নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » প্রতিবন্ধীদের ভালোবেসে বিশুর বিশাল কর্মযজ্ঞ

প্রতিবন্ধীদের ভালোবেসে বিশুর বিশাল কর্মযজ্ঞ

Bishu-Cover-01খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ গড়ে তুলেছেন চট্টগ্রামের আরেক প্রতিবন্ধী বিশ্বজিৎ দাশ গুপ্ত বিশু। ‘প্রতিবন্ধী নই, প্রতিযোগী হবো’ শ্লোগান নিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষনসহ প্রতিবন্ধীদের মানবিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কর্মমুখি করে গড়ে তোলার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে সেলাই প্রশিক্ষন, কম্পিউটার প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছেন। স্থাপন করেছেন নরসিংদি থেকে আনা তাঁত। এছাড়া সংগীত শিক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূর্গম এলাকা থেকে শারিরীক প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষন কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা দূর করতে নির্মাণ করা হয়েছে ছাত্রাবাস, খাবার খরচও চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেই।

সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী সোমনাথ ঘোষ উপজেলার বাঘাইছড়িদুঅর এলাকায় বিশুর প্রতিষ্ঠনগুলো পরিদর্শন করেছেন। কর্মযজ্ঞ দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ১৭টি সেলাই মেশিনে প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। সেখানে হুইল চেয়ারে বসে কাজ করছে এসপি চাকমা (১৭)। আরেক শ্রবন প্রতিবন্ধী হাতের কাজ শিখছে। আবার কেউ শিখছে কম্পিউটার। প্রতিবন্ধীদের ধরন অনুযায়ী তাদের কারিগরী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তৈরি পোষাক বিপণনের জন্য পাশেই একটি শো-রুম খোলা হয়েছে। ৮টি কম্পিউটারের মাধ্যমে চলছে কম্পিউটার প্রশিক্ষন, স্থাপন করা হয়েছে ৬টি তাঁত।dighinala-pic-(01),11-03-20

এসপি চাকমা জানায়, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে গাছ থেকে পরে দুটো পা ভেঙ্গে যায়। এর পর থেকে দরিদ্র পরিবারের বোঝা হয়ে ঘরে ছিল। ভেবেছিল সারাজীবন এভাবেই কাটাতে হবে। এরকম একটি সুযোগ জীবনে আসতে পারে তা কখনো কল্পনা করেনি। একই রকম অনুভূতি ছাত্রাবাসে থাকা অপর প্রতিবন্ধী খমিতা ত্রিপুরা, জেকশন চাকমা ও মোঃ শান্ত মিয়াসহ অন্যান্যদের।

জানা যায়, কনসার্ন সার্ভিসেস্ ফর ডিসআ্যাবলেড (সিএসডি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাশ গুপ্ত বিশু। সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি দুই পা হাড়ানোর পর থেকে সিএসডির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রামের নন্দীর হাট এলাকায়। dighinala--pic-(04),-11-03-

পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম এলাকার প্রতিবন্ধীদের মানবিক উন্নয়নের চিন্তা থেকে সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে সিএসডি’র পার্বত্য শাখার ব্যানারে দীঘিনালায় কাজ শুরু করেন বিশু। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে শুরু করে অল্প সময়ে স্থানীয়দের শুধু প্রশংসা কুড়াননি তিনি রীতিমতো হতবাক করেছেন তাঁর উদ্যম ও সহযোগীতা দেখিয়ে। বিশু বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের কর্মজীবি হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে তারা আর সমাজের বুঝা হয়ে থাকবেনা; নিজেরাও মানষীকভাবে স্বস্তিতে থাকবে,’ সে উদ্দেশ্যেই এতকিছু করা। প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিদ্যালয় করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান বিশু।

ছাত্রাবাসের তত্বাবধায়ক অমরকান্তি চাকমা জানান, ছাত্রাবাসে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক কক্ষ করা হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত ১৭ জন শারিরীক প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাসে থাকছে।

দীঘিনালা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কৃপা রঞ্জন চাকমা জানান, বিশ্বজিৎ দাশ গুপ্তের সার্বিক সহযোগিতায় এখানকার প্রতিবন্ধীরা আনন্দের সহিত বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চার জন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থী রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সরকারী, বেসরকারী সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির আরো উন্নয়ন সম্ভব হবে।dighinala--pic-(02),-11-03-

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply