অভাবের মাঝে থেকেও যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায় তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আনোয়ার । তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় বিত্তবানদের হাত বাড়ানো আহ্বান জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply